নির্ধারিত কক্ষপথে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

আগের সংবাদ

ইসির অর্জন ভূলুণ্ঠিত খুলনায়: সুজন

পরের সংবাদ

সুুন্দরবনের ছয় দস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণ কাল

প্রকাশিত হয়েছে: মে ২২, ২০১৮ , ৮:১৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ২২, ২০১৮, ৮:১৮ অপরাহ্ণ

Avatar

তারা বছরের পর বছর সুন্দরবনের ভেতরে দস্যুতা করেছেন। জেলে ও বনজীবীদের মালামাল লুট আর অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায় ছিল তাদের কাজ। অন্ধকারের সেই পথ ছেড়ে এবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছেন সুন্দরবন আর সাগরের সেই ভয়ংকর আতঙ্করা। কাল বুধবার আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন বন ও জলদস্যু বাহিনীর অর্ধশতাধিক সদস্য।

সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে সুন্দরবনের ছয় জলদস্যু বাহিনী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের কাছে তাদের সব গোলাবারুদ জমা দেবেন। এ সময় র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ উপস্থিত থাকবেন।

র‌্যাব-৬-এর উদ্যোগে খুলনার লবণচরার কার্যালয়ে আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠানটি বুধবার বেলা ১১টার শুরু হবে। সেখানে র‌্যাব-৬-এর মাধ্যমে তিন দস্যু বাহিনী ও র‌্যাব-৮-এর মাধ্যমে আরো তিন বাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পণ করার কথা।

সুন্দরবন খুলনা অঞ্চলের ভয়ংকর দাদা ভাই ওরফে রাজন বাহিনী, আমীর আলী বাহিনী, হান্নান বাহিনী এবং বরিশালের মুন্না বাহিনী, ছোট শামছু বাহিনী ও সূর্য বাহিনী- এই ছয় বাহিনীতে ৫০ থেকে ৫৪ জন সদস্য রয়েছে বলে র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে। তাদের কাছে দেশি-বিদেশি অর্ধশতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, খুলনা অঞ্চলের তিন দস্যু বাহিনী সুন্দরবনের শ্যামনগর, আড়পাঙ্গাসিয়া, মংলা, আন্ধার মানিক, হারবাড়িয়া, কলাগাছি এলাকায় জেলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় করত। বনের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ রীতিমতো তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল। তাদের মাসোহারা দিয়ে জেলে-মৌয়ালদের বনে প্রবেশ করতে হতো। এমনকি বনরক্ষীরাও তাদের থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলেন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাবের বেশ কয়েকটি সফল অভিযানের পর দস্যুদের দৌরাত্ম্য কমতে থাকে। একই সঙ্গে সরকারের সাধারণ ক্ষমার আওতায় দস্যুরা আত্মসমর্পণের পথ খুঁজতে শুরু করে।

র‌্যাব-৬-এর মাধ্যমে এই বনদস্যুদের আত্মসমর্পণে মধ্যস্থতায় ছিলেন খুলনার ‘সময়ের খবর’ পত্রিকা ও ঢাকাটাইমসের খুলনার রিপোর্টার সোহাগ দেওয়ান এবং নিউজ টোয়েন্টিফোর টিভি চ্যানেলের ‘টিম আন্ডার কাভার’। তাদের মধ্যস্থতায় র‌্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে দস্যুদের মুঠোফোনে কয়েক দফা আলাপ হয়। দুই পক্ষের আলোচনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন বনদস্যু বাহিনীর সদস্যরা।

র‌্যাব সূত্র জানায়, ইতিপূর্বে ২১৭ জন জলদস্যু সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। বুধবার বেলা ১১টায় খুলনা র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে তাদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হবে। এ উপলক্ষে র‌্যাব কার্যালয়ে সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

খুলনা র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, খুলনার তিনটি দস্যু বাহিনীর সদস্যরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করবে। সুন্দরবনকে নিরাপদ করতে সরকারের নির্দেশ পালন করছে র‌্যাব।

বুধবারের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন মৎস্যসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি, সাংসদ মন্নুজান সুফিয়ান, মিজানুর রহমান, স্বরাষ্ট্রসচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিনসহ নেভি, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।