দেশে করোনা আক্রান্ত প্রায় আড়াইশ নার্স : বেসরকারি হাসপাতাল তথ্য গোপন করছে

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : করোনা চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় প্যাথলজি পরীক্ষার পাশাপাশি প্রশিক্ষিত নার্সদেরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার আওতায় প্রতিটি হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা প্রতি পাঁচজন রোগীর জন্য দিনে ছয়জন করে চিকিৎসক ও নার্সের প্রয়োজন। করোনা আক্রান্তদের এবং সাধারণ রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছেন নার্সরা। তবে অভিযোগ আছে, ব্যবসায়িক স্বার্থে নিজ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নার্সদের কোভিড-১৯ আক্রান্তের খবর গোপন করছে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে করে নার্সসহ হাসপাতালে কর্মরতদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এসব হাসপাতালের তালিকায় রয়েছে ইউনাইটেড, স্কয়ার, ইমপালস, বিআরবি গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের মতো নামিদামি হাসপাতালের নাম।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরবি গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের এক নার্স জানান, এই হাসপাতালের ১৩ জন নার্স করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। কিন্তু এই তথ্য তারা বাইরে প্রকাশ করছে না। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশনের (বিএনএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৪৭ জন নার্স। আর কোয়ারেন্টাইনে আছেন পাঁচ শতাধিক নার্স। এরমধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত আছেন ৭০ জন নার্স। যেসব বেসরকারি হাসপাতালের নার্সরা কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছে সেগুলো হলো- বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, এভার কেয়ার (সাবেক অ্যাপোলো) হাসপাতল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, বিআরবি হাসপাতাল, ইমপালস হাসপাতাল, আজগর আলী হাসপাতাল, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইনসাফ বারাকা হাসপাতাল, ডেল্টা হাসপাতাল, ইবনে সিনা হাসপাতাল ধানমন্ডি, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, আদ-দ্বীন মেডিকেল হাসপাতাল, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গাজীপুরের কেপিজে হাসপাতাল।

বিএনএর কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জুয়েল ভোরের কাগজকে বলেন, এই দুর্যোগ মোকাবিলায় চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্সরাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

কিন্তু আমাদের প্রতি এখনো বৈষম্য করা হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত নার্সরা করোনা আক্রান্ত হলেও তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করছে না। চাকরি হারানোর ভয়ে ওইসব নামিদামি হাসপাতালে কর্মরত নার্সরা মুখও খুলছে না।

এমন অভিযোগ সত্য বলে মনে করেন এনজেন্ডার হেলথ বাংলাদেশের দেশীয় কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ডা. শেখ নাজমুল হুদা। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যে নার্সরা কাজ করছেন তাদের অবস্থা করুন। করোনা আক্রান্ত ওই নার্সদের দায়িত্ব নিচ্ছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দেখা গেছে, যারা করোনা আক্রান্তদের সেবা দিয়েছে তাদের চেয়ে যারা সাধারণ রোগীর সেবা দিয়েছে তারাই করোনাতে বেশি সংক্রমিত হয়েছেন। এর কারণ হচ্ছে করোনা চিকিৎসায় যারা সরাসরি জড়িত তাদের যতটা গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সাধারণ রোগীদের যারা সেবা দিচ্ছেন তাদের তেমন গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। এটি ঠিক নয়। সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা নেয়ার পর তাদের নমুনা পরীক্ষা করে জানা যাচ্ছে তারা করোনা আক্রান্ত। তাই মানসম্মত পিপিই ও এন-৯৫ মাস্ক সব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য নিশ্চিত করতে হবে।

সোসাইটি ফর নার্সেস সেফটি এন্ড রাইটসের মহাসচিব সাব্বির মাহমুদ তিহান বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের নার্সরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অনেক হাসপাতালে নার্সদের ন্যূনতম সুরক্ষা সামগ্রী দেয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কতৃপক্ষকে খুব দ্রুত সমস্যা সমাধানের অনুরোধ করছি।

এদিকে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে বেশ কিছু হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন দুই হাজার চিকিৎসক এবং ছয় হাজার নার্স নিয়োগের কাজ চলছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj