সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস আর নেই

আগের সংবাদ

ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় বাড়ানোর যৌক্তিকতা

পরের সংবাদ

পারিবারিক হত্যাকান্ড রোধে রাষ্ট্রের ভূমিকা জরুরি

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০১৭ , ১০:১৩ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৭ , ১০:১৫ অপরাহ্ণ

পারিবারিক কলহ রোধে সমাজে বিদগ্ধজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। পারিবারিক, সামাজিক অস্থিরতা দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্য যেমন অশনিসংকেত হয়ে দেখা দিচ্ছে তেমনি অবক্ষয়ের চরম অবস্থার জানান দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে। ফলে পারিবারিক বলয়ে অপরাধের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, চলতি বছরে দেশে সামাজিক অপরাধের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এখনই যদি এ অবস্থা প্রতিরোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া না হয় তবে তা মহামারী আকারে রূপ নেবে। পত্রপত্রিকার পাতা খুললেই এখন দেখা যায় সন্তানের হাতে বাবা খুন, বাবা কিংবা মায়ের হাতে সন্তান, স্বামীর হাতে স্ত্রী, স্ত্রীর হাতে স্বামী অথবা ভাইয়ের হাতে ভাই। এমন সংবাদ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে সচেতন নাগরিক এমনকি জনসাধারণের মাঝে। গত বুধবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে নিজ বাসায় গলা কেটে হত্যা করা হয় শামসুন্নাহার নামে একজন মধ্য বযস্ক নারী ও তার ছেলে শাওনকে। এ ঘটনায় পুলিশের সন্দেহ পারিবারিক কলহ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। এর একদিন পর বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাড্ডায় একটি বাসায় নৃশংসভাবে বাবা ও মেয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বাবা জামিল শেখ পেশায় গাড়িচালক। আর নুসরাত নামের দশ বছর বয়সী মেয়েটি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবাকে মাথায় আঘাত করে আর মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ মেয়েটির মা আরজিনাকে আটক করেছে। পরকীয়ার জেরে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে বলে পরিবার ও পুলিশের ধারণা। এদিকে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে ল²ীপুরের রায়পুরের বামনী এলাকায় চার বছরের শিশু পিয়াসকে বস্তায় ভরে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের ঘটনা পত্রপত্রিকায় প্রায় দেখছি। একটি বেসরকারি সংস্থা তাদের মাসিক প্রতিবেদনে বলছে, দেশে পারিবারিক কলহে অক্টোবরে নিহত হন ৪২ জন, তাদের মধ্যে পুরুষ ১২ ও নারী ৩০ জন। স্বামীর হাতে নিহত হন ২৭ নারী। স্ত্রী খুন করেছে ২ স্বামীকে। পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, রাগ, পরকীয়াসহ বিভিন্ন পারিবারিক কারণে এসব মৃত্যু সংঘটিত হয় বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।

সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিটি পরিবারেরই ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা থাকে। তার সঙ্গে নানা কারণ একত্রিত হয়ে এ ধরনের পারিবারিক ও সামাজিক হত্যাকাÐ সংঘটিত হচ্ছে। তবে এর পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে হতাশা, পরকীয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যাওয়া, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি। নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাবে পরিবারিক বন্ধন ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি সহনশীলতার মাত্রা কমে যাচ্ছে, সামাজিক অস্থিরতার কারণে জীবনে বাড়ছে হতাশা, মানসিক বিষণ্নতা, আর্থিক দৈন্য। ফলে সমাজে বেড়ে চলেছে অপরাধও। এই অপরাধ এখন পরিবারে ঢুকে পড়েছে। অন্যদিকে সমাজে ভোগবাদী প্রবণতা বাড়াও এর একটি কারণ। সমাজের একাংশ এতটাই ভোগবিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, এই সমাজে পারিবারিক কাঠামো থাকলেও তা নামমাত্র। কোনো ধরনের স্বাভাবিক বোঝাপড়া তাদের মধ্যে নেই। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারিবারিক বন্ধন জোরদার করতে হবে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে হবে। চাহিদা এবং প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান কমাতে হবে। ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক তৎপরতা বাড়াতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। পারিবারিক কলহ রোধে সমাজে বিদগ্ধজন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। পারিবারিক, সামাজিক অস্থিরতা দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্য যেমন অশনিসংকেত হয়ে দেখা দিচ্ছে তেমনি অবক্ষয়ের চরম অবস্থার জানান দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে মূল ভ‚মিকা পালন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়