সোমবার কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা

আগের সংবাদ

কলেরা নির্মূলে বৈশ্বিক উদ্যোগে যোগ দিয়েছে আইসিডিডিআর,বি

পরের সংবাদ

লাস ভেগাসে হামলা

প্রকাশিত: অক্টোবর ৪, ২০১৭ , ৯:৫৫ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০১৭ , ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে বন্দুকধারীর হামলায় এত বেশিসংখ্যক মানুষ হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ‘ম্যাস শুটিং’ হিসেবে বর্ণনা করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো। আমরা এই পৈশাচিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি।

গত রোববার রাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন শহর লাস ভেগাসে কনসার্ট চলাকালে এক বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫৯ জন আর আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক। যুক্তরাষ্ট্রের সা¤প্রতিক ইতিহাসে বন্দুকধারীর হামলায় এত বেশিসংখ্যক মানুষ হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের সা¤প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ‘ম্যাস শুটিং’ হিসেবে বর্ণনা করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো। আমরা এই পৈশাচিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি।
এই প্রাণঘাতী ঘটনার পর আবারো প্রশ্ন উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে। জানা যায়, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকের ব্যবহার হচ্ছে সর্বাধিক। প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কেবল বন্দুক সন্ত্রাসের বলি হচ্ছেন ১১৩৮৫ জন। ২০১৬ সালে ফ্লোরিডায় ওরল্যান্ডর একটি নাইট ক্লাবে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হয় ৪৯ জন। গেল ৩০ বছরের মধ্যে এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা। এর আগে ২০০৭ সালে ভার্জিনিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে হামলায় নিহত হয় ৩২ জন। ২০১২ সালে কানেকটিকাটের স্যান্ডি হুক স্কুলে ২০ বছর বয়সী এক যুবকের গুলিতে মৃত্যু হয় শিশুসহ ২৭ জনের। আর ১৯৯১ সালে টেক্সাসের কিলেনে হত্যার শিকার হন ২৩ জন। তবে সব হামলার ভয়াবহতা ছাপিয়ে গেছে লাস ভেগাসের ঘটনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, অস্ত্রের সহজলভ্যতার কারণে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। পরিসংখ্যান বলছে, পৃথিবীর অন্য সব দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পিউ রিসার্চ সেন্টার সার্ভের মতে, দেশটিতে ২৭০ মিলিয়ন থেকে ৩১০ মিলিয়ন অস্ত্র রয়েছে সাধারণের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩১৮.৯ মিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় সবার কাছেই অস্ত্র রয়েছে। এমনকি নেভাডায় নাগরিকরা সহজে অস্ত্র বহন করতে পারে এবং অস্ত্রের মালিক হিসেবে তাদের নিবন্ধনও নিতে হয় না। দোকান থেকে অস্ত্র কেনার সময় ক্রেতার তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকলেও সেই ক্রেতা আবার অন্যের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে দিতে পারেন। এই অস্ত্র আইন কঠোর করার দাবি দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিভক্তিও রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বন্দুক আইনে রাশ টানার চেষ্টা করলেও সফল হননি। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার বন্দুক বহন অধিকারের পক্ষে। তবে একের পর এক এ ধরনের বন্দুক হামলা এবং হতাহতের পর এ নিয়ে নতুনভাবে সবারই চিন্তা করা উচিত বলে আমরা মনে করি। জীবন বাঁচাতে পদক্ষেপ নেয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি। তা না হলে এ ধরনের হামলা চলতেই থাকবে।
লাস ভেগাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। অন্য অনেক জঙ্গি হামলার ঘটনার মতো জঙ্গি সংগঠন আইএস এ ঘটনার দায় স্বীকার করলেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে। আমরা মনে করি, লাস ভেগাসে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হওয়া জরুরি। সন্ত্রাসী যে বা যারাই হোক, তাদের পরিচয় যা-ই হোক, এরা মানবতার বিরুদ্ধে বিবেকবর্জিত শত্রæ। রক্তপায়ী বন্দুকধারী সন্ত্রাসীদের রক্তাক্ত তান্ডবে বিশ্বের দেশে দেশে মানুষের শান্তি, স্থিতি ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিরাপদহীন হয়ে উঠেছে। এদের রুখতেই হবে। খোদ আমেরিকাতেই সন্ত্রাসীরা তাদের কিলিং মিশন বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে জননিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ অবস্থায় প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্রের বেপরোয়া ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হতে হবে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে। বিশ্বের কোনো দেশ কোনো শহরই আজ আর সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কামুক্ত নয়। বিশ্বজুড়ে এই হামলা হত্যাকান্ডগুলোর যোগসূত্র থাকা অস্বাভাবিক নয়। কাজেই এ ধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আরো সোচ্চার, আরো জোটবদ্ধ ভ‚মিকা নেয়া দরকার। দরকার এসব সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়