শ্রীনগরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ইট বালুর ব্যবসা

আগের সংবাদ

পুরোদমে অনুশীলন শুরু করেছে টাইগাররা

পরের সংবাদ

অবহেলায় ধামইরহাটের জগদল মহাবিহার

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ , ১:২০ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮, ১:২০ অপরাহ্ণ

অবহেলায় পড়ে রয়েছে ধামইরহাটের জগদল মহাবিহার। ঐতিহাসিক দিক থেকে নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার জগদল বিহার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাচীন নিদর্শন। রামচরিতমের উদ্ধৃতি অনুযায়ী জগদল মহাবিহার বরেন্দ্রে অবস্থিত। পালযুগে দ্বাদশ শতকে পাল সম্রাট রামপাল নির্মাণ করেন। মূলত জগদল বিহার ছিল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বৌদ্ধ ধর্মের গ্রন্থগুলো এখানে অনুবাদ করা হতো। জগদল বিহারের অবস্থান নিয়ে এতদিনেও ইতিহাসবিদদের মধ্যে ছিল বিতর্ক। অবশেষে তার সমাধান হতে চলেছে।
জগদল নামটি প্রাচীন সুপ্রসিদ্ধ বহুদ্ধ মহাবিহারের সঙ্গে যুক্ত। রামচরিতমে উল্লিখিত জগদল মহাবিহার বর্তমানে জগদল ডিবি নামে পরিচিত। ধ্বংসবিশেষে লুকায়িত রয়েছে।
প্রতœতাত্তি¡ক খনন করতে গিয়ে একের পর এক বের হয়ে আসছে মূল্যবান সব নিদর্শন। শত শত বছর ধরে বরেন্দ্র সভ্যতার এই নিদর্শন চাপা পড়েছিল মাটির নিচে। মাঝেমধ্যে সামান্য কিছু খনন হলেও তা থেমে গেছে মাঝপথে। জগদল ডিবিটি জগদল গ্রামে অবস্থিত। নওগাঁ শহর থেকে ৬৫ কি. মি. উত্তরে সীমান্তের কাছাকাছি।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক বদরুল আলমের সার্বিক দায়িত্বে ৬ সদস্যের একটি প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ দল প্রশিক্ষিত শ্রমিক নিয়ে খননকাজ চালায়।
ফিল্ডের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের সাবেক কাস্টডিয়ান মাহবুব আলম। তাকে সহযোগিতা করছেন রংপুর জাদুঘরের কাস্টডিয়ান মজিবুর রহমান, মহাস্থান জাদুঘরের সহকারী কাস্টডিয়ান রাজিয়া সুলতানা, আঞ্চলিক অফিসের সিনিয়র ড্রাফসম্যান সিনিয়র আফজাল হোসেন ও আলোকচিত্রী আবুল কালাম আজাদ।
জগদল বিহারের পশ্চিম বাহুর মধ্যস্থলের খননকাজ শেষ হয়েছে। এখানে বের হয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মূল মন্দির ও সম্মুখভাগ বিশালাকার হল ঘরের অংশ। ৪টি বৌদ্ধ ভিক্ষুকের অংশ। এই তিন দিক থেকে প্রশস্ত প্রদক্ষিণ পথ রয়েছে। ওই প্রদক্ষিণ পথ হলঘরের সঙ্গে মিশেছে।
মন্দিরের প্রবেশপথ তিনটি বিশালাকার পাথর খন্ড দিয়ে তৈরি। তিনটি ধাপ পেরিয়ে মন্দির গৃহে প্রবেশ করা যায়। প্রবেশ পথটিতে বিশাল আকার কালো পাথরের চৌকাঠ ব্যবহৃত হয়েছিল। খননে যা পতিত অবস্থায় উন্মোচিত হয়েছে কালো পাথরের চৌকাঠগুলো মূর্তি ও অন্যান্য অলঙ্করণে সুশোভিত। গর্বগৃহে একটি নালাও আবিষ্কৃত হয়েছে।
ধারণা করা হয় কংক্রিটের মেঝের সমউচ্চতার নালাটি দিয়ে মূর্তির পাদদেশে পবিত্র পানি দক্ষিণ দিকের বিহারের বাইরে চলে যেত।
প্রদক্ষিণ পাথরের বাইরের দিকে দেয়ালের মধ্যে অনুপ্রবিষ্ট প্রদক্ষিণ পথের মাঝ থেকে উঁচু মন্দিরের তিন বাহুর মধ্যস্থল বরাবর তিনটি ক্ষুদ্রাকার প্রজেকশনযুক্ত বেদির মতো রয়েছে। মন্দিরের দেয়ালের সঙ্গে চারটি বেদি যার ওপর স্তম্ভ খাড়া করা থাকতো।
এ ছাড়াও মোট ৬টির মতো বেদি আবিষ্কৃত হয়েছে। ২০ ফুট উঁচু পিলার কালো পাথরের বৌদ্ধ মূর্তিসহ স্তূপ ও চূড়ার নকশাযুক্ত লিনটেন রয়েছে। লিনটেনটির এক সারিতে ৯টি বৌদ্ধ ও অন্যান্য মূর্তি খচিত রয়েছে।
মূর্তিগুলোর মধ্যে ৫টি বৈরোচন, অক্ষোভ, রত্নসম্ভা ও অমোক সন্ধি ধানি, বুদ্ধ মূর্তি শনাক্ত করা হয়। এ ছাড়া লিনটেনের মধ্যস্থলে অপেক্ষাকৃত বড় মূর্তিটি পদ্মাসনে উপবিষ্ট রয়েছে।
খননকালে আবিষ্কৃত ৩৪ কক্ষের মধ্যে ২৮টি ভিক্ষু কক্ষ রয়েছে। স্থাপিত কাঠামোসমূহ পাথরের মূর্তি অলঙ্কৃত ইট, পোড়ামাটির ফলক নির্ণয় পাত্রের টুকরাসহ বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া যায়।
দায়িত্বপ্রাপ্ত মাহবুব আলম বলেন, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যতগুলো নিদর্শন পাওয়া গেছে তার মধ্যে জগদল বিহারেই সর্বাধিক কালো গ্রানাইট পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। ২০-৩০ একর জুড়ে জগদল বিহারে খননকাজের মহাপরিকল্পনা নিলে বের হয়ে আসবে প্রাচীন উন্নতম নিদর্শন। ভারতে ইতোমধ্যে জগদল নামের কয়েকটি স্থান খনন করে জগদল বিহার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এখানে খননকালে আবিষ্কৃত নিদর্শনগুলো দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এটিই সে আলোচিত জগদল বৌদ্ধ মহাবিহার।