বিভেদ নয়, ঐক্য গড়ে তুলতে হবে: ফখরুল

আগের সংবাদ

দেশের মানুষ শান্তি ও উন্নয়ন চায় : নাসিম

পরের সংবাদ

জিয়া গণতন্ত্রের পূণঃপ্রতিষ্ঠাতা- এ বক্তব্য ধারণ করি: সিইসি

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০১৭ , ৭:১৮ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৭ , ৭:০৩ অপরাহ্ণ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পূণঃপ্রতিষ্ঠাতা সে বিষয়টি নিজে ধারন (ওন) করেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। বৃহষ্পতিবার নির্বাচন কমিশনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এর ফলে জিয়াউর রহমানকে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা’ বলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমালোচনার মুখে পড়া সিইসি কে এম নূরুল হুদা আবারও সেই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করলেন।

তিনি বলেন, দলগুলো যদি রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে নির্বাচনে না আসে তবে দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ ইসি নেবে না। তবে বিএনপি আগামী নির্বাচনে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কে এম নুরুল হুদা।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে টানা তিন মাস ধরে সংলাপের অভিজ্ঞতা জানাতে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, ‘জিয়াই বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুণঃপ্রতিষ্ঠাতা। আমি এটা ওন (ধারণ) করি। কাউকে খুশি করার জন্য বলিনি। তথ্যভিত্তিক কথা বলেছি’। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় নূরুল হুদা বলেন, ‘পঁচাত্তরের আগে গণতন্ত্র ছিল। পঁচাত্তর থেকে সাতাত্তর পর্যন্ত গণতন্ত্র ছিল না। জিয়াউর রহমান এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগসহ বহু দলকে নিয়ে নির্বাচনও করেন। এর মাধ্যমেই বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছিল’। এটা তথ্য ভিত্তিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত ১৫ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসে সিইসি নূরুল হুদা দলটির নেতা সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের গুণগান করেন। তিনি বলেন, ব্যক্তি হিসেবে এবং দলনেতা হিসেবে জিয়াউর রহমান চার বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তার হাত দিয়েই দেশে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা’ পায়।

বিএনপির সঙ্গে সংলাপে ওই বক্তব্যের কারণে ক্ষমতাসীন দলের অনেকের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় সিইসিকে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বৈরশাসক জিয়া তার অবৈধ ক্ষমতার বৈধতা পাওয়ার চেষ্টায় ১৯৭৭ সালে ‘প্রহসনের’ গণভোটের আয়োজন করেন। তাতে সাধারণ মানুষ ‘ ভোটাধিকার হারায়’ এবং সব গণতান্ত্রিক পরিবেশ ‘নষ্ট হয়ে যায়’। এর ধারাবাহিকতা চলে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর আরেক ‘স্বৈরশাসক’ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন পর্যন্ত।

এর তিন দিন পর কমিশনের সঙ্গে সংলাপে এস আওয়ামী লীগ এ বিষয়ে সিইসির কাছে ব্যখ্যা চেয়েছিল বলে বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে কী ব্যাখ্যা তারা পেয়েছেন, তা খোলাসা করেননি কাদের।
আওয়ামী লীগ কী ব্যাখ্যা চেয়েছিল জানতে চাইলে বৃহস্পতিবার সিইসি বলেন, ‘তা নয়। আমি যে বক্তব্য (আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে) দিয়েছিলাম, তাতেই এ নিয়ে আমার অবস্থান কী তা হয়ত উনারা স্পষ্ট হয়েছেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, সব দল নির্বাচনে আসবে তিনি আশা করেন। তবে দলগুলোকে নির্বাচনোর জন্য ইসি কোন উদ্যোগ নেবে না, এটি আমাদের কাজ নয়।

তিনি বলেন, যে কোন সরকারের অধীনে নির্বাচনে তাদের কোন সমস্যা হবার কথা নয়। তবে দলগুলো সংলাপে তিন ধরনের প্রস্তাবণঅ দিয়েছে। এর মধ্যে আছে সাংবিধানিক প্রস্তাবণা, আইন সংস্কার বিষয়ক ও কমিশনের করণীয় বিষয়। তবে সাংবিধানিক বিষয়টি সরাসরি ইসির কিছু করণীয় নেই। আমরা সংলাপে আসা প্রস্তাবণাগুলোকে একটি পুস্তিকা আকারে সবার মধ্যে দিয়ে দেব। এটি সরকারের কাছেও দেয়া হবে। এ ভাবে প্রস্তাব গুলো ইসি সরকারের কাছে তুলে ধরবেন বলে জানান তিনি। আর আইন সংস্কারের বিষয়ে কিছু প্রস্তাব রয়েছে এগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে।
সেনা বাহিনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রয়োজন ও প্রেক্ষিত বুঝে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করার বিষয়টি ইসি ভাববে। তবে তাদের আলাদা করে বিচারিক ক্ষমতা দেবার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না, এবিষয়টি সিআরপিসিতে উল্লেখ রয়েছে।

সীমানা পূণ নির্ধানের বিষয়ে তারা কিছু আইনী সংষ্কার আনছে জানিয়ে সিইসি বলেন, আমরা এবিষয়ে কিছু নতুন আইন আনতে চাইছি। এগুলো নিয়ে আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবো। তবে আগামীর ডিসেম্বরের মধ্যে ৪০ টি দলের সংলাপে দেয়া প্রস্তাবণা নিয়ে একটি পুস্তিকা তৈরি করার কাজ শেষ হবে। পরে এগুলো সরকার সহ সকল দলগুলোর মধ্যে দেয়া হবে।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে অন্য ৪ কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব, উপসচিবসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়