রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে আগুন

আগের সংবাদ

`সিদ্ধার্থ খুবই ভালো বন্ধু' - জ্যাকলিন

পরের সংবাদ

নেপালে তীব্র হচ্ছে ভারত বিরোধিতা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: অক্টোবর ১৯, ২০১৭ , ২:০২ অপরাহ্ণ

নির্বাচনের মুখে দাঁড়ানো নেপালে প্রবলভাবে বাড়ছে চীনের আধিপত্য। সেইসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভারতবিরোধী মনোভাবও। এ পরিস্থিতিতে কাঠমান্ডুকে কীভাবে কাছে টানা যায়, তার কৌশল রচনায় এখন ব্যস্ত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আগামী মাসের গোড়ায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেপাল যাওয়ার কথা। মোদির সেই সফরকে রাজনৈতিকভাবে সফল করে তুলতে কোমর বাঁধছে নয়াদিল্লি। আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথা সাউথ ব্লকের রক্তচাপ বাড়ার অন্যতম কারণ সম্প্রতি সেদেশের তিনটি কমিউনিস্ট দল (ইউএমএল, মাওবাদী, নয়াশক্তি) এই প্রথম একসঙ্গে জোট বেঁধে ভোটে নামছে। নভেম্বরে সেদেশে নির্বাচন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, কেপি ওলি, প্রচণ্ড এবং বাবুরাম ভট্টরাইয়ের নেতৃত্বাধীন এ তিনটি দলকে একসূত্রে গাঁথার কাজটি আসলে করছে বেইজিং। ভারত-বন্ধু হিসেবে পরিচিত নেপালি কংগ্রেস এর ফলে নেপালে জমি হারাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইউএমএল নেতা কেপি ওলি নেপালের প্রধানমন্ত্রী থাকার সময়েই নয়াদিল্লির সঙ্গে কাঠমান্ডুর সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ হয়েছে। নেপালের সংবিধান পরিষদ নতুন সংবিধান প্রণয়নের পরই শুরু হয়েছে প্রবল বিতর্ক এবং বিক্ষোভ। ভারতীয় বংশোদ্ভূত দেশীয় এবং তারু সম্প্রদায়ের বিক্ষোভের পেছনে নয়াদিল্লির হাত রয়েছে বলে প্রকাশ্যেই প্রচার করেছে ওলি সরকার। প্রচণ্ডের সঙ্গেও সাউথ ব্লকের সম্পর্কে তিক্ততা এসেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের দাবি, প্রচণ্ড বরাবরই চীনের হাতে তামাক খেয়েছেন- এমন তথ্য ভারতের কাছে রয়েছে। প্রচণ্ডের সঙ্গে এ মুহূর্তে বেইজিংয়ের যোগাযোগ কতটা গভীর, সেদিকে গোপনে নজর রাখছে দিল্লি। আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, গত এক বছর ধরেই নেপালে চীনের প্রভাববৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা বেড়েছে সাউথ ব্লকের। দু’দেশের মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া, ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ প্রকল্পে চীন-নেপাল সহযোগিতা, দরপত্র না ডেকেই চীনা সংস্থাকে নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যাদেশ দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয় দিল্লি।

ডোকলাম সংকটের সময় নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত চীনের অন্যতম শীর্ষ কূটনীতিক বৈঠক করেছিলেন নেপালি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে। কাঠমান্ডুকে চীন ক্রমাগত বুঝিয়ে চলেছে, অন্য দেশের সার্বভৌমত্বে নাক গলাচ্ছে ভারত।

পরিস্থিতি যাতে আরও বিগড়ে না যায় দিল্লির সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালু রয়েছে বেশকিছুদিন ধরেই। ‘বিমসটেক’ দেশগুলোর বিদেশমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দিতে কাঠমান্ডু গিয়ে নেপালকে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বড় রকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে এসেছিলেন সুষমা স্বরাজ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্তার কথায়, পরিকাঠামো, এলপিজি সরবরাহ, জলবিদ্যুৎ, শিল্প এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো হবে। মেচি নদীর ওপর সেতু তৈরির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হবে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন কাঠমান্ডু সফরেও নেপালের জন্য একগুচ্ছ উপহারের কথা ভাবছে নয়াদিল্লি।