বাবার শবযাত্রায় মেয়েদের নাচ

আগের সংবাদ

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯১ লাখ টাকার স্বর্ণ উদ্ধার

পরের সংবাদ

ইরাক-ইরান সীমান্তে ভূমিকম্প: নিহত দুই শতাধিক

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৩, ২০১৭ , ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৩, ২০১৭ , ১:২৭ অপরাহ্ণ

ইরাক-ইরান সীমান্তবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই শতাধিক। ভূমিকম্পে আহত হয়েছে আরো ১৭শ মানুষ।খবর- রয়টার্স, ডেইলি মেইল ও বিবিসির।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়েছে, ৭ দশমিক ৩ মাত্রার এই ভূমিকম্প দেশের উত্তরাঞ্চলের কারমানশাহ প্রদেশের ইরাক সীমান্ত এলাকায় আঘাত হেনেছে। এতে সেখানে অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া ইরাকে চারজন নিহত হয়েছেন বলে কুর্দি স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

ইরানের কেরমানশাহ প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর মোস্তবা নিকেরদার বলেছেন, ‘আমরা তিনটি জরুরি ত্রাণশিবির খোলার প্রক্রিয়ায় রয়েছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ইরাকি কুর্দিস্তানের হালাবজা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে রোববার রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। সাধারণত এ সময় অধিকাংশ মানুষ বাড়িতে থাকে।

ইরানের জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান পির হোসাইন কুলিভান্দ বলেছেন, ‘সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রত্যন্ত গ্রামগুলোয় উদ্ধারকারীদের পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না… ব্যাপক ভূমিধস হয়েছে।’

এ ভূমিকম্পে কেরমানশাহ প্রদেশের কাসর-ই-শিরিন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগালেহ শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রেড ক্রস জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে তারা ৩০টি দল পাঠিয়েছে।

ইরাকের কর্মকর্তারা বলেছেন, সুলাইমানিয়া প্রদেশে ছয় জন নিহত ও দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। এ প্রদেশের দারবান্দিখান শহরের মেয়র নাসে মোল্লা হাসান নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পের কেন্দ্র। ইরাকের রাজধানী বাগদাদে প্রায় ২০ সেকেন্ড এবং অন্যান্য শহরে আরো বেশি সময় কম্পন অনুভূত হয়।

ইরানের তাব্রিজ শহরসহ বেশ কয়েকটি সীমান্ত শহরে কয়েকবার পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়। তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। দিয়ারবাকির শহরে লোকজনকে ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে এসে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

অ্যারাবিয়ান ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের মধ্যবর্তী ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার ফল্ট লাইন জুড়ে এ ভূমিকম্প হয়েছে। এই ফল্ট লাইন পশ্চিম ইরান ও উত্তর-পূর্ব ইরাক পর্যন্ত বিস্তৃত। এ অঞ্চলে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

১৯৯০ সালে কাস্পিয়ান সাগর তীরবর্তী ইরানের উত্তরাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ মারা যায়, আহত হয় প্রায় ৩০ হাজার। ঘরবাড়ি হারায় প্রায় ৫ লাখ মানুষ। কয়েক মহূর্তের ভূমিকম্পে ডজনখানেক শহর ও দুই শতাধিক গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এর ১৩ বছর পর ইরানের বাম শহরে শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৩১ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। মাটির তৈরী বাড়ির জন্য বিখ্যাত বাম।

এরপর ইরানে ২০০৫ সালে ভূকিম্পে প্রায় ৬০০ জন এবং ২০১২ সালে ভূমিকম্পে প্রায় ৩০০ জন নিহত হয়। সম্প্রতি তুর্কমেনিস্তান সীমান্তবর্তী ইরানে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে দুজন নিহত হয়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়