কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা: ফুঁসে উঠছে স্পেন!

আগের সংবাদ

পাঠ-সহায়ক বই ও বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা

পরের সংবাদ

৩৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল পুর্নমূল্যায়নের দাবি

এক কেন্দ্রে ৩৫ জন পরীক্ষার্থী ফেল!

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯, ২০১৭ , ৭:৩২ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৯, ২০১৭ , ৮:২৯ অপরাহ্ণ

৩৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের টানা ৩৫জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছেন। এজন্য গত বুধবার প্রকাশিত ফলাফল পুর্নমূল্যায়নের দাবি জানিয়ে পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ৮৪ হাজার ৩১৬ থেকে ৮৫ হাজার ১১ রোল নম্বরের মধ্যে ৩৫ জন প্রার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হননি। কারিগরি ত্রুটির কারণে এমন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার ১১৯ জন পরীক্ষার্থীর পর রবিবার রোল নম্বর উল্লেখসহ আরো ১৮০জন পরীক্ষার্থী লিখিতভাবে ফল পুর্নমূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আ ই ম নেছার উদ্দিন বরাবর আবেদন জমা দিয়েছেন।

গত রবিবার পরীক্ষার্থীরা পিএসসির চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদনে জানিয়েছেন, ‘৩৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা অনেক ভালো দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলাফল প্রকাশের পর আমরা বিস্মিত হয়েছি। আমরা যেমন পরীক্ষার্থী দিয়েছি তাতে কোনভাবেই ফেল করার কথা নয়। আমাদের আশংকা ৩৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার্থীর বিভিন্ন ধাপে ( নম্বর যোগ করতে ভুল করা, ডাটা এন্ট্রিতে ভুল করা, সফটওয়ারগত ক্রটি হওয়া, ডাটা মিসিং হওয়া) কোনো অনিচ্ছাকৃত কারিগরি ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। পিএসসির প্রতি আমাদের আস্থা ও বিশ্বাস থেকেই সংশি­ষ্টদের প্রতি আকুল আবেদন মানবিক বিদ বিবেচনা করে ফলাফল প্রস্তুতির ধাপে কোনো ত্রুটি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে অনুরোধ রইলো।’

এরপর দুইজন পরীক্ষায় পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের (ক্যাডার) সঙ্গে দেখা করেন। আবেদনটি বিবেচনার জন্য অনুরোধ করেন।

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) বলেন, প্রকাশিত ফলাফল ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। তবুও পরীক্ষার্থীদের আবেদনের বিষয়টি কমিশনকে অবগত করা হবে। কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটিই চূড়ান্ত। পৃথকভাবে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য গত বৃহস্পতিবার ১১৯ জন প্রার্থী সম্মিলিতভাবে পিএসসিতে আবেদন জমা দিয়েছিলেন।

আবেদনে বলা হয়, রাজধানী উচ্চবিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্যাস অ্যান্ড সিরামিকস কেন্দ্রে সমানসংখ্যক পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু রাজধানী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পাসের হার ৪০ আর গ্যাস অ্যান্ড সিরামিকস কেন্দ্রে পাসের হার ৬৮ শতাংশ। এমন বেশ কিছু বিষয়ের কারণে আবেদনকারীদের ধারণা, প্রকাশিত ফলাফলে অসংগতি রয়েছে।

গত বুধবার এই বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে ৫ হাজার ৩৭৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এই বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় চলতি বছরের ২৩ মে। প্রথম শ্রেণির এক হাজার ২২৬ জন গেজেটেড কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি ৩৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়। এতে অংশ নেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থী। প্রাথমিক প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় ৮ হাজার ৫২৩ জন উত্তীর্ণ হন।

পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, এবারের ৩৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় পদের তুলনায় উলে­খযোগ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়েছে। ১২শ পদের বিপরীতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে পুরো ফলাফল প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানে ভুল বা ত্রুটি থাকার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও পরীক্ষার্থীরা যেহেতু লিখিত আবেদন করেছে বিষয়টি কমিশনের কমিটির সভায় তোলা হবে। কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়