নাটোরে হেরোইন রাখার দায়ে একজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

আগের সংবাদ

শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহিতার ওপর শিক্ষামন্ত্রীর গুরুত্বারোপ

পরের সংবাদ

৭ মার্চের ভাষণ ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’

ইউনেস্কোর অনন্য স্বীকৃতি

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০১৭ , ৭:৪৯ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১, ২০১৭ , ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ একটি অবিস্মরণীয় ভাষণ যা শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, পৃথিবীর সব মুক্তিকামী মানুষ স্মরণে রাখার দাবি রাখে। যুগে যুগে এই ভাষণ মানুষকে তার অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীন সত্তার পরিচয় সন্ধানে অনুপ্রাণিত করবে। বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষকে জাগিয়ে তুলবে। দেরিতে হলেও এ ভাষণ তার প্রাপ্য বিশ্ব স্বীকৃতি পেল, যা বাঙালি জাতিকে তুলে দিল অনন্য এক উচ্চতায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রমনার রেসকোর্স ময়দানে দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ এর স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। বিশ্ব ঐতিহ্য ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার একটি আন্তর্জাতিক তালিকাই মূলত মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড। সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ এর স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। এই স্বীকৃতির ফলে এ ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর মেমোরি অব দি ওয়ার্ল্ড (এমওডব্লিউ) রেজিস্টারে নিবন্ধিত হলো। এমওডব্লিউতে এটাই প্রথম কোনো বাংলাদেশি দলিল, যা আনুষ্ঠানিক ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত হবে। এমওডব্লিউ রেজিস্টারে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক মাইলফলক বঙ্গবন্ধুর ভাষণটির স্থান লাভ একটি অনন্য স্বীকৃতি এবং বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অশেষ গর্বের।

আজ থেকে ৪৬ বছর আগে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তখনকার রেসকোর্স ময়দান) স্বাধীনতাকামী ৭ কোটি মানুষকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’। উত্তাল জনসমুদ্র যখন স্বাধীনতার ঘোষণা শুনতে উদগ্রীব, তখনই বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করলেন তার চূড়ান্ত আদেশ- ‘তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব- এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ…।’ ওই ভাষণেই সামরিক আইন প্রত্যাহার, সৈন্য বাহিনীর ব্যারাকে প্রত্যাবর্তন, শহীদদের জন্য ক্ষতিপূরণ ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের চার দফা দাবি উত্থাপন করেন তিনি। তার ওই ভাষণের ১৮ দিন পর পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালি নিধনে নামলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। নয় মাসের সেই সশস্ত্র সংগ্রামের পর আসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ৭ মার্চের ভাষণেই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার নিশানা পেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ এ ভূখণ্ডের মানুষকে নিজের দেশ, ভাষা ও অধিকার বোধ সম্পর্কে জাগ্রত করেছিল, প্রস্তুত করেছিল মরণপণ সংগ্রামের জন্য। মাত্র ১৯ মিনিটের যে বক্তৃতা বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন সেটাই সাড়ে সাত কোটি মানুষকে মনের বল নিয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার উদ্দীপনা দিয়েছিল। এর আগে আর কোনো নেতার কোনো ভাষণ তা পারেননি। এই ভাষণ বাংলার আপামর জনতার প্রেরণার জায়গা এবং এই ভাষণ আমাদের মুক্তি সংগ্রামের একটি অনন্য মাইলফলক। বিশ্ব ইতিহাসে যার দৃষ্টান্ত বিরল।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ একটি অবিস্মরণীয় ভাষণ যা শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, পৃথিবীর সব মুক্তিকামী মানুষ স্মরণে রাখার দাবি রাখে। যুগে যুগে এই ভাষণ মানুষকে তার অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীন সত্তার পরিচয় সন্ধানে অনুপ্রাণিত করবে। বিশ্বের সব নিপীড়িত মানুষকে জাগিয়ে তুলবে। দেরিতে হলেও এ ভাষণ তার প্রাপ্য বিশ্ব স্বীকৃতি পেল, যা বাঙালি জাতিকে তুলে দিল অনন্য এক উচ্চতায়।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়