কৃষির অগ্রগতি বনাম খাদ্য নিরাপত্তা

আগের সংবাদ

পাকিস্তানকে ১৭-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

ডিজিটাল অপরাধ ও তার প্রতিকার

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ , ৯:০৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮, ৯:০৭ অপরাহ্ণ

মোস্তাফা জব্বার

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ,  কলাম লেখক, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে বিগডাটা, মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স ইত্যাদির ফলে উদ্ভূত ডিজিটাল অপরাধ এতটাই বিস্তৃত হতে পারে যে, জীবনটা দোজখের আগুনে পোড়ার মতো ভয়াবহ মনে হতে পারে। এরই মাঝে বাংলাদেশের ডিজিটাল জগতের বাসিন্দা এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যিনি কোনো না কোনোভাবে একবারের জন্যও ডিজিটাল অপরাধের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ শিকারে পরিণত হননি। এস্তোনিয়ার মতো দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা বিপন্ন হওয়ার কথা ভুলে গেলে চলবে না।

এক.
বাংলাদেশে এখন বহুল আলোচিত আইনটির নাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। ২০১৫ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটির যাত্রা শুরু হয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ আইনটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। আইনটি পাস হওয়ার আগে এবং পরে এটি নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। আলোচনা এখনো চলছে। কেউ কেউ এটিকে কালো আইন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী আইন, বাকশাল প্রতিষ্ঠার আইন, বাক স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণের আইন, সংবিধানবিরোধী আইন ইত্যাদি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বিদেশিরাও কেউ কেউ আইনটির বিষয়ে নেতিবাচক মতামত দিয়েছেন। সমালোচনার ধরন দেখে বোঝা যায় যে, সব সমালোচনাই বস্তুনিষ্ঠ নয়। অনেকের সমালোচনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে সেটি স্পষ্ট। তবে কোনো কোনো বিষয় নিয়ে আরো আলোচনা হতে পারে এবং সরকার ও মিডিয়ার নেতারা সেই কাজটি করতেও সম্মত হয়েছেন। বস্তুতপক্ষে বাক স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করে ডিজিটাল দুনিয়াতে ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষা ও ডিজিটাল অপরাধ দমন করার কাজটি আইনের আওতায় আনা কঠিনতম একটি চ্যালেঞ্জ। আমি এই আইনের আলোচনায় সেই প্রেক্ষিতটি তুলে ধরবো। তবে আমার নিজের বিবেচনায় অন্য যে কোনো দেশের আইনের চাইতে আমাদের আইনটি অনেক সুসমন্বিত। তবে যদি আরো সমন্বয়ের প্রয়োজন অনুভূত হয় তবে সেটিও বিধিমালা প্রণয়নের সময় সেটি নিশ্চিত করা যেতে পারে।

আমরা যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা পেয়েছিলাম তখনো ব্যাপক আলোচনার মুখোমুখি হয়েছিলাম। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে এটি দুনিয়ার প্রথম আইন- এটা নিয়ে আলোচনা তো হবেই। লাঙ্গলের দেশ থেকে ডিজিটাল দেশে রূপান্তরিত হবো; তার আইনগত অবকাঠামো নিয়ে বিভ্রান্তি তো থাকতেই পারে। আমরা যারা প্রচলিত পদ্ধতির রাষ্ট্রকাঠামো এবং তার আইনগত কাঠামোতে জীবনযাপন করে অভ্যস্ত তাদের জন্য পুরো বিষয়টিই ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। ডিজিটাল অপরাধের প্রকৃত প্রভাব বুঝতেও আমাদের সময় লাগতে পারে।

আমি নিজে গর্ব বোধ করি যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে সারা দুনিয়াকে ডিজিটাল দুনিয়াটিকে নিরাপদ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে একজন সাধারণ মানুষ যে সত্তরে পা দিয়ে ডিজিটাল দুনিয়ার বাসিন্দা তার জন্য অন্য সবার মতো এত সরলভাবে কেবলমাত্র নেতিবাচক মন্তব্য করেই থেমে থাকা সম্ভব না। এখন থেকে পাঁচ বছর আগে আমি ডিজিটাল অপরাধ ও তার প্রতিকার নিয়ে একটি সুদীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছিলাম। ধারাবাহিকভাবে সেটি কাগজে ছাপাও হয়েছিল। পাঁচ বছরে দুনিয়া এমনটাই বদলেছে যে, সেই নিবন্ধটিই আমাকে প্রায় নতুন করে লিখতে হচ্ছে। যদি আমি সামনের পাঁচ বছরের চিন্তা করি তবে আমার এখনকার নিবন্ধটিও আদৌ সেই সময়ের উপযোগী থাকবে কিনা সেটি নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।

ডিজিটাল অপরাধ বা নিরাপত্তা কিংবা তার আইনগত কাঠামো সম্পর্কে আমাকে আমার মতামত দিতে হবে এজন্য যে ডিজিটাল যুগের সূচনা থেকেই আমি বিষয়টি নিয়ে ভেবে আসছি। বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটির সূচনা থেকে শেষ স্তর অবধি এর সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং সর্বশেষ আইনটি সংসদে উত্থাপন ও পাস করার কাজটি আমার হাতেই হয়েছে। ১৯৭২ সাল থেকে সাংবাদিকতায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার যেমন একটি প্রেক্ষিত আমার আছে, তেমনি ১৯৮৭ সালের ২৮ এপ্রিল থেকে কম্পিউটার চর্চা ও ডিজিটাল বাংলাদেশ আন্দোলনে শরিক হওয়ার একটি সুদীর্ঘ ইতিহাসও আমার আছে। অবিভক্ত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক হতে পারা, নিপুণ, আনন্দপত্র, ঢাকার চিঠি ও আনন্দপত্র বাংলা সংবাদের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে পারা এবং এখনো নিয়মিত কলাম লেখার কাজটি করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ, সংকট ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো আমি অবশ্যই জানি ও বুঝি। সাংবাদিক হিসেবে আমি প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন এর আওতায় কলম সচল রাখতে পেরেছি। ৫৭ ধারার প্রথম বিরোধিতাকারীদের মাঝেও ছিলাম। অন্যদিকে আমি দেখছি কী ভয়ঙ্কর ডিজিটাল নিরাপত্তার ঝুঁকিতে আমরা রয়েছি। আমাদের ব্যক্তিজীবন থেকে, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন যে কতোটা ঝুঁকির মাঝে বিরাজ করে তার ধারণাও করা কঠিন। আমি উইকিপিডিয়া থেকে সাইবার আক্রমণের সংজ্ঞাটি তুলে ধরছি। “An assault on system security that derives from an intelligent threat, i.e., an intelligent act that is a deliberate attempt (especially in the sense of a method or technique) to evade security services and violate the security policy of a system.”
tps://en.wikipedia.org/wiki/Cyberattack

সংজ্ঞায় যে সেবা বা সিস্টেমের কথা বলা হয়েছে তা এখন আমাদের জীবনধারা। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে একটি সেবা গ্রহণ বা মোবাইলে টাকা লেনদেন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ বা ছোট শিশুটির ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা রাষ্ট্রীয় তথ্য তার কোনোই ডিজিটাল অপরাধের আওতার বাইরে নয়। এমন অবস্থাটিই বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম বর্ণনা করেছে এভাবে Since the late 1980s cyberattacks have evolved several times to use innovations in information technology as vectors for committing cybercrimes. In recent years, the scale and robustness of cyberattacks has increased rapidly, as observed by the World Economic Forum in its 2018 report: “Offensive cyber capabilities are developing more rapidly than our ability to deal with hostile incidents.”

ডিজিটাল দুনিয়া যে ডিজিটাল অপরাধ দমনে প্রায় অসহায় সেটিই বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মন্তব্যে প্রতীয়মান। তবে বিপদটা এখানেই থেমে থাকছে না। বরং বিদ্যমান অবস্থাটি আগামী ৫ বছরে আরো বহুগুণ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে বিগডাটা, মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স ইত্যাদির ফলে উদ্ভ‚ত ডিজিটাল অপরাধ এতটাই বিস্তৃত হতে পারে যে, জীবনটা দোজখের আগুনে পোড়ার মতো ভয়াবহ মনে হতে পারে। এরই মাঝে বাংলাদেশের ডিজিটাল জগতের বাসিন্দা এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যিনি কোনো না কোনোভাবে একবারের জন্যও ডিজিটাল অপরাধের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ শিকারে পরিণত হননি। এস্তোনিয়ার মতো দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা বিপন্ন হওয়ার কথা ভুলে গেলে চলবে না। ভুলে গেলে চলবে না যে ডিজিটাল অপরাধের কারণে ব্রিটেনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল। ভারতের বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছিল ডিজিটাল অপরাধের জন্য। আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা চুরি হয়েছে ডিজিটাল অপরাধের মাধ্যমে। আমাদের রামু, নাসিরনগর, বগুড়া ও জিগাতলাকেন্দ্রিক অপরাধের কথাও ভুলে থাকলে চলবে না। আমি এখন প্রতিদিন খবর পাই কোনো না কোনো অপরাধী বাংলাদেশের কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণ করে নানা কারণে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত ও সামাজিক আক্রমণের বিষয়গুলো দিনে দিনে বাড়ছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলার একেক দেশ একেকরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে। চীন সব বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে তাদের তথ্যভাণ্ডার চীনেই স্থাপন করতে বাধ্য করেছে। তারা এমনকি ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ অ্যাপকে তার দেশে নিষিদ্ধ করেছে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় তথ্যের নিরাপত্তা, অর্থ ব্যবস্থার নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের নিরাপত্তা ইত্যাদি।

বাংলাদেশ এই ক্ষেত্রে অনেক দেশের চাইতে এক ধাপ সামনে পা বাড়িয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করার মধ্য দিয়ে এই ধরনের অপরাধ দমনের জন্য একটি আইনগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। আইনটি নিয়ে সমালোচনা আছে। বিশেষ করে সাংবাদিকরা আইনটির অনেক ধারা নিয়েই আপত্তি উত্থাপন করেছেন। এই বিষয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর একটি আলোচনা হয়েছে সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী এবং সাংবাদিকদের মাঝে। তবে আইনটি সম্পর্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে যা বলেছেন তার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো উল্লেখ করা যেতে পারে।

তিনি বলেছেন যে, ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করা হয়। এর মাঝে ভালোটা আছে এবং খারাপটাও আছে। খারাপটাকে তিনি ভয়াবহ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দেশের সবার হাতে মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে ফোরজি চালুর কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, ‘আজকে মোবাইল ফোন সবার হাতে, ফোরজি আমরা চালু করেছি। কম্পিউটার ল্যাপটপ, ট্যাব বিভিন্ন স্মার্ট ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের হাতে হাতে আছে। এই যে স্মার্ট ডিভাইসগুলো হাতে আছে এর মাধ্যমে আমরা ভালো জিনিসটা জানতে পারি, তথ্য সংগ্রহ করতে পারি, বিশ^টা হাতের মুঠোয়।’ প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে এরপরই ডিজিটাল দুনিয়ার খারাপ বিষয়গুলোর কথা উল্লেখ করেন। তিনি ছোট্ট শিশুদের ওপর এর প্রভাব ও তাদের আসক্তির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘দেখা যায় দিনের পর দিন, রাতের পর রাত, লেখাপড়া নাই কিছু নাই, এর সঙ্গে তারা এমনভাবে সম্পৃক্ত হয়ে যায়, যা সমাজে ও পরিবারে নানা সমস্যার সৃষ্টি করে। এগুলোর অপব্যবহার হয়, এসব দিয়ে অপপ্রচার করা হয়। এমনভাবে অনেক সময় অপপ্রচার হয়, যা পারিবারিক কোন্দল সৃষ্টি করে বা অনেক সময় নানা অঘটন ঘটে যায়। অনেক সময় আত্মহত্যার পথ অনেকে বেছে নেয়। তিনি তার নিজের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে বলেন যে, শিশু থেকে যুবক বা বয়োবৃদ্ধ পর্যন্ত এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ে। তিনি এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বলে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে, বিশেষ করে শিশুদের জন্য এই ডিজিটাল ডিভাইসের নিরাপত্তা একান্ত দরকার। বিশেষ করে এসব পর্নো জিনিসগুলো যেন তারা না দেখে’। তিনি ডিজিটাল দুনিয়ার অপরাধের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন যে, এখানে নানান ধরনের চরিত্র হনন করা হয়। একজনের সঙ্গে একটা দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হলো, ওমনি চরিত্র হননে মিথ্যা অপপ্রচার শুরু হয়ে গেল। তার মতে সেটা পরিবার, সমাজসহ সর্বক্ষেত্রেই প্রভাব বিস্তার করে। তিনি বলেন, এই কুপ্রভাবের ফলটা সমাজের জন্য ভালো নয়। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে উদ্বেগের সঙ্গে বলেন যে, মিথ্যা অপপ্রচার আমাদের সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়। সেইসঙ্গে রাজনীতির দিকটাও আছে। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সর্বক্ষেত্রেই যদি ডিজিটাল প্রযুক্তির সুস্থ ব্যবহার হয়, সবার জন্য সেটা মঙ্গলজনক। সবার জন্য এটা হচ্ছে প্রগতির পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যা প্রত্যেকটা মানুষের জীবনমান উন্নত করা। ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, সেটা যেরকম সঠিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে- ঠিক আবার ধ্বংসের দিকেও নিয়ে যেতে পারে। এমনকি একটা সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে। কাজেই এই জায়গায় থেকে আমাদের ছোট্ট শিশু থেকে নিয়ে ছাত্রছাত্রী এমনকি যুবসমাজ বা বয়োবৃদ্ধ সবার জন্য একটা নিরাপত্তার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন।

‘আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। তার সুফলটা মানুষ ভোগ করুক আর কুফল থেকে মানুষ দূরে থাকুক। সেটাই আমরা চাই। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ পাস হয়েছে। এখানে শুধু গোষ্ঠীর স্বার্থ দেখলে তো হবে না। এখানে আমি জানি না আর কেউ না হোক আমাদের সাংবাদিকরা এত বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠেছেন, এত বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন কেন? কী কারণে? কাজেই এর কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। আমি মনে করি যেটা আমরা করেছি, দেশের কল্যাণে, জাতির কল্যাণে, শিশুর কল্যাণে’।

প্রধানমন্ত্রী তার চার বছরের শিশু নাতনির গেম খেলার অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে সেদিন খারাপ উপাত্ত থেকে শিশুদের রক্ষার বিষয়ে সবার সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তিনি ডিজিটাল প্রযুক্তির খারাপ বিষয়গুলো থেকে সবাইকে নিরাপদ করার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সমাজকে রক্ষা করতে হবে। সংসারকে বাঁচাতে হবে। প্রত্যেকটা মানুষের চরিত্র রক্ষা করতে হবে। আমাদের ছোট্টশিশুরা যাতে বিপথে না যায়, যুবসমাজ যাতে বিপথে না যায় এমনকি বয়োবৃদ্ধরা যাতে এসবে এডিকটেড না হয় সেটা নিশ্চয়ই ব্যবস্থা করতে হবে। সেদিক বিবেচনা নিয়েই ডিজিটাল নিরাপত্তা বিলটা আমরা পাস করেছি। কাজেই এতে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। বরং যারা এগুলো বলছে, আমি বলব, বহু ঘটনাই ঘটে গেছে। অতীতের বিষয়গুলোই চিন্তা করুক না। এক সময় কেমন ছিল? এখন কেমন? এখনতো সবাই উন্মুক্ত। যে যার মতো লিখে যাচ্ছে। এত উন্নয়ন দেশে, সারা বিশ্ববাসী আজকে চোখে দেখে। বিশ্ববাসী দেখে যে আজকের বাংলাদেশে উন্নয়ন হয়েছে। সারা বিশ্ব সমাদৃত করছে বাংলাদেশকে। বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোলমডেল বলে। আমাদের দেশে এমন পত্রিকা আছে খুললেই মনে হবে বাংলাদেশে কিছুই হয়নি। বাংলাদেশ যেন একেবারেই শেষ হয়ে গেছে। কোথাও একটা কিছু পেলেই যেন সমালোচনা। সমালোচনা করুক গঠনমূলক সমালোচনা হোক, এতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু এমনভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, আর এর অসুস্থতায় যারা ভোগে তাদের ব্যাপারে আমার বলার কিছুই নাই’। (চলবে)

মোস্তাফা জব্বার : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ,  কলাম লেখক, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক।