উসমানের বোলিং তোপে লণ্ডভণ্ড শ্রীলঙ্কা

আগের সংবাদ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশিত

পরের সংবাদ

তামাকের ওপর সারচার্জের টাকা তামাক নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত সঠিক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০১৭ , ৬:৩৩ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০১৭ , ৭:৪০ অপরাহ্ণ

গত ১৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা ৩০০ কোটি টাকা তামাক নিয়ন্ত্রণেই ব্যবহারের একটি নীতির খসড়া অনুমোদন করেছে। তামাকজাত পণ্যের ওপর কর থেকে প্রতি বছর সরকারি কোষাগারে আমরা পাই ৩০০ কোটি টাকা। এই টাকা এখন তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৪টি খাতে এই নীতির আওতায় ব্যবহার করা হবে। এই সিদ্ধান্ত আমাদের সবার জন্য একটি আনন্দের সংবাদ। উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে ১ শতাংশ হারে এই সারচার্জ নেয়া যায়। এ অর্থ আগেও ব্যয় হতো। তবে এখন এই অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। চার পৃষ্ঠার এই নীতিমালায় আদায়কৃত সারচার্জ ব্যয়ে ১৪টি খাত নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি বছর এ খাতগুলোতে ওই টাকা ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে তামাক চাষিদের ভর্তুকি প্রদান ও অন্য ফসল চাষে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জন, তামাকজনিত সংক্রামক রোগ প্রতিরোধসহ নানা কারণে এ নীতিমালা তৈরি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সাল থেকে তামাকজাত পণ্যের ওপর এক শতাংশ হারে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপ করে সরকার। এরপর ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ এই তিন অর্থবছরে সারচার্জ বাবদ আদায় হয়েছে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা। তবে নীতিমালার অভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এ অর্থ তিন বছর ধরে অলস পড়ে আছে। স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবস্থাপনা নীতিতে এ তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালনাসহ জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল-এনসিটিসির কার্যক্রম পরিচালনা, গণমাধ্যমে প্রচারণা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে টোব্যাকো ট্যাক্স সেলের (টিটিসি) কার্যক্রম পরিচালনা, গবেষণা, কুইট লাইন স্থাপন, তামাকজনিত অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান, তামাক চাষিদের বিকল্প ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করা ও স্টেকহোল্ডারদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্যয় করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ (৪৩%) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ সিগারেট, বিড়ি ও ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন করেন। ৫৮% পুরুষ এবং ২৯% নারী ধোঁয়ামুক্ত বা ধোঁয়াহীন তামাক সেবন করেন। নারীদের ২৮% এবং পুরুষদের ২৬% ধোঁয়াহীন তামাক ব্যবহার করেন। বেশ ক’বছর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ঞড়নধপপড় করষষং’ অর্থাৎ ‘তামাক মৃত্যু ঘটায়’ এ ধরনের স্লোগান দিয়ে সারা বিশ্ববাসীকে জানাতে চেয়েছে পৃথিবীতে তামাকের কারণে যে মৃত্যু হয় তা অন্য যেকোনো কারণে মৃত্যুর চাইতে বেশি। গবেষণায় বলা হয়েছে যা হৃদরোগ, শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, এইডস, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া, প্রসবকালীন মৃত্যু, আত্মহত্যা, নরহত্যা, দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ইত্যাদি সব মৃত্যুকে একত্রিত করলে যত সংখ্যা হয় তার চেয়েও বেশি মৃত্যু হয় তামাকজনিত কারণে। তামাকের কারণে সারা বিশ্বে প্রতি বছরে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ অর্থাৎ প্রতি ৬ সেকেন্ডে ১ জন। বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ, পঙ্গুত্ববরণ করে ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ এবং ১২ লাখ মানুষ তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত থাকে। ফলে বাংলাদেশে তামাকের কারণে মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। বাংলাদেশে হৃদরোগে আক্রান্ত মৃত্যু ৩০%, ক্যান্সারজনিত মৃত্যু ৩৮%, ফুসফুসে য²ার কারণে মৃত্যু ৩৫% এবং শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগে মুত্যু ২৪ শতাংশের জন্য দায়ী ধূমপান (বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা, ২০১৩)।

বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২০০৪ সালে ছিল জিডিপির ৩%-এর বেশি। এর মধ্যে ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে ধূমপানজনিত রোগের চিকিৎসায় এবং ধূমপানজনিত অসুস্থতার কারণে জাতীয় উৎপাদনশীলতায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এ দেশে তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণায় দেখা যায় ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সের প্রায় ৭% কিশোর-কিশোরী তামাকপণ্য ব্যবহার করে। অন্যদিকে পৃথিবীতে যেসব দেশে সিগারেটের মূল্য অত্যন্ত কম বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম, বিড়ি আরো সস্তা। এ দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন দুধ, ডিম ও চালের তুলনায় তামাকপণ্য সস্তা।

গ্লোবাল সার্ভে অনুযায়ী গত ৭ থেকে ১০ বছরে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমেছে। এটি আমাদের জন্য স্বস্তিকর। বর্তমানে কর, ধূমপানমুক্ত এলাকা, জরিমানা, চাষ বন্ধ ও সচেতনতা কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি করলে তামাকের ব্যবহার হ্রাস পাবে। যার মধ্যে এফসিটিসি বাস্তবায়ন অন্যতম।

তামাক কোম্পানির মাধ্যমে যেসব তামাকজাত দ্রব্য মানুষের রোগ সৃষ্টি করে এবং অকালে মানুষ মৃত্যুবরণ করে তা রোধ করতেই এই সারসার্জ ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। তামাকজাতদ্রব্য যতদিন বন্ধ করা না হবে ততদিন তাদের এই সারচার্জ দিয়েই মানুষের জীবন রক্ষা করার চেষ্টা করা হবে। এটা নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। তবে সচেতনতার বিকল্প নেই। মানুষ যতদিন না বুঝতে শিখবে এই তামাক বস্তুটি তার নিজের মৃত্যুর কারণ বা অন্যের মৃত্যুর কারণ ততদিন হয়তো আমরা এইভাবেই মানুষের জীবন বাঁচাতে সচেষ্ট হব।

অবশেষে মন্ত্রিসভা বৈঠকে চ‚ড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে ‘স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্য

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়