গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার বক্তব্য তথ্যভিত্তিক : সিইসি

আগের সংবাদ

জিয়া গণতন্ত্রের পূণঃপ্রতিষ্ঠাতা- এ বক্তব্য ধারণ করি: সিইসি

পরের সংবাদ

বিভেদ নয়, ঐক্য গড়ে তুলতে হবে: ফখরুল

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০১৭ , ৭:১৫ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৭ , ৭:১৫ অপরাহ্ণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা জানি এত সহজে সব কিছু হওয়ার কথা নয়। সেই কাজটাকে ঠিক যায়গায় পৌঁছানোর জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজকে কোনো বিভেদ নয়। আজকে একটা ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, জনতার ঐক্য। জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠলে তাহলেই আমরা গণতন্ত্রের জন্য সফল হবো।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, ২০১৪ সালের আগে সেই ঐক্যের দিকে প্রায় আমরা এগিয়ে গিয়েছিলাম। একেবারে সব দল মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। রীতিমত বিপ্লব হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা সফল হতে পারিনি, এই ফ্যাসিষ্ট সরকারের নির্যাতন নিপীড়ন যেটা ঢাকার মধ্যে হয়েছে। এজন্য সফল হতে পারিনি। হতে পারিনি বলেই যে আমরা পারবো না তা নয়।

নেতাকর্মীদেরকে উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদেরকে কাজ করতে হবে। লড়াই করতে হবে, সংগ্রাম করতে হবে। দলকে সংগঠিত করতে হবে। আমরা বিএনপিকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছি, এবং জনগণও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।

ফখরুল বলেন, আমরা সময় বলে আসছি বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই, ইতামধ্যেই ব্যর্থ রাষ্ট্র হয়ে গেছে। যেহেতু এখানে সব প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে ফেলে হয়েছে। সুতরাং এখানে কোনো কিছু আশা করা, সুস্থ, সুন্দর কিছু হবে আশা করা বাতুলতা ছাড়া কিছু নয়।

‘বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল, বিএনপি সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করেছে, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় গণতন্ত্র থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন, শুধু তাই নয় ৯৬ এ আওয়ামী লীগের যে আন্দোলন ছিল, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীকে একসঙ্গে মিলে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে হবে সেই আন্দোলনের ফলে যে জনমত সৃষ্টি হয়েছিল যে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়কের যে ব্যবস্থা তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সবসময় চেষ্টা করেছে। নিজের অবস্থান থেকে প্রয়োজনে সরে গিয়েও গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন। বিএনপির লক্ষ্যটি হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখনো বিশ্বাস করি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া সুষ্ঠু সুন্দর যে বিকাশ একটি রাষ্ট্রের তা সম্ভব নয়। যেখানে গণতন্ত্র নেই সেখানে কি হবে। গণতন্ত্রের জন্য কাজ করতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে হবে। সেই লড়াই সংগ্রামে থেকে কখনো বিএনপি পিছে থাকেনি।’

বিএনপি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর সংগ্রাম করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় খালেদা জিয়া সামনে দাড়িয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এক এগারো যে অবৈধ সরকার এসেছে সে অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধেও তিনি নিরবে আন্দোলন করেছেন। জেলে গেছেন, তৎকালীন সরকারের যে প্রস্তাবগুলো ছিল সেই প্রস্তাবগুলোর কাছে তিনি মাথা নত করেননি। তিনি বলেছেন, আগে তোমরা ক্ষমতা ছেড়ে দাও, নির্বাচন দাও, তারপর আমরা কথা বলবো। সেটা তিনি সেদিন মেনে নেনি। বেগম জিয়া আপস করেননি। আজকে দীর্ঘ নয় বছর আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে। এই নয়টি বছর সংগ্রাম করছেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির রক্ত গেছে, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, বিএনপির নেতা গুম হয়ে গেছে, টিপাইমুখ বাঁধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ইলিয়াস আলী গুম হয়েছে। সারাদেশে বহু যুবনেতা, ছাত্রনেতা নেতা গুম হয়েছে। ক্রসফায়ারে আমাদের বহু লোকের প্রাণ গেছে। লড়াই চলছে। এই লড়াইয়ে বিএনপি কিন্তু কখনো পিছপা হয়নি।

ফখরুল জানান, আমরা ২০৩০ সালের ভিশন দিয়েছি, নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠন করা যায় তার কথা বলেছি। সর্বশেষ নির্বাচন কমিশনে গিয়ে আমাদের কথাগুলো পরিষ্কারভাবে বলে এসেছি। আমি মনে করি গণতান্ত্রিক কাজ করতে যতগুলো সুযোগ থাকে এ নিয়ে কাজ করতে হবে। গণআন্দোলন অবশ্যই প্রয়োজন। গণঅভ্যুত্থান প্রয়োজন। এজন্য আমরা সবসময় তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে বলছি। প্রয়োজনে রুখে দাড়াতে বলছি। এটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

নেতাকর্মীদেরকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল আরও বলেন, আজকে কোনো হতাশার কথা নয়, আজকে কোনো দ্বিমত নয়। আজকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, আমার অধিকারকে ফিরিয়ে আনার জন্য। সংবিধান, এই দেশের রাষ্ট্র আমাকে যেটা দিয়েছে ভোট দেয়ার জন্য, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার অধিকার। সেই অধিকার আমাদেরকে ফিরিয়ে নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা আমার সন্মান স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ, মাহমুদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়