চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান : পান-সুপারির গুদামে আদা!

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

চট্টগ্রাম অফিস : সিন্ডিকেট ব্যবসার মাধ্যমে আদার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা গত কয়েকদিনে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আমদানিকারক, আড়তদার ও ব্রোকারদের তৈরি করা সিন্ডিকেট ৯০ থেকে ১০০ টাকা পাইকারি মূল্যের আদা ২৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করে। যা খুচরা বাজারে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়। গত ২৬ এপ্রিলও এই আদা খুচরা বাজারে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে চাক্তাই খাতুনগঞ্জ এলাকায় জেলা প্রশাসনের অভিযানে আদা কারসাজির নেপথ্যের নায়ক আমদানিকারকদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে।

প্রশাসনের অভিযানে চট্টগ্রামে আড়তদার শাহ আমানত ট্রেডার্স, একতা ট্রেডার্স, শাহাদাত ট্রেডার্স এবং মাহবুব খান সওদাগরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই চার আড়তদারের সঙ্গে সম্পৃক্ত আমদানিকারক আজাদ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই আমদানিকারকের লাইসেন্স বাতিলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এ ব্যাপারে গতকাল খাতুনগঞ্জ এলাকায় আদার আড়তে অভিযান চালানো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযানে যে ৪ জন আড়তদারকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে তারা আমদানিকারক আজাদ সিন্ডিকেটের লোক বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। আজাদ সিন্ডিকেটের আমদানি লাইসেন্স বাতিল করতে ডিসির মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ৩২ জন আমদানিকারক আড়তদার ও ব্রোকারদের সঙ্গে ফোনে ফোনে যোগসাজশের মাধ্যমে আদার দাম বাড়াচ্ছেন। তারা গোপনীয় জায়গায় আদা মজুত করে আদার কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন। জেলা প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন মার্কেটে টানা কয়েক ঘণ্টার অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম। এ বিশেষ অভিযানে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন কাফিউন নাহারের টিম এবং সিএমপি সদস্যরাও ছিলেন। গোপন সংবাদে খাতুনগঞ্জের বশির মার্কেটে আড়তদার শাহ আমানত ট্রেডার্সে অভিযান চালান হয়। প্রশাসন আড়তের মালিক তৈয়ব আলীর কাছে আদা বিক্রির কাগজ দেখতে চাইলে তিনি আদা বিক্রি হয় না বলে দাবি করেন।

এসময় পাশের শুক্কুর আলীর পান-সুপারির গোডাউনে অভিযান চালিয়ে মজুত করে রাখা প্রায় ১২ টন আদার সন্ধান পাওয়া যায়। শুক্কুর আলী এইসব আদা শাহ আমানত ট্রেডার্সের বলে জানালে আদার আড়তদার তৈয়ব আলীর কারসাজি ধরা পড়ে। আমদানির কাগজ দেখে ভ্রাম্যমাণ আদালত জানতে পারে মিয়ানমার থেকে কেজিপ্রতি ৮৪ টাকায় কেনা এসব আদা ২৩০-২৫০ টাকায় বিক্রি করছেন আড়তদার তৈয়ব আলী। তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কেজিপ্রতি পাইকারি মূল্য ১২০ টাকায় বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়।

শাহ আমানত ট্রেডার্সের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত খাতুনগঞ্জের একতা ট্রেডার্স, শাহাদাত ট্রেডার্স এবং মাহবুব খান সওদাগরের আড়তে অভিযান চালায়। এ অভিযানে ৮০-৯০ টাকায় কেজিপ্রতি আদা কিনে ২৩০-২৫০ টাকায় বিক্রির প্রমাণ পায় আদালত। অভিযুক্ত একতা ট্রেডার্স ও শাহাদাত ট্রেডার্স প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে এবং মাহবুব খান সওদাগরকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj