ঝুঁকিপূর্ণ সাতকানিয়া : সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের ৬ জন করোনা আক্রান্ত

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৫৫। চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলায় করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে ভয়াবহরূপে দেখা দিয়েছে সাতকানিয়া উপজেলায়। চট্টগ্রামে শনাক্ত হওয়া মোট ৫৫ জনের মধ্যে ১৫ জন হলেন সাতকানিয়ার। একই সঙ্গে করোনা পজিটিভের মধ্যে পুলিশ সদস্য রয়েছেন ৭ জন। তাদের মধ্যে ৬ জনই ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।

সাতকানিয়ায় প্রথম করোনায় আক্রান্ত হন সিরাজুল ইসলাম। তার মাধ্যমে এলাকার অন্যরা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপালন করা করোনা পজিটিভ এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে আরো ৬ জন সংক্রমিত হন।

গত রবিবার ১০১টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ৭ এবং লক্ষীপুর জেলার ৩ জন শনাক্ত হন। চট্টগ্রামের শনাক্ত হওয়া ৭ জনের ৬ জনই সাতকানিয়ার। তারা মাদ্রাসা ইউনিয়নের রূপনগরের একই পরিবারের। আক্রান্ত আরেকজন নগরীর দামপাড়ার পুলিশের এক সদস্য।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নুর-ই-এলাহী বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে প্রথম মৃতব্যক্তি হলেন সাতকানিয়ার ইছামতি এলাকার ৬০ বছরের সিরাজুল ইসলাম। গত ৯ এপ্রিল মারা যাওয়ার দুদিন পর জানা যায় তিনি করোনা সংক্রমিত ছিলেন। কিন্তু তার আগে স্বাভাবিক মৃত্যুর মতো তার দাফন সম্পন্ন হয়, আত্মীয়স্বজনও আসে। আর এতেই ছড়িয়ে পড়ে করোনা রোগীর সংখ্যা। সাতকানিয়ায় এ পর্যন্ত ১৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জন সিরাজুল ইসলামের সংস্পর্শে এসেছেন এবং তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য।

সাতকানিয়ায় করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হওয়া বাকি দুজনের একজন ১৯ বছর বয়সী যুবক। ১২ এপ্রিল শনাক্ত হওয়ার ৩ দিন আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে সাতকানিয়ায় ফেরেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে ফেরার পর তার সংস্পর্শে আসা এক বন্ধুও করোনা পজেটিভ হন।

সিএমপির ট্রাফিক উত্তর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ট্রাফিক সদস্যরা সরাসরি বেশি মানুষের সংস্পর্শে আসেন। তাই ঝুঁকিটা তাদের একটু বেশি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের যে ট্রাফিক সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের সবাই যে মাঠে কাজ করতে গিয়ে সংক্রমিত হয়েছেন, তা নয়। একজন বাইরে থেকে সংক্রমিত হয়েছেন। বাকিরা তার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন। আক্রান্ত ৬ জন একই ব্যারাকের, একই রুমের।

চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে এ পর্যন্ত ২ হাজা ৫৪২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ৯৪ জনের। তার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলার ৫৩ জন।

এছাড়া লক্ষীপুরের ৩২, নোয়াখালীর ৪, বান্দরবানের ৩ ও ফেনীর ২ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত পাঁচজন মারা গেছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন মোট ১৩ জন। এখনো আইসোলেশনে আছেন ২৮ জন।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj