বাঁধ নির্মাণ নিয়ে বিরোধ : নীলফামারীতে পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষে আহত ৩

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

নীলফামারী প্রতিনিধি : ভাঙন ঠেকাতে বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে জেলায় পুলিশ-গ্রামবাসী সংঘর্ষে পুলিশসহ ৩ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের ইটাখোলা গ্রামে এ সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানার পুলিশের ওসি (তদন্ত) মো. মফিজুল হকসহ ২ গ্রামবাসী আহত হন। আহতদের মধ্যে ২ গ্রামবাসী ইলিয়াছ হোসেন ও তার স্ত্রী তাহমিনা বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং পুলিশ কর্মকর্তা মফিজুল ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি মো হারুন-অর রশীদ জানান, ঈদগাহ ময়দানের জায়গা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় পরস্পরের মধ্যে মামলাও হয়েছে। সকালে দুপক্ষের মধ্যে দ্ব›দ্ব শুরু হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে এক নারী মাটিতে পড়ে যান। উত্তেজিত এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কির একপর্যায় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মফিজুল হক সামান্য আহত হন। তাকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া চারালকাটা নদী সম্প্রতি খননের ফলে ভাঙনের মুখে পড়ে গ্রামের ঈদগাহ মাঠ। সেটি রক্ষায় গত ২১ এপ্রিল গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করতে গেলে মাঠের মালিকানা দাবি করে তাতে বাধা দেন ওই গ্রামের তছলিম উদ্দিনসহ তার লোকজন। সেদিন দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আলমগীর হোসেনসহ বাঁধ নির্মাণের পক্ষের ৪ জন আহত হন। এ ঘটনায় পরদিন আলমগীর হোসেন থানায় মামলা করলে তছলিম উদ্দিনও পাল্টা মামলা করেন বলে স্থানীয়রা জানান। সোমবার এলাকাবাসী পুনরায় বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষ তছলিম উদ্দিন তার মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ফোন করে ডেকে আনেন। বাঁধ নির্মাণকারীদের পক্ষের আলমগীর হোসেন বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে তছলিম উদ্দিনের পক্ষ অবলম্বন করে স্থানীয়দের ওপর নির্বিচারে লাঠিপেটা শুরু করেন।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj