উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছেন ২০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান

আগের সংবাদ

ডুবে আছে হাসপাতাল, পুলিশ ফাঁড়ি

পরের সংবাদ

বিশ্বের জন্য উত্তর কোরিয়া পরমাণু হুমকি নয়: ট্রাম্প

প্রকাশিত হয়েছে: জুন ১৩, ২০১৮ , ৯:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুন ১৩, ২০১৮, ১১:০১ অপরাহ্ণ

Avatar

মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের সানতোসা দ্বীপে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে একথা বলেন তিনি।

বুধবার এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, “আমি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম সেই তুলনায় এখন সবাই অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করতে পারেন।

“উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র হামলার হুমকি আর নেই। কিম জং-উনের সঙ্গে বৈঠক চমৎকার এবং খুবই ইতিবাচক অভিজ্ঞতা। উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল।”

সিঙ্গাপুরের বৈঠকে কিম কোরীয় উপদ্বীপ সম্পূর্ণরূপে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করতে রাজি হয়েছেন। বিনিময়ে ট্রাম্প ওই অঞ্চলে তাদের মিত্র দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

উত্তর কোরিয়া সবসময়ই ওই মহড়াকে ‘যুদ্ধের উস্কানি’ বলে বিবেচনা করে।

ট্রাম্প বলেন, “প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার আগে লোকজনের ধারণা ছিল আমরা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বাধাব। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়া আমাদের সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক সমস্যা। কিন্তু এখন আর তা নেই।”

ট্রাম্পই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোনো প্রেসিডেন্ট যিনি উত্তর কোরিয়ার কোনো শীর্ষ নেতার সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করলেন।

কিমের সঙ্গে বৈঠকের পর ওইদিনই এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি উত্তর কোরিয়ার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। যদিও খুব শিগগিরই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে ( কেসিএনএ  ) বৈঠকের খবর ফলাও করে প্রচার করা হয়।

এ বৈঠকে উত্তর কোরিয়া সফল হয়েছে দাবি করে কেসিএনএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়া বন্ধ রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সম্পর্কের আরও উন্নতি হলে উত্তরের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথাও বলেছিন তিনি।

উভয় নেতা পরস্পরকে নিজ নিজ দেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং দুজনই তা ‘আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন’ বলেও কেসিএনএ’র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনার সময় কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক মহড়া বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

এ বিষয়ে বুধবার টুইটারে তিনি লেখেন, “উভয় পক্ষের সৌভাগ্যের জন্য আমাদের আলোচনা যতদিন চলবে, ততদিন সামরিক মহড়া বন্ধ রেখে আমরা ব্যয় কমাতে চাই।”

যদিও সামরিক মহড়া বন্ধ রাখার যে কারণ ট্রাম্প বলেছেন তা ‘জঘন্য’ বলে মন্তব্য করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।

তিনি বলেন, “দক্ষিণ কোরিয়ায় সেনা পাঠাতে যে খরচ হয় তা আমেরিকার করদাতাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায় না। কারণ, এর মাধ্যমে স্থিতিশীলতা আসে। এটি চীনের জন্য সতর্ক বার্তাও বটে। এর মাধ্যমে আমরা চীনকে বলতে পারি, ওই অঞ্চলের পুরোটা তোমাদের নয়।”

“তাই খুব ব্যয়বহুল বলে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে আমি তা প্রত্যাখ্যান করছি। তবে যে পরিকল্পনা হয়েছে আমি তার পক্ষে। এ অবস্থায় সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা এবং এরচেয়ে ভালো উপায় খুঁজে পাওয়া যায় কিনা তা দেখা উচিত।”