১৫ দিনের মধ্যেই নিয়োগ হবে ৮ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

সেবিকা দেবনাথ : কোভিড-১৯ সংক্রমণ মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরাই সম্মুখসারির যোদ্ধা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে- দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার আওতায় প্রতিটি হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা প্রতি পাঁচজন রোগীর জন্য দিনে ছয়জন করে চিকিৎসক ও নার্সের প্রয়োজন। আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে ইতোমধ্যেই দেশের সাত শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে এক চিকিৎসকের। আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা আরো কয়েকশ স্বাস্থ্যকর্মী কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হলে চিকিৎসাসহ কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ মিলিয়ে প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় কর্মবিরতিতে থাকতে হয়। এছাড়া তাদের সংস্পর্শে আসা অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়। এতে করে ছোটখাটো অনেক হাসপাতাল এবং বড় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যা এই মুহূর্তে স্বাস্থ্যসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার দুই হাজার চিকিৎসক ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যেই এ সংক্রান্ত নথিপত্র পাঠানো হয়েছে রাষ্ট্রপতির কাছে।

গতকাল সোমবার বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতো বিনিময় করার সময়ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই জনবল নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার জন্য নতুন করে আরো দুই হাজার চিকিৎসক ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হবে। এরইমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমি নিজেই মিটিং করে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব ঠিকঠাক করে দিয়েছি। এই চিকিৎসক ও নার্সদের করোনা চিকিৎসার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বিদেশ থেকে দক্ষ লোক এনেও আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাব। প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা চিকিৎসা সেবা দেবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সচিবের সঙ্গে জনপ্রশাসন সচিব ও অর্থসচিবের বৈঠক হয়েছে। আট হাজার জনবল দ্রুত নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাব হস্তান্তরসহ কত দ্রুত এবং কীভাবে এই জনবল নিয়োগ দেয়া যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ৩৯তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ (কিন্তু সুপারিশপ্রাপ্ত নয়) কয়েক হাজার চিকিৎসককে এখনো নিয়োগ দেয়া হয়নি। মেধাক্রম অনুসারে তাদের এখন নিয়োগ দেয়া হবে। ২০১৮ সালে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নার্সদেরও নিয়োগ দেয়া হয়নি। তাদেরকেই এখন নিয়োগ দেয়া হবে।

কত দিনের মধ্যে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে? এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, নিয়োগের প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। আশা করছি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই আমরা এই আট হাজার জনবল নিয়োগ দিতে সক্ষম হবো।

এ প্রসঙ্গে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু জনবল নিয়োগ দিলেই হবে না। করোনায় আক্রান্তদের যারা চিকিৎসা সেবা দেবেন সেই সম্মুখ যোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়টিও আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj