সরগরম খুলনা ও গাজীপুর

আগের সংবাদ

সন্ধ্যায় গুলশানে জরুরি বৈঠকে বসছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা

পরের সংবাদ

ভোরের কাগজকে একান্ত সাক্ষাৎকারে জাহাঙ্গীর আলম

জলজট কর্মসংস্থান অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০১৮ , ১২:১৫ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ১, ২০১৮ , ৪:১১ অপরাহ্ণ

নির্বাচনী আমেজে সরগরম গাজীপুর। তৎপর সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ভোটাররাও আগ্রহ নিয়ে লক্ষ্য করছেন তাদের কর্মকাণ্ড। এই প্রেক্ষাপটে গতকাল ছাপা হয়েছে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের সাক্ষাৎকার। আজ ছাপা হলো গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সাক্ষাৎকার। আগামীকাল পড়ুন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান উদ্দিন সরকারের সাক্ষাৎকার

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে দলীয় মনোন্নয়ন না পাওয়ায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদন্দ্বিতা করতে পারেননি। তবে এবার তিনি দলীয় মনোন্নয়ন লাভ ও নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি প্রত্যাশা করেন গাজীপুরের মেয়র প্রার্থী হিসেবে দল তাকেই মনোনয়ন দেবে। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও যোগ্যতার দিক থেকে পিছিয়ে নেই তিনি। গাজীপুরবাসীর কাছে তিনি উদীয়মান নেতা হিসেবে ইতোমধ্যেই পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছেন। রাজনীতির তৃর্ণমূল থেকে উঠে আসা জাহাঙ্গীর আলম গত ৫ বছরে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকার সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছেন। সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাপক ভিত্তিতে সামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করেছেন তিনি। এ কারণেই এবার তিনি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ভোরের কাগজকে তিনি নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত গাজীপুরের উন্নয়নে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির যোগফল তুলে ধরেছেন।

গাজীপুরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধার বাড়ানোর দিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, গাজীপুরের অবকাঠামো একেবারেই ভেঙে পড়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানো সম্ভব না। বিগত সময়ে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তারা অবকাঠামোগত দিকে একেবারেই মনোযোগ দেননি। সিটি করপোরেশন হওয়ার পরেও গত ৫ বছরে গাজীপুরের কোনো উন্নয়ন হয়নি। এই সিটির নাগরিকরা সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, নাগরিক সুবিধা ও উন্নয়নের পূর্ব শর্ত হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে গাজীপুরে কোনো উন্নয়ন হয়নি। এই দিকে আমার বিশেষ গুরুত্ব থাকবে। এরপর আমি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য কাজ করব। গাজীপুর একটি শিল্প এলাকা। শিল্প-কারখানায় অনেক মানুষ কাজ করে। তারপরেও এখানে বেকার সমস্যা রয়েছে। কর্মসংস্থান থাকলে কেউ আর্থিকভাবে অভাবে থাকবে না। অভাব না থাকলে সব মানুষ চিন্তা ও চেতনার দিক থেকে ভালো অবস্থায় থাকবে। অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করব।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাজীপুরের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরবাসী জলাবদ্ধতার সঙ্গে যুদ্ধ করছে। সিটি করপোরেশন হওয়ার পরে মানুষ আশা করেছিল যে, জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু গত ৫ বছরেও এই সমস্যার সমাধান হয়নি। মূলত ড্রেনেজ ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়ার কারণেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমি মেয়র হওয়ার পর প্রথমেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ শুরু করব।

এক প্রশ্নের জবাবে ‘জনগণের গুরুত্ব ও সহযোগিতা’ নিয়ে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার কাছে এলাকার জনগণ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমি নির্বাচিত হওয়ার পরে জনপ্রতিনিধি ও এলাকার মানুষকে এক সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমার বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সবার মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।

গাজীপুর শহরের যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আয়তনের দিক থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত। গাজীপুর ব্যস্ততম, জনবহুল এলাকা। বৃহৎ আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকা। এখানে যানজট থাকাটাই স্বাভাবিক। এই এলাকায় যানজট সমস্যা প্রকট। কিন্তু একটু পরিকল্পনা করলেই যানজট নিরসন সম্ভব। এ জন্য আমার কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। নগরীর যানজটপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করব। তারপর যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। নতুন রাস্তা নির্মাণ, সংস্কার ও পরিচ্ছন্নœ রাখার ওপরে গুরুত্ব দেয়া হবে।

তিনি বলেন, যানজট নিরসনে ইতোমধ্যেই আমি কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। ‘জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশন’ এর মাধ্যমে গাজীপুরের বিভিন্ন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মী বাহিনী নিয়োজিত করেছি। তারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাস্তায় থেকে যানজট সমস্যা নিরসনে কাজ করছে।

স্বাস্থ্যসেবা ও বর্জ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া যে কোনো সিটি করপোরেশনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু বিশাল গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না। আমি নির্বাচিত হলে জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেব। দেশি ও বিদেশি দাতাদের সহযোগিতায় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নির্মাণ করব।

তিনি বলেন, গাজীপুরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক ব্যবস্থা নেব। আমার সব উদ্যোগে নাগরিক সুবিধার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া নগরীর আধুনিকীকরণ, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, ফুটপাত নির্মাণ ও দখলমুক্ত রাখার বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দেব।

মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, অভাবে স্বভাব নষ্ট হয়। মানুষ তখন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে। আবার বিশ^াস কর্মসংস্থান থাকলে কেউ অপরাধী হবে না। এ জন্যই আমি কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। তারপরেও আমি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। এই কাজের জন্য জনগণ আমাকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে বিশ্বাস করি। নিরাপত্তার বিষয়টি আমি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ রেষারেষির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দলে কোনো অভ্যন্তরীণ বিরোধ নেই। সব শ্রেণির দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার সব সময়ই সুসম্পর্ক ছিল এবং আছে। কারো সঙ্গে আমার কখনো বিরোধ হয়নি। সবাই আমার জন্য কাজ করছে। দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল।

দলীয় নেতাকর্মী ও নগরবাসীর কাছে এই মুহ‚র্তের আহ্বান সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের বলব- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। তার যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই দেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে। শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। গাজীপুরে অনেক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাকি রয়েছে। আমি এগুলো বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই। আপনারা আমাকে ভোট দিন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়