সিলেটের ‘সাদা পাথর’ পর্যটনে নতুন সম্ভাবনা

আগের সংবাদ

সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশ করার অনুমতি পেল বিএনপি

পরের সংবাদ

এলএনজির পরও কাটছে না গ্যাস সংকট

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮ , ১:৫৯ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৮ , ২:০০ অপরাহ্ণ

রাজধানীতে গ্যাস সংকট নতুন নয়। তীব্র গ্যাস সংকটে নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের এখন নাকাল অবস্থা। গ্যাস সংকট কবে কাটবে- বিভিন্ন সময়ে এমন প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবাই বলেছিলেন, আমদানিকৃত এলএনজি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে রাজধানীতে গ্যাস সংকট কেটে যাবে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু তারপরও গ্যাস সংকট কাটছে না।

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকার বাসিন্দা মতিয়ুর জানান, তার বাসাসহ ওই এলাকায় গ্যাসের সংকট অনেক দিন ধরেই চলছে। দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ কম থাকে। রাতে গ্যাসের চাপ বেশি থাকে। কিন্তু গতকাল রবিবার সকাল থেকে একেবারেই চুলা বন্ধ রয়েছে। একেবারেই গ্যাস পাওয়া যায়নি। তাই বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। নিয়নের মতো তীব্র গ্যাস সংকটের অভিযোগ করেছেন ধানমন্ডি এলাকার গৃহবধূ শান্তা। তিনি জানান, সকাল ৭টা পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যায়। এরপরই গ্যাসের চাপ কমতে থাকে। সকাল ৮টার পর আর গ্যাস থাকে না। তখন ‘গ্যাস স্টাবিলাইজার’ দিয়েও লাইন থেকে গ্যাস টেনে আনা সম্ভব হয় না। দুপুর আড়াইটার দিকে অল্প অল্প গ্যাস আসা শুরু করে। তাতে রান্না হয় না। রাত ৮টার পর চাপ কিছুটা বাড়তে থাকে। তাতে রান্না শেষ করতে রাত ১১টা বেজে যায়। এভাবেই তীব্র গ্যাস সংকট নিয়ে এই এলাকার বাসিন্দাদের জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

নগরীর মগবাজারের মধুবাগ, রামপুরা, মিরপুর, পল্লবী, খিলগাঁও ও মুগদা এলাকার অনেক বাসায়ই প্রায় সারাদিন গ্যাস থাকে না। বিগত শীত মৌসুমে রাজধানীতে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এরপর থেকে গ্যাস দুর্ভোগ এক প্রকার স্থায়ী রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। শীত শেষ হওয়ার পরও সংকট শেষ হয়নি। অনেক এলাকায় এখনো ১৩/১৪ ঘণ্টাই গ্যাস সরবরাহ থাকছে না। গ্যাস সংকটের ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা আশার বাণী শুনিয়ে বলেছিলেন, গ্যাস সংকট দূর করতে এলএনজি গ্যাস (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে সংকট আর থাকবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, গত মাসে এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পরও গ্যাস সংকট দূর হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে প্রতিদিন ২৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়। এখন চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের গ্যাস সংকট কিছুটা কেটেছে। জাতীয় গ্রিডে এলএনজির সরবরাহ বাড়ানো হলে তবেই রাজধানীবাসীর গ্যাসের সংকট কেটে যাবে।

তিতাস গ্যাসের পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী আলী আশরাফ জানান, বর্তমানে রাজধানীতে ১৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। অনেক সময় বিদ্যুতের অভাবে পর্যাপ্ত গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। যে পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যায় তার সবটাই সরবরাহ করা হয়। জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লে এই সংকট আর থাকবে না।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন কমপক্ষে সাড়ে তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদার বিপরীতে পেট্রোবাংলা দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করতে পারে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ার কারণেই সংকট কাটানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে এলএনজি পুরো মাত্রায় জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে আর সংকট থাকবে না। সেপ্টেম্বরে ২৭৬, অক্টোবরে ৪৩৯, নভেম্বরে ৪২৫ ও ডিসেম্বরে ৪৩৯ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানির পর জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ৪৩৯, ফেব্রæয়ারিতে ৩৯৬, মার্চে ৪৩৯, এপ্রিলে ৪২৫, মে মাসে ৪৩৯ এবং জুন মাসে গড়ে প্রতিদিন ৪২৫ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। জাহাজ থেকে এলএনজি গ্যাস খালাস করার জন্য এক্সিলরেট এনার্জির যে টার্মিনাল রয়েছে তার সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই টার্মিনালের ধারণক্ষমতাও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়