ক্রিকেটারদের নৈতিকতা ও বিসিবির করণীয়

আগের সংবাদ

সাব্বিরের বিপক্ষে বিসিবির শাস্তি অনুমোদন

পরের সংবাদ

বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভুটান

শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ , ১:৪৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮, ১:৪৩ অপরাহ্ণ

আজ থেকে শুরু হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ফুটবলীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই হিসেবে খ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্টটির সর্বশেষ তিন আসরে গ্রæপপর্ব থেকে বাদ পড়লেও এবার শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলছে বাংলাদেশ। কোচ জেমি ডের অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ফুটবল দলের যে পারফরমেন্স তাতে নিজ দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তাছাড়া ঘরের মাটিতে অনুষ্ঠিত সাফের আগের আসরগুলোতেও ভালো খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জিতে আলফাজ-মতিউর মুন্নারা। এ ছাড়া ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ। ওই আসরের সেমিফাইনালে খেলেছে এদেশের ফুটবলাররা।
মতিঝিলস্থ বাফুফে ভবনের কনফারেন্স রুমে গতকাল ২০১৮ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাহউদ্দিন। সাফ সুজুকি কাপ ২০১৮-এর ‘লোগো’ উন্মেচন করেন তিনি। এ ছাড়াও লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, আননটেক্স গ্রæপের ডিরেক্টর মো. আনোয়ারুল ইসলাম ফেরদৌস, আননটেক্স গ্রæপের অ্যাডভাইজর শ্যামল দত্ত, অ্যাডটাচ্ কোম্পানির সিইও এস এম নেওয়াজ সোহাগ ও বাফুফের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাইম সোহাগ।
সার্ক গোল্ডকাপ নামে দক্ষিণ এশিয়ার এই ফুটবল টুর্নামেন্ট যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৯৩ সালে পাকিস্তানের লাহোর থেকে। ওই বছর চারটি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল টুর্নামেন্টটি। বাংলাদেশ খেলেনি সার্ক গোল্ডকাপের প্রথম আসরে। দুই বছর পর একই নামে টুর্নামেন্টটির দ্বিতীয় আসর বসে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয়। ওই আসরে অংশ নিয়ে সেমিফাইনাল পর্যন্ত উঠেছিল বাংলাদেশ। তবে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শক্তিশালী ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
দুই আসর পর নাম বদলে সার্ক গোল্ডকাপ হয়ে যায় সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) চ্যাম্পিয়নশিপ। যেটার প্রথম আসর বসেছিল নেপালে। ওই আসরে বাংলাদেশ বিদায় নিয়েছিল গ্রæপপর্ব থেকেই। ১৯৯৯ সালে ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত আসরে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। তবে ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যায় তারা। ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই আসরের ফাইনালে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় কোচ জর্জ কোটানের শিষ্যরা।
এবারের আসরের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বাফুফে সভাপতি। লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়া উচিত। আমরা এমন আশা করতেই পারি। এসময় ফুটবলারদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস জানিয়ে তিনি জানান, জাতীয় দলের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছুই আমরা করেছি। ফুটবলারদের দেশের পাশাপাশি বিদেশেও অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। এখন তাদের মাঠে পারফর্ম করার পালা। তবে দলের পারফরমেন্স যেমনই হোক, সবাইকে খেলোয়াড়দের পাশে থাকার আহŸান জানিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, ঘরের মাঠে জাতীয় দলের খেলা। তাই সবার উচিত দলকে সাপোর্ট করা। ভালো-খারাপ যে ফলই হোক না কেন, আমাদের তা মেনে নিতে হবে।
টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ সন্ধ্যা ৭টায় ভুটানের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত সাফে মোট ৫ বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-ভুটান। যেখানে বাংলাদেশের জয় রয়েছে ৪টি এবং বাকি ম্যাচটি ড্র হয়েছে। কিন্তু দুদলের শেষ দুই দেখায় শেষ হাসি ভুটানের। ২০১৬ সালের অক্টোবরে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে ওঠার প্লে-অফ ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরেছিল মামুনুলরা।
বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে অবশ্য অতীত নিয়ে ভাবতে নারাজ। ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে তার দল নির্ভার হয়েই খেলবে বলে বিশ^াস বাংলাদেশ কোচের। এসময় প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে গ্রæপপর্ব পেরুনোর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার প্রথম লক্ষ্য গ্রæপপর্ব পার হওয়া। এর বাইরে আপাতত কিছু ভাবছি না। আমার ওপর কোনো চাপ নেই। খেলোয়াড়দের ওপরও চাপ নেই। এসময় কয়েকদিন আগে নীলফামারীতে অনুষ্ঠিত হওয়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, এটি কেবলমাত্র একটি প্রস্তুতি ম্যাচ। হার ছাড়াও সেখানে অনেক ইতিবাচক বিষয় ছিল। আমরা ওই ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়েছিলাম এবং অনেক সুযোগও তৈরি করেছিলাম; কিন্তু গোল করতে পারিনি। এ ছাড়া ভুটানের বিপক্ষে আজকের ম্যাচটি নিয়ে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় নাসিরউদ্দিন বলেছেন, আমাদের গোল করতে হবে, তিন পয়েন্ট পেতে হবে এবং এটাই আমাদের লক্ষ্য।
এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রতিটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। এই টুর্নামেন্ট দিয়েই টেলিভিশন সম্প্রচার যাত্রা শুরু হবে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ এর।