মুশফিকের ১ রানের আক্ষেপ

আগের সংবাদ

আবার মুস্তাফিজের আঘাত, বিপদে পাকিস্তান

পরের সংবাদ

ড. কামালকে নেতা মানলেন বিএনপির মিণ্টু-জয়নুল

কাগজ অনলাইন প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮ , ১০:০১ অপরাহ্ণ

আলোচিত ‘জাতীয় ঐক্যের’ নেতা কে হবেন? এই প্রশ্নের মধ্যে রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপির দুই জন প্রতিনিধি গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেনকে জনগণের ‘ত্রাতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাকে নেতা হিসেবে মানার।

যাদের সঙ্গে জোটের আলোচনা তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে বেশি জনসম্পৃক্ত দল বিএনপি। কিন্তু তাদের দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত এবং অবস্থান করছেন বিদেশে।

এই অবস্থায় গণফোরাম ও যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে যে ঐক্যের আলোচনা, তাতে নেতা কে, সেই প্রশ্ন বড় হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগে পেশাজীবীদেরকে নিয়ে এক আলোচনায় বিএনপির প্রতিনিধি আবদুল আউয়াল মিণ্টু ও জয়নুল আবেদীন প্রশংসায় ভাসিয়েছেন কামাল হোসেনকে।

বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে হয় এই আলোচনা। বিষয়বস্তু ‘নির্বাচনকাল দলনিরপেক্ষ সরকারের অপরিহার্যতা’। আয়োজক কামাল হোসেনের ‘জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া’।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিণ্টু শুরুতেই কামাল হোসেনের প্রশংসায় মাতেন। বলেন, ‘জাতির এ ক্রান্তিকালে ড. কামাল হোসেন হাল ধরেছেন। তার জন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি সত্যিকার অর্থে জাতির জন্য অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করছেন।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘ভবিষ্যতে এমন ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, যেন এটা শুধু নির্বাচনের জন্য ঐক্য না হয়। দেশে এখন গণতন্ত্রের নামে স্বেচ্ছাচারীতা চলছে। এখান থেকে বেরিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমাদের সবাইকে অনেক কাজ করতে হবে।’

‘ভালো নির্বাচন হলো। তারপরও শাসন ব্যবস্থা নিয়ে এখনই চিন্তা করা উচিত। এই বিষয়গুলি ঠিক না হলে সমাজ ঠিক হবে না। নির্বাচনের পর দেশ কীভাবে চলবে, শাসন ব্যবস্থা কীভাবে চলবে। সেগুলো এখন থেকে চিন্তা করতে হবে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানের সব জায়গায় শ্রেষ্ঠত্বের দাবি রাখে ড. কামাল হোসেন। সেই তিনি আজ জাতীয় ঐক্যের হাল ধরেছেন। সরকার প্রধানের বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে তিনি ভয় পেয়েছেন। যে কারণে তিনি বলছেন এই ঐক্য গুটি কয়েক দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির ঐক্য।’

কামাল হোসেনকে বিএনপি নেতা বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য নিয়ে এগিয়ে যান। আমরা এর সাথে আছি। খুব সহসা আইনজীবীদের একটি বড় সমাবেশ হবে। আপনি (ড. কামাল) সেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন। সংবিধান কীভাবে এমেন্টমেন্ট (সংশোধন) করতে হয়, সেটা সেখানেই দেখিয়ে দেয়া হবে।’

পরে কামাল হোসেন বলেন, ‘আজ যারা ঐক্য চায় না, অনৈক্য চায়, তারা সংঘবদ্ধ। জনগণের বৃহত্তর ঐক্য হলে পায়ের ধুলা নেয়া কালো টাকার প্রভাব চিরতরে শেষ হবে। দেশে জবাবদিহিতার সরকার গঠন হবে। দেশকে রক্ষায় দেশের সব মানুষকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

শুধু ঐক্য ঐক্য বলো শ্লোগান না দিয়ে জনগণের কাছে যাওয়ারও আহ্বান জানান প্রবীণ এই রাজনীতিক।

বর্তমান শাসনে জনগণ অতিষ্ঠ দাবি করে গণফোরাম নেতা বলেন, এর থেকে জনগণ পরিবর্তন চায়। আর জনগণের আকাঙ্খা পুরণ করতে একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দরকার।

‘জনগণকে ভোট দেয়ার সুযোগ দিতে হবে। এর মধ্যে দিয়ে আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দরকার, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন দরকার।’

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের শর্ত পূরণ করলেও তা মানছেন না কামাল হেগাসেন। বলেন, ‘উন্নয়নশীল হলে তো বস্তিবাসীর জন্য আবাসন দেখছি না, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি দেখছি না।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে কথা বলে এক রকম, ক্ষমতায় না থাকলে কথা বলে অন্য রকম। তারা দুই রূপ ধারণ করে।’

‘আজ মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা নেই। রাষ্ট্র পরিচালনার গুণগত কোনো পরিবর্তন নেই। আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্বের সরকার গঠন করে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন করা হবে।’

বিএনপিপন্থি বুদ্ধিজীবী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট্রি জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, ‘আপনি (শেখ হাসিনা) ঠিকই বুঝেছেন ক্ষমতা থেকে গেলে কপালে দুঃখ আছে। আপনাকে একমাত্র ড. কামাল হোসেন, বদরুদ্দোজা চৌধুরীরাই বাঁচাতে পারে। তাদের পথে হাঁটলে একটা লোকও মারা যাবে না।’

অনুষ্ঠানে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের উপদেষ্টা মঈনুল হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে, আবার জনগণকে ভোটারহীন করে দেশ চালাবে, এটা কী কথা? এ জন্য আমি ক্ষেপে যাই।’

‘একটা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন করলে লাখ লাখ লোক মারা যাবে না। ড. কামাল হোসেনের বয়স হয়েছে, তার পরও আমরা শান্তি চাই, একটি শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন চাই।’

‘আগামীতে কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাচন হবে। যারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় আছে, তাদের অধীনে কি সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে?’