হাসপাতাল ছাড়লেন সাকিব

আগের সংবাদ

আজ থেকে বাস্তবায়িত হলো আইসিসির নতুন আইন

পরের সংবাদ

কড়াইল বস্তি কেন বারবার পুড়ছে?

কাগজ অনলাইন প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ , ৭:৪৮ অপরাহ্ণ

স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যার সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হলেও বস্তিবাসীর বিকল্প নিরাপদ আবাসনের বড় কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে না। ফলে উচ্ছেদে পথে বসা, অগ্নিকাণ্ডে জানমাল খোয়ানো বস্তিবাসীর যেন নিয়তি হয়েই দাঁড়িয়েছে। বস্তিবাসীর সার্বিক জীবনমানের উন্নয়নে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয়া না হলে তাদের বিপন্নতার স্থায়ী সমাধান
হবে না।

রাজধানীতে আবারো ঘটল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ড। গত শনিবার রাতে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতঘর পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তবে এ আগুনে বস্তিবাসীর কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। কড়াইল বস্তিতে আগুন এবারই প্রথম নয়। গত আড়াই বছরে কড়াইল বস্তিতে এ নিয়ে চারবার আগুন লাগল। এ রকম দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা, শহরের অপরিহার্য অংশ শ্রমজীবী নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। সাধারণত বস্তিঘরগুলো তৈরি হয় তীব্রভাবে দাহ্য টিন-বাঁশ, পলিথিন দিয়ে। একটি ঘরের কোথাও আগুন লাগা মানে নিমেষে লাগোয়া সবকিছু পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া। আর বস্তিবাসী একেবারেই প্রান্তিক আয়ের মানুষের এই মাথাগোঁজার আশ্রয়েই থাকে তাদের সহায়-সম্বল সবকিছু। ৩০টি ঘর পুড়ে গেছে মানে অন্তত ৩০টি পরিবার আশ্রয়হীন ও সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়েছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সামর্থ্য তাদের নেই। এদের জন্য জরুরি আশ্রয় ও ত্রাণের ব্যবস্থা করা সরকার ও সংশ্লিষ্টদের মানবিক দায়িত্ব। আমরা দেখছি রাজধানীর বস্তি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। এসব অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ ও সম্পদহানি হয়। সাধারণত বস্তি এলাকায় রান্নাঘরের চুলার আগুন ও বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের জন্য অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরিকল্পিতভাবে কড়াইল বস্তিতে আগুন দেয়া হচ্ছে। ২০১৭ সালের ১৬ মার্চ সর্বশেষ আগুন লাগে এই বস্তিতে। এর আগে ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যায় প্রায় পাঁচশর বেশি ঘর। একই বছরের ১৪ মার্চ আগুনে পুড়ে বস্তির অর্ধশত ঘর। জানা যায়, বস্তির জমির মূল মালিক বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। তারা আদালতের আদেশ নিয়ে ২০১২ সালে কড়াইলে জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে। প্রথম দিনের অভিযানে ৪০০টি ঘর উচ্ছেদ করা গেলেও দ্বিতীয় দিন হাজার হাজার বস্তিবাসী গুলশান-মহাখালী এলাকার সড়কে নেমে ওই এলাকা কার্যত অচল করে দেয়। পরে আর তাদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। বস্তিবাসীর ধারণা, পরিকল্পিতভাবে বারবার আগুন দেয়া হচ্ছে কড়াইল বস্তিতে।

রাজধানীতে জীবন-জীবিকার সুযোগ যেমন বেশি, তেমনি মানুষের বিড়ম্বনা ও বিপন্নতার অন্ত নেই। প্রান্তিক মানুষের আবাসনের অসহায়ত্ব ও অনিরাপত্তা এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি। স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যার সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হলেও বস্তিবাসীর বিকল্প নিরাপদ আবাসনের বড় কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে না। ফলে উচ্ছেদে পথে বসা, অগ্নিকাণ্ডে জানমাল খোয়ানো বস্তিবাসীর যেন নিয়তি হয়েই দাঁড়িয়েছে। বস্তিবাসীর সার্বিক জীবনমানের উন্নয়নে বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয়া না হলে তাদের বিপন্নতার স্থায়ী সমাধান হবে না।