টেনশন, অনিদ্রা, জীবনে অশান্তি! বিছানার পাশে কেবল একটি বিশেষ গাছ রাখুন

আগের সংবাদ

ইতিহাস বিকৃতি: পাকিস্তানকে সতর্ক করল বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

‘কৌশিকদা, আমাকে ছেড়ে যেও না কিন্তু…’!

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০১৭ , ৫:২৫ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৩১, ২০১৭ , ৫:২৫ অপরাহ্ণ

টলিউডে এই দুজনের মতো ‘ক্রিয়েটিভ কাপল’ কমই আছেন। দুজনই সৃজনশীলতায় একে অপরের পরিপূরক। একজন অভিনেতা ও পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং অন্যজন অভিনেত্রী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। তাদের সমসাময়িক ব্যস্ততা ও অন্যান্য বিষয় তুলে ধরা হলো মেলার পাঠকদের জন্য ।

 

আপনাদের দেখে ঠিক দম্পতি না, কর্মসঙ্গী বেশি মনে হয়?
কৌশিক : এটা যাদবপুর ইউনিভার্সিটি এফেক্ট!
চূর্ণী : আমরা আসলে একটা ড্রামাক্লাব শুরু করেছিলাম। তার আগেও নাটক হতো রীতিমতো। কিন্তু ড্রামাক্লাব করে ব্যাপারটাকে আরো অফিশিয়াল করেছিলাম আমরা। আমাদের আগে ইন্দ্রাশিস লাহিড়ি ছিলেন। আমাদের সঙ্গে লাল (সুমন মুখোপাধ্যায়) ছিল, আমরা তো ছিলামই। আরো অনেকেই ছিল। প্রত্যেক বছর একেকটা নাটক হতো। অন্য কলেজের সঙ্গে কম্পিটিশনও ছিল। মেডিকেল কলেজ থেকে তখন কমলেশ্বরও (মুখোপাধ্যায়) আসত।
কৌশিক : এবং হারত! একবার ডাক্তারবাবুরা তো খুব মেজাজও করেছিল। আসলে সবাই তখন ফেস্টগুলোয় ঢুকে আগে দেখত, যাদবপুর ইউনিভার্সিটি এসেছে কিনা। আমরা ঢুকলে তো শেষ! তখন আমাদের আশপাশে কেউ ছিল না থিয়েটারে। প্রতিবার জিতে যেতাম বলে একবার তো আমাদের বলল, এবার তোমরা জাজ হও। আর কম্পিটিশন করতে হবে না।
নাটক করতে করতেই প্রেম?
কৌশিক : চূর্ণী তো কার্শিয়ং থেকে এখানে এসেছিল। আমাদের বাড়ির কাছাকাছিই থাকত। কলকাতার রাস্তাঘাট তেমন চিনত না ও। একবার শহরজুড়ে মানববন্ধন হয়েছিল। সেখানে দুজনেই গিয়েছিলাম। মানববন্ধনে পাশাপাশি দাঁড়িয়েও ছিলাম। সুন্দরী মেয়ে, তার ওপর পাড়ায় থাকে, আমি তো পাশে দাঁড়াবই। তখন ওর মনে কী হচ্ছে, সেটা বুঝতে পারছি না। কিন্তু আমার ওকে খুব ভালো লাগছে! হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছি বলে কথা! খুব ভিড় হয়েছিল। আমরা অনেকটা দূরেও চলে গিয়েছি। একটা সময়ের পর চূর্ণী আমাকে বলল, ‘কৌশিকদা, আমাকে ছেড়ে যেও না কিন্তু…’।
চূর্ণী : তখন দাদা বলতাম। ভাবতাম, সিনিয়র-টিনিয়র হবে নিশ্চয়ই!
কৌশিক : আর ওই যে কথাটা ও বলল, আমি তো তার অন্য মানে করে নিয়েছি। তারপর বাড়ি অবধি পৌঁছেও দিয়েছি, কিন্তু আর ছেড়ে যাওয়া হয়নি!
খুব রোমান্টিক তো!
চূর্ণী : ধুস! ও খুব নাছোড়বান্দা ছিল। ‘বিসর্জন’-এ যে রোলটা করেছে না, অনেকটা ওই লোকটার মতো!
কৌশিক : হ্যাঁ, ওকে প্রায় পাগল করে দিয়েছিলাম! থিয়েটার রোডে তখন থাকত ও। আর আমি কথায় কথায় ওর বাড়ি চলে যেতাম। গড়িয়া থেকে থিয়েটার রোডে যাওয়ার তো আমার কোনো কারণ নেই! কলামন্দিরে শো না থাকলে! আর কলামন্দিরে কি আর রোজ শো থাকে!
তখন তো নিজেদের শোটাই চলছে!
কৌশিক : হ্যাঁ, কিন্তু আমাদের লাভস্টোরি নিয়ে কোনো ছবি হলে সেটা সুপারফ্লপ হবে! কারণ ওই যে ওর বাড়ি চলে যেতাম, গিয়ে খুব যে কথাবার্তা হতো, সেটা নয় কিন্তু। ওর হাতে যদি কোনো বই বা কাগজ থাকত, ও সেটা নিয়ে পড়তেই থাকত। আর আমি বসে থাকতাম হাঁ করে। একটা সময়ের পর বাস ধরে ফিরেও যেতাম। ভেরি বোরিং!
চূর্ণী : কিন্তু আমাদের ইউনিভার্সিটির বন্ধুত্বটা রয়ে গিয়েছে এখনো। কাজের ক্ষেত্রেও বোধহয় সেটাই টিমওয়ার্কের মতো মনে হয়।
দুজনের কাজের ধরন কতটা আলাদা?
চূর্ণী : পুরোটাই আলাদা।
কৌশিক : চ‚র্ণীর কাজের ধরনটা অনেক নিখুঁত। আর আমি বেধড়ক ফাঁকিবাজ।
চূর্ণী : হ্যাঁ, নিজেকে ফাঁকিবাজ বলে এসিস্ট্যান্টদের বকে শেষ কর! আগে থেকে প্ল্যানিং করে রাখলে তো সমস্যাগুলো হয় না!
কৌশিক : চ‚র্ণী থাকায় একটা সুবিধে হয়েছে। ‘নির্বাসিত’র সময় আমাদের এসিস্ট্যান্টদের একটা ডিপ্লোমা কোর্স হয়ে গিয়েছিল প্রায়! কীভাবে লিখে রাখতে হবে, পরপর কী কী করতে হবে, সব রকম প্ল্যান কীভাবে করতে হবে সব ওদের শিখিয়েছে। ওদের প্রসেসটা ভালো লেগেছে বেশ। এখন আমার ছবিতেও এসব করতে শুরু করেছে। আমাকে তো প্রায় বাধ্য হয়ে এই স্কুলটায় ঢুকে পড়তে হয়েছে!
আপনাদের কাজের প্রেশার, চারপাশের নানারকম জটিলতার মধ্যে দাম্পত্যে সমস্যা তৈরি হয় না?
কৌশিক : কাজটা সহজ নয়। ওর দিদিমা (মঞ্জরী গুপ্ত) একটা কথা বলতেন সবসময়। সহনশীলতা। আমাদের সমাজে তো অসুবিধে আগেও ছিল। কিন্তু কথায় কথায় এত বিবাহ বিচ্ছেদ দেখা যেত না। আগে কনসেপ্টটা ছিল স্বামী অভিভাবক, স্ত্রী একটি ছোট মেয়ে। এখন তো দুজন প্রাথমিকভাবে বন্ধু! ফলে শুধু তো বিবাহ বিচ্ছেদ হবে না। বন্ধু বিচ্ছেদও হতে হবে!
চূর্ণী : চারপাশে যে সমস্যাগুলো হচ্ছে, তার জন্য অনেকটা দায়ী পুরুষতন্ত্র। চিরাচরিত ধারণা হলো, একটা মেয়ে পড়াশোনা করবে, তারপর বিয়ে করবে, তারপর অন্য বাড়িতে গিয়ে থাকবে। এবার সেখানে গিয়ে যদি সে মানিয়ে নিতে না পারে, ছেলেটা কি তখন ভাববে, যে আমি বরং ওর বাড়িতে গিয়ে থাকি! সেটা কখনোই হয় না, এবং মেয়েটাকে বলা হয়, অ্যাডজাস্ট করতে পারছ না যখন তোমার সমস্যা। মানিয়ে নাও। এই মানিয়ে নিতে নিতে একটা সময়ের পর মেয়েটা হয়তো আর পারছে না। তখন সে তার খারাপ লাগাটাকে প্রকাশ করছে। এবার মুশকিলটা হলো, যেসব মেয়ের মত প্রকাশ করার মতো মন থাকে, তারা ভালো সংসার করতে পারে না বলে একটা ধারণা আছে। ফলে আমরা এখনো আটকে আছি।
আপনাদের ছেলেও তো এবার অভিনয় করতে যাচ্ছে। ওকে সিনেমা জগৎ সম্পর্কে কোনো উপদেশ দেন?
চূর্ণী : মা হিসেবে আমি ওকে একটা কথাই বলি, যে তুমি যদি ফ্রিল্যান্স জব করতে চাও, তাহলে অভিনয় কর। আর যদি অন্য কোনো কাজ করতে চাও, আর অভিনয়টা শখে করবে বলে ভাব তাহলে পড়াশোনাটা একটু মন দিয়ে কর।
কৌশিক : ও খুবই ভালো ছাত্র। ফ্রিল্যান্সে অবশ্য আমার একটু ভয় আছে। পুরনো স্ট্র্যাগল তো ছিলই, এখনো আমাদের অনেক ভাবনাচিন্তা করে চলতে হয়, হিসেব করতে হয়।
চূর্ণী : কৌশিক তো প্রায়ই বলে, কলকাতা শহরে যারা অটোগ্রাফ দেয়, তাদেরই সবচেয়ে বেশি হিসেব করে চলতে হয়!
কৌশিক : তার ওপর ভয়, তিনটে ছবি ফ্লপ করলেই আমাকে কেউ ডাকবে না! এই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমার মনে হয় না, উজান এই অ্যাগনির মধ্যে দিয়ে যাক। এরপর ওর ইচ্ছে, ও কী করবে না করবে। তবে শিবু-নন্দিতার হাউস থেকেও প্রথম ছবিটা করছে, তা নিয়ে গর্ব কিন্তু কম নয় আমাদের।
চূর্ণী : আমি সব সময় চাইব ও যাই করুক, যেন গ্রাউন্ডেড থাকে। মানুষের প্রতি ওর আচরণ কিংবা দায়িত্ববোধ কেমন, সেটা যেন ওকে ডিফাইন করে, অন্য কিছু না।

সাক্ষাৎকার- এবেলা ডট ইনের সৌজন্যে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়