শেখ হাসিনার সরকারের ৪ বছর : উন্নয়নের ধারা অব্যাহত, সুশাসন নিয়ে নানা প্রশ্ন

আগের সংবাদ

জাতীয় সংসদে ৪ বছর : বিরোধী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়নি জাপা

পরের সংবাদ

সংসদের বাইরে ৪ বছর : সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেনি বিএনপি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০১৮ , ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০১৮ , ৪:১৪ অপরাহ্ণ

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে সংসদের বাইরে ছিটকে পড়ে বিএনপি। নির্বাচনটি নিয়ে শুরুতে একটু অস্বস্তি থাকলেও দ্রুতই সেটা কাটিয়ে ওঠে সরকার। আর নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দিলেও নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হয় বিএনপি জোট। এরপরই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। গত ৪ বছরে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি সরকারকে কোনো রকম চ্যালেঞ্জই ছুড়ে দিতে পারেনি।

নির্বাচনের বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাজধানীতে সমাবেশ করতে না পেরে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। সে কর্মসূচিও ফ্লপ হয়। এরপর একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়ে বিএনপি। ২০১৬ সালে এসে এ দিনটিতে রাজধানীতে পুলিশের অনুমতি নিয়ে নানান শর্ত মেনে একটি বড় সমাবেশ করে। দলের জাতীয় কাউন্সিল ছাড়া বড় দুয়েকটি সমাবেশ ব্যতিত কোনো বিক্ষোভ মিছিল কিংবা তেমন কোনো সমাবেশও করতে পারেনি দলটি। নয়াপল্টন ও গুলশানে সংবাদ সম্মেলন, যৌথসভা, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, মহানগর নাট্টমঞ্চ, রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্ট্রিটিউশন কিংবা কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইনঞ্জিনিয়ার্স ইনস্ট্রিটিউটের ঘরের মধ্যে নিজেদের কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রেখে ৪ বছর পার করেছে রাজপথের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। সর্বশেষ এ বছর গত ৫ জানুয়ারিও সমাবেশ করার অনুমতি না পেয়ে বিক্ষোভ ও কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করে নিজেদের দায়িত্ব সেরেছে বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরও বিএনপি নেতাদের বলতে শোনা গেছে, এ ধরনের নির্বাচন করে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে এলেও নানা কারণে সরকার বাধ্য হবে দ্রুতই আরেকটি নির্বাচন দিতে। এ সময় তারা বলে বেড়াতেন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সরকারকে চাপ দিয়ে বাধ্য করবে দ্রুত নির্বাচন দিতে। অবশ্য তখনকার প্রেক্ষাপটে কয়েকটি বড় শক্তিকে এ নিয়ে কথা বলতে শোনা যেত। কিন্তু বিএনপি ক্রমেই এটা লক্ষ্য করল, সে ধরনের কঠিন কোনো চাপ সরকারের ওপর নেই। বরং একটি শক্তিধর দেশের প্রশাসনকে থোড়াই কেয়ার করছে সরকার। সেই দেশটির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে সরকারি দলের নেতারা বক্তব্য রেখেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও সরকারের সম্পর্কের বড় কোনো অবনতি হয়নি। যা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতি পাল্টে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশে বিএনপি যা বলছে তা সবাই শুনছে না।

বরং নির্বাচন প্রতিহতের ডাক দিয়ে বিএনপি যে জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি পালন করেছে তাতে দলটি সম্পর্কে সাধারণে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। সরকারের মিত্র একটি দলের নেতা যিনি একটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন তিনি প্রায়ই খালেদা জিয়াকে আগুন সন্ত্রাস নামে অভিহিত করে বক্তব্য দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ও গত ৪ বছরে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৭৮ হাজার মামলায় সাত লাখ ৩৮ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। দলটির দাবি অনুযায়ী এ সরকারের আমলে ৭৪৪ জনের মতো দলীয় নেতাকর্মী খুন ও গুমের শিকার হয়েছে।

গত ৪ বছরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্বে চলমান অন্তত দুইটি মামলা পরিণতির দিকে এগুচ্ছে। এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হচ্ছে এমন ধারণা অধিকাংশ বিশ্লেষকের। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের দুইটি মামলায় সাজা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড এলার্ট জারি করা হয়। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা যান এ সরকারের মেয়াদে ২০১৫ সালে। খালেদা জিয়াকে শোক জানাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঢুকতে না দেয়ায় সমালোচনার মুখে পরে বিএনপি।

গত ৪ বছরে কোনো সংসদীয় উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ না নিলেও স্থানীয় সরকারের সবগুলোতে অংশ নেয় দলটি। এ ক্ষেত্রে তাদের সাফল্যও নেহায়েত কম নয়। সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন।

গত চার বছরের মধ্যে জামায়াতের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের ফাঁসি কার্যকর হয়। দলটির নিবন্ধন বাতিল হয়। এ ইস্যুতে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় বিএনপির সঙ্গে জামায়াত আর সেভাবে নেই এখন। দলটি নিজেও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। আর বিএনপিকে বলা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতের বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করতে। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও এমন আওয়াজ এসেছে। বিএনপি এ অবস্থায় এক রকম বিপাকেই রয়েছে।

বিএনপির ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করলেও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেয়ার কথা বলেও দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পদ্মা সেতু নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট চালু করেন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে বিভিন্ন জাতীয় দিবস এবং নানা সময় নিজের বক্তব্য ও অবস্থান নিয়ে টুইট করে আসছেন বিএনপি নেত্রী। সর্বশেষ গত ৮ জানুয়ারি তিনি নারী নির্যাতন নিয়ে টুইট করেন। সেখানে লেখেন, নারী নির্যাতনের পরিসংখ্যান দেখে তিনি নির্বাক হয়ে গেছেন। অবশ্য খালেদা জিয়ার নামে আসা টুইট আদৌ তিনি লেখেন কিনা, এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার টুইট অ্যাকাউন্ট আছে সেটা ভালো। সেখানে তিনি আবার টুইটও করেন। কিন্তু তিনি নিজে টুইট করেন, নাকি অন্য কেউ করে দেন? খালেদা জিয়ার টুইট করা দেখে মনে হয় টুইটের প্রতিষ্ঠাতা, কর্মকর্তা সব হাসেন।

তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে বাইরে রাখা যাবে না, গত ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে বিএনপি নেত্রীর এমন বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। যা আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়