হুমকিতে বাড়িছাড়া সংখ্যালঘু পরিবার

আগের সংবাদ

শাহজালালে নিষিদ্ধ বিদেশি ওষুধ জব্দ

পরের সংবাদ

বিক্রেতার কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি

তালায় অসময়ে ধান বীজের চারায় শীষ

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ , ১:১১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮, ১:১১ অপরাহ্ণ

Avatar

তালায় চলতি আমন মৌসুমে নিম্নমানের লাল স্বর্ণার ধান বীজে ধরা খেয়েছেন তৃণমূল কৃষকরা। বীজতলা থেকে চারা রোপণের ১৫-২০ দিনে শীষ গজানোয় (ফুলে যাওয়ায়) মাথায় হাত উঠেছে কৃষকদের। স্থানীয় তালার শাহপুর বাজার থেকে লাল স্বর্ণা ধানের বীজ কিনে আবাদ করে মৌসুমি ফসলের লোকসানে বিক্রেতার কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তারা। অধিক মুনাফা লাভের আশায় বীজ বিক্রেতা মৃত বিলায়েত আলী মহলদারের ছেলে হায়দার আলী মহলদার বীজ ডিলার সেজে নিজের চাষ করা নিম্নমানের বীজ স্বর্ণা বলে বিক্রি করছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, তালা উপজেলার ভায়ড়া, আগোলঝাড়া ও শাহপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষকরা আমন আবাদ করতে স্থানীয় শাহপুর বাজার থেকে লাল স্বর্ণা ধান বীজ কিনে বীজতলা করেন। এরপর রোপণ উপযোগী হলে বীজতলা থেকে চারা রোপণের মাত্র ১৫-২০ দিনের মধ্যে ধান গাছে শীষ (ফুলে যাওয়ায়) গজানোয় উৎপাদন নিয়ে রীতিমতো সংকটে পড়েন তারা। তাদের আশঙ্কা অল্প দিনে ফুলে যাওয়ায় কোনোভাবেই কাক্সিক্ষত উৎপাদন সম্ভব নয়। এ অবস্থায় কিছু কিছু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তড়িঘড়ি করে শীষ গজানো ধান তুলে নতুন করে অন্য বীজের ধান রোপণ করছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলার ভায়ড়া এলাকার বীজ বিক্রেতা হায়দার আলী মহলদার বলেন, এটা গ্রামভিত্তিক বীজ। তার জানামতে, বীজটির ফলন ভালো বলে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছেন। তিনি নিজেও লাল স্বর্ণা আবাদ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ‘স্বর্ণা’ ভারতীয় উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের আমন ধান। স্বর্ণা ধান চাষে সাধারণত ২০-২২ মণ প্রতি বিঘায় ফলন হয়। গ্রামভিত্তিক বীজ হলে লাল স্বর্ণা নাম কেন? এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। এ ছাড়া হায়দার আলীর বীজ বিক্রির লাইসেন্স দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। কিভাবে তিনি বীজের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কেউ এমন ধরনের নি¤œমানের বীজ বিক্রি করেছেন তা তার জানা নেই। যদি এমনটি কেউ করে থাকে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে তালা উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত শাহপুর এলাকার আজিজ গোলদার, মুজিবর রহমান, মোহাম্মদ শেখ, আ. মান্নান জানান, তারা প্রায় ১৫ একর জমিতে লাল স্বর্ণা বীজ কিনে ধানের বীজতলা তৈরি করেছিলেন। সবার ক্ষেতের একই অবস্থা। তারা বীজ বিক্রেতাদের কাছে এর ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।