ইন্দোনেশিয়ায় ২ বছরে ৫০০ ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত

আগের সংবাদ

রেয়ানের হ্যাটট্রিকে উড়ে গেল ব্রাজিল, ফাইনালে ইংল্যান্ড

পরের সংবাদ

ভোলায় নতুন গ্যাসক্ষেত্র জ্বালানি খাতে সুসংবাদ

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০১৭ , ৮:৫০ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৫, ২০১৭ , ৮:৫২ অপরাহ্ণ

ভোলার এই নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে তাতে সন্তোষজনক মজুদ নিশ্চিত হলে দক্ষিণাঞ্চল শিল্প স্থাপনের জন্য আদর্শ স্থানে পরিণত হবে। গ্যাসের ওপর নির্ভর করে দ্বীপজেলা ভোলায় দেশি-বিদেশি কোম্পানি বিনিয়োগে উৎসাহী হবে। তাতে জেলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। আর এসব শিল্পকারখানা হলে জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যায়।

ভোলায় আরেকটি গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। বোরহানউদ্দিন উপজেলার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের কাছেই নতুন এই গ্যাসের সন্ধান মিলছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) আবিষ্কৃত এই গ্যাসক্ষেত্রে ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটা দেশের জন্য সুসংবাদ। দেশ যখন গ্যাসসহ জ্বালানি সংকটে ভুগছে তখন গ্যাস মজুদের সন্ধান আশা জাগানিয়া।

নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের বিষয়টি উপস্থিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জানিয়েছেন। দেশের গণমাধ্যমে গুরুত্বসহ প্রকাশিত হয়েছে এ খবরটি। এর আগে ১৯৯৫ সালে প্রথম ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। এবার ওই গ্যাসক্ষেত্র থেকে তিন কিলোমিটার দূরে উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামের শাহবাজপুর ইস্ট-১ গ্যাসক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এখানে গ্যাসের সম্ভাব্য মজুদ ৭২০ বিলিয়ন ঘনফুট।

বাপেক্স জানিয়েছে, ভোলায় এর আগে পাওয়া শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের চারটি ক‚প থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। তবে বর্তমানে জেলায় চাহিদার বিপরীতে ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। শাহবাজপুর ও নতুন আবিষ্কৃত শাহবাজপুর ইস্ট-১ গ্যাসক্ষেত্রে মোট প্রায় এক ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে বলে ধারণা করছে বাপেক্স। ভোলার এই নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে তাতে সন্তোষজনক মজুদ নিশ্চিত হলে দক্ষিণাঞ্চল শিল্প স্থাপনের জন্য আদর্শ স্থানে পরিণত হবে।

গ্যাসের ওপর নির্ভর করে দ্বীপজেলা ভোলায় দেশি-বিদেশি কোম্পানি বিনিয়োগে উৎসাহী হবে। তাতে জেলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। আর এসব শিল্পকারখানা হলে জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যায়। ভোলার নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের কৃতিত্ব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের। তিন মাস আগে শাহবাজপুর ইস্ট-১ ক‚পে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেছে বাপেক্স। বাপেক্স কর্মকর্তাদের আশা চলতি মাসের শেষ দিকেই তারা প্রকৃত মজুদ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারবে। শাহবাজপুরে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার দেশের জন্য আশার আলো বয়ে আনুক এমন প্রত্যাশা করছি।

আমরা সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতায় দেখছি, অনেক আশা নিয়ে নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কারের খবর জানানো হয়। কিন্তু যে পরিমাণ মজুদের কথা বলা হয়, সে অনুপাতে উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। উত্তোলনের ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা আরো বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়াও দরকার। মজুদ এবং প্রাপ্তির ব্যবধান দূর করার দিকে নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ দেয়া জরুরি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়