প্রণব মুখার্জীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাত সম্পাদক শ্যামল দত্তের

আগের সংবাদ

শিশুরাই পথ দেখাচ্ছে

পরের সংবাদ

রংপুরে হিন্দু গ্রামে হামলা

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রুখতে হবে

প্রকাশিত: নভেম্বর ১১, ২০১৭ , ৫:৩৯ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১১, ২০১৭ , ৫:৩৯ অপরাহ্ণ

ফেসবুকের পোস্টকে কেন্দ্র করে যখন রংপুরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তখনই প্রশাসনের আগাম নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। আক্রান্তরা বলছেন, পুলিশকে আগে হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হলেও তারা কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও প্রশাসন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর এরকম আক্রমণ জাতীয় সংহতির ওপর বিরাট আঘাত।

ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রংপুরের একটি হিন্দু গ্রামে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে গুলিতে ১ জন নিহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে ২৫ জন। এই ঘটনা দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। আমরা বলি আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। কিন্তু ইদানীংকালে অসহিষ্ণুতা ও অধৈর্যের যে প্রকাশ প্রায়ই দেখা যাচ্ছে- তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন রংপুরের পাগলাপীর ঠাকুরবাড়ি গ্রামের টিটু রায়। কয়েকদিন আগে তার ফেসবুক আইডিতে মহানবী (সা.) সম্পর্কে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেয়ার ঘটনা নিয়ে রংপুরের পাগলাপীর, মমিনপুর, হাড়িয়াল কুঠিসহ আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর ৬-৭টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ টিটু রায়ের গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে পুলিশ গুলি চালালে ৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে হামিদুল ইসলাম নামে এক যুবক মারা যায়। অন্য আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। ঠাকুরবাড়ি গ্রামে অন্তত ৩০টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং মালামাল লুট করা হয়। ঠাকুরবাড়ি গ্রামের হিন্দুপাড়ার মানুষ এখনো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। রামু, নাসিরনগরের সেই বিভীষিকাময় ঘটনার পর রংপুরে প্রায় একইরকম ঘটনা প্রত্যক্ষ করে দেশবাসী আবারো বিস্মিত হয়েছে । টিটু রায় যদি ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দিয়ে থাকেন তার অপরাধের শাস্তি আইন অনুযায়ী হবে, এটাই স্বাভাবিক। এ জন্য একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর কোনো যুক্তিতেই হামলা হতে পারে না। আমরা লক্ষ করছি, ইসলামের অবমাননা করা হয়েছে- এই জিকির তুলে স্বার্থান্ধ সা¤প্রদায়িক গোষ্ঠী মাঝে মাঝেই ধর্মপ্রাণ নিরীহ মানুষকে এমনভাবে উত্তেজিত করছে যে, তারাও হয়ে পড়ছে উন্মত্ত। সত্যি সত্যি ধর্মের অবমাননা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে না অথবা হলেও প্রকৃত অপরাধীর পরিবর্তে টার্গেট হয়ে পড়ছে সামগ্রিকভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এ প্রবণতা বিপজ্জনক। ফেসবুকের পোস্টকে কেন্দ্র করে যখন রংপুরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়, তখনই প্রশাসনের আগাম নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। আক্রান্তরা বলছেন, পুলিশকে আগে হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হলেও তারা কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও প্রশাসন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর এরকম আক্রমণ জাতীয় সংহতির ওপর বিরাট আঘাত। এই হামলার ফলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু স¤প্রদায় আরো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে না পারলে বাংলাদেশে মিলেমিশে বসবাসের যে সংস্কৃতি তা বাধাগ্রস্ত হবে এবং মানুষের জীবনযাপনের স্বাভাবিকতা হারাবে। ঘটনার দিন রাতেই রংপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখন প্রয়োজন দ্রুত দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং তাদের যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা। সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণ-মেরামত করাসহ ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করাও জরুরি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়