১৬২ রানেই গুটিয়ে গেল পাকিস্তান

আগের সংবাদ

ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

পরের সংবাদ

গ্রেনেড হামলার তদন্তে সহযোগিতা করেনি আ.লীগ: ফখরুল

প্রকাশিত হয়েছে: September 19, 2018 , 9:44 pm | আপডেট: September 19, 2018, 9:44 pm

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দলটি তদন্তে সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার অভিযোগ, এখন বিএনপিকে দমন করতে এই মামলাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বহুল আলোচিত এই মামলায় রায়ের তারিখ ঘোষণার পরদিন বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বিএনপি নেতা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বহুদলীয় মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিএনপির জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে সে সময়ের বিরোধীদলীয় নেতদা শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টায় এই হামলার পর বিএনপি অপরাধীদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ আছে। হামলাকারীদেরকে বাঁচিয়ে জজ মিয়া নামে নিরীহ একজনকে ফাঁসানোর অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে।

আবার হামলার পর আলামত নষ্ট করা, বিচারিক তদন্তের নামে আজগুবি তথ্য প্রচার হয়েছিল সে সময়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অধিকতর তদন্তে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু, তার ভাই তাজউদ্দিন, জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ২২ জনের বিচার শুরু হয়।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আবার তদন্ত করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাম মুজাহিদসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয় যাদের প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আগামী ১০ অক্টোবর এই মামলার রায় ঘোষণা হবে।

আওয়ামী লীগ বরাবর এই হামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করে থাকে।

বিএনপি মহাসচিব অবশ্য তাদের সরকারের আমলে তদন্তের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অসহযেগিতার অভিযোগ তুলেন। বলেন, ‘অতীতে আওয়ামী লীগ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তে সহ‌যো‌গিতা করেনি। এখন বিএনপি‌কে দমন করতে এ মামলাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

নির্বাচনে তো যেতেই চাই

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপির আগামী নির্বাচন নিয়ে অবস্থানের কথাও জানান ফখরুল। বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করেন, আমরা নির্বাচনে যাব কিনা? সংবিধান অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর নির্বাচনের কথা বলা আছে। সেই নির্বাচন তো সরকার শেষ করে দিয়েছেন। সব দলের সমান অংশগ্রহণ নেই, ওরা (আওয়ামী লীগ) ছাড়া আর কেউ নেই। আমরা অবশ্যই নির্বাচনে যেতে চাই। কিন্তু কোন নির্বাচন? যে নির্বাচনে লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড (সমান সুযোগ) তৈরি হবে, এমন নির্বাচনে।’

সরকারের বিচার হবে

‘অন্যায়ের’ জন্য সরকারের বিচারেরও ঘোষণা দেন ফখরুল। বলেন, ‘এই সরকার বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে, এ জন্যই সরকারের বিচার হবে।’

‘সরকার পার্লামেন্টকে ধ্বংস করেছে, ১৫৪ জন অনির্বাচিত সংসদ সদস্য দিয়ে, বিচার বিভাগ-প্রশাসনকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। গণমাধ্যমকে জবরদস্তি করে দখল করে রেখেছে। সরকারের মতো করে, সরকারের হুকুমে চলে এমন একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে রেখেছে। এসব কারণে সরকারের বিচার হবে।’

জনগণ সরকারের ‘অন্যায়ের’ বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে দাবি করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই দেশের জনগণ কখনোই অন্যায়কে সহ্য করে না। ৭১ সালেও তারা অন্যায় সহ্য করেনি। জনগণ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেই।’

‘জোর করে, মামলা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। যখন জনগণ থেকে কোনও সরকার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন অত্যাচার-নির্যাতনের পথ বেছে নেয়। ফেরাউন, নমরুদ, হিটলার, মুসোলিনি, এরশাদ ও আপনাদের অন্যায়-অত্যাচার আমরা দেখেছি। এভাবে জোর করে ক্ষমতা ধরে রাখা যায় না।’

খালেদা জিয়াকে মুক্ত হয়ে জনগণকে আহ্বান করলে জনগণ এই সরকারকে ধূলার মতো উড়িয়ে দেবে বলেও দাবি করেন ফখরুল। বলেন, ‘এ কারণেই সরকার খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছে সরকার। তার চিকিৎসা দিচ্ছে না।’

আবারও জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনাদের দেশকে আপনাদের রক্ষা করতে হবে। এই মানুষদের আপনাদের রক্ষা করতে হবে, অন্য কেউ উড়ে এসে আপনাদের রক্ষা করবে না। তাই ঐক্যের কোনও বিকল্প নেই। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে এই দানব সরকারকে সরিয়ে দিয়ে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

সেপ্টেম্বরে সাড়ে চার হাজার মামলা

চলতি মাসে এখন পর্যন্ত বিএনপির বিরুদ্ধে সাড়ে চার হাজার মামলা দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। এসব মামলায় দুই লাখ ৩৩ হাজার নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে বলেও দাবি তার।

সরকার ভয়ে ভীত, সন্ত্রস্ত্র হয়ে এসব মামলা দিচ্ছে দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘সামনে নির্বাচন, এই নির্বাচনে যদি ২০ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, তাহলে সরকারের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। এ কারণে সরকার চায়, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমী।