যমজ সন্তান কিন্তু জন্ম সাল আলাদা!

আগের সংবাদ

এসএসসি: ৩০ মিনিট আগে না গেলে কেন্দ্রে ঢোকা যাবে না

পরের সংবাদ

শিক্ষকদের অনশন

দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিন

কাগজ অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৩, ২০১৮ , ৭:১৬ অপরাহ্ণ

শিক্ষকরা সমাজের সচেতন অংশ। দেশের শিক্ষা খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হোক, শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হোক- তারাও তা চাইতে পারেন না বলেই আমাদের বিশ্বাস। আমরা মনে করি, সরকারপক্ষ ও শিক্ষক সমাজ পারস্পরিক আলোচনায় নিশ্চয় একটা যৌক্তিক সমাধানে আসতে পারবেন ও শিক্ষকরা দ্রতই শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবেন।

সারা দেশে যখন নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে তখন সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির দাবিতে রয়েছেন অনশনে। পাঁচ বছর ধরেই শিক্ষকরা এই দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে আশ্বাস মিললেও তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে দিনদিন হতাশা ও অসন্তোষ জমেছে শিক্ষক মহলে। শুধু নন-এমপিও শিক্ষকরাই নয়, বছরের শেষভাগে দেখা গেছে নানা দাবিতে শিক্ষকদের নানা অংশকে নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকতে, বছরের শুরুতেও তা অব্যাহত। বাস্তবতা হলো দেশের শিক্ষক মহলে নানা রকম বৈষম্য, জটিলতা, অসন্তোষ বিদ্যমান। সরকার যেগুলোকে দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে পারছে না। ফলে শিক্ষা খাতে একটা অস্থিরতা চলছে, এর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরাও।

পত্রপত্রিকার এ সংক্রান্ত রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীকে সরকার প্রতি মাসে ৯৪০ কোটি ৪৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা দিচ্ছে। মাত্র ৭৫ হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী এমপিও সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ভোরের কাগজের গতকালের একটি রিপোর্ট বলছে, এমপিওভুক্তির জন্য ২০১৩ সালে আন্দোলন শুরু করেছিলেন বঞ্চিত শিক্ষকরা। তখন শিক্ষামন্ত্রী তিন মাসের মধ্যে এমপিওভুক্ত করার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এরপর থেকে গত কয়েক বছরে দফায় দফায় এখন পর্যন্ত অন্তত সাতবার আন্দোলন করেছেন। প্রতিবারই শুধু আশ্বাস মিলেছে, তাই এবার তারা আর আশ্বাস বা প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখতে পারছেন না, দাবি আদায়ের সংকল্প নিয়ে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে তারা প্রেসক্লাবের সামনে অনশনে রয়েছেন। পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে অনশন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। নতুন বছরের এই সময়টাতে শিক্ষকদের নতুন বই, নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা। তার বদলে তারা অনশনে নেমেছেন তাদের চাকরি ও বেতন নিশ্চিত করার দাবিতে। এটা জনমনে উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে।

বিগত সময়ে সরকার শিক্ষকদের এই দাবি পূরণে আশ্বাস দিয়েছেন, যার অর্থ দাঁড়ায় সরকার এই দাবি পূরণে নীতিগতভাবে একমত। জানা গেছে, প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের অভাবে এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান না করে শিক্ষক এমপিওভুক্তির ঘোষণাই সরকারকে বিপাকে ফেলেছে। এটা অনস্বীকার্য যে, বর্তমান সরকার বিভিন্ন স্তরে শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। তারপরও এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও প্রক্রিয়াগত বিশৃঙ্খলার কারণে সরকার এতকিছু করেও শিক্ষক মহলকে খুশি করতে পারছে না। ইতোমধ্যে নন-এমপিও শিক্ষকদের সিংহভাগকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে, যারা বাকি রয়েছেন তাদেরও নিশ্চয়ই এমপিওভুক্ত করার সদিচ্ছা সরকারের রয়েছে, সামর্থ্য নেই তাও বলা যাবে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের অভাব যে রয়েছে, তা স্পষ্ট। এমপিওভুক্ত হতে না পারা শিক্ষকরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন অন্তত চার বছর যাবৎ এবং প্রতি বছর শিক্ষাবর্ষ শেষ এবং শুরুর এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টাতেই তারা নানা কর্মসূচি নিয়ে আন্দোলনে থাকছেন। এবারো এ রকম কিছু ঘটবে- এটা সংশ্লিষ্টদের অপ্রত্যাশিত ছিল না। এসব বিবেচনায় নিয়ে এদিকে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে কেন শিক্ষকদের অনশনের দিকে ঠেলে দেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন তাই জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। যে ব্যাপারে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন সেখানে সময়ক্ষেপণের কারণ কী, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এ সময়ক্ষেপণ সরকারের সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদেরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সরকারের উচ্চ মহলের উচিত বিষয়টি দ্রুত সুরাহার উদ্যোগ নেয়া। শিক্ষকরা সমাজের সচেতন অংশ। দেশের শিক্ষা খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হোক, শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হোক- তারাও তা চাইতে পারেন না বলেই আমাদের বিশ্বাস। আমরা মনে করি, সরকারপক্ষ ও শিক্ষক সমাজ পারস্পরিক আলোচনায় নিশ্চয় একটা যৌক্তিক সমাধানে আসতে পারবেন ও শিক্ষকরা দ্রুতই শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবেন।