ডি ভিলিয়ার্স- স্টেইনকে টেস্ট দলে চান গিবসন

আগের সংবাদ

ডেসটিনির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ

পরের সংবাদ

পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিন

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০১৭ , ৬:৩৬ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৩১, ২০১৭ , ৬:৩৬ অপরাহ্ণ

সিন্ডিকেটবাজি ঠেকাতে হবে। সিন্ডিকেটধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। টিসিবিকে শক্তিশালী করে একটি বিকল্প বিপণন ব্যবস্থা চালু রাখা গেলে সিন্ডিকেটদের একচেটিয়া দৌরাত্ম্য কমত বলেই আমাদের বিশ্বাস। সেই সঙ্গে বাজার মনিটরিং জোরদার রাখতে হবে।

বাজারে পেঁয়াজের দাম ফের উর্ধ্বমুখী। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য ছিল দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ২২ টাকা। আর দেশের বাজারে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯০-৯৫ টাকায়, যা আমদানি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। কিছুদিন আগেও যে পেঁয়াজ ছিল ৫০-৫৫ টাকা কেজি তা এক লাফেই বেড়ে এখন ৯০-৯৫ টাকা। পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদও রয়েছে। তাই দাম বাড়ার বিষয়টি কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। এমনিতেই বাজারে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণের নাগালের বাইরে, তার ওপর পেঁয়াজের দাম বাড়া যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

জানা যায়, বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৭ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। এর বাইরে ৫ থেকে ৬ লাখ টন আমদানি করা হয়। যার বেশির ভাগ আসে ভারত থেকে। বছরের শেষ দিকে এসে প্রতিবারই পেঁয়াজের দাম বাড়ে। তবে এবার অনেক বেশি বেড়েছে। গত আগস্ট মাসে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এরপর ভারতের সঙ্গে মিলিয়ে দেশেও দাম কমে যায়। ভারতের বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতি মাসের শুরু থেকে আবার দাম বাড়তে থাকে। ভারতীয় পেঁয়াজের ওপর আমাদের অতি নির্ভরশীলতার কারণে দেশের বাজারে এ পণ্যটির দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত সোমবার দ্রব্যমূল্য নিয়ে আন্ত: মন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে সেখানে পেঁয়াজের আমদানি মূল্যের সঙ্গে বাজার মূল্যের বিপুল ফারাক নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মনিটরিং আরো জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকারের তরফে আলোচনা ইতিবাচক এবং গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যথার্থ এতে সন্দেহ নেই, বড় কথা হলো এর বাস্তবায়ন।

বাজারে অস্থিরতা উদ্ভবের পরিস্থিতিতে বরাবরই দেখি বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেন, তাদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, ব্যবসায়ীরাও অভয় বাণী শোনান কিন্তু বাস্তবে এর সুফল পাওয়া যায় সামান্যই। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছে যেন সরকার অসহায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এ চক্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী বলে সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এরা ইচ্ছেমতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করে অন্যায্যভাবে বিপুল অঙ্কের মুনাফা লুটে নিচ্ছে অনায়াসে। এর রাশ টানা দরকার। এর জন্য সরকার ও সমাজের সচেতন দায়িত্বশীল মহলকে ভ‚মিকা রাখতে হবে। সিন্ডিকেটবাজি ঠেকাতে হবে। সিন্ডিকেটধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। টিসিবিকে শক্তিশালী করে একটি বিকল্প বিপণন ব্যবস্থা চালু রাখা গেলে সিন্ডিকেটদের একচেটিয়া দৌরাত্ম্য কমত বলেই আমাদের বিশ্বাস। সেই সঙ্গে বাজার মনিটরিং জোরদার রাখতে হবে। সরকার পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে জরুরি পদক্ষেপ নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়