সংসদ সদস্যের চেষ্টায় : গুরুদাসপুরে বন্ধ হলো অবৈধ ১৬ পুকুর খনন

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি : নাটোরের গুরুদাসপুরে পুকুর খননকারী মালিকদের যন্ত্রপাতি ভেকুসহ যাবতীয় মেশিনারিজ একাই তছনছ করে ফেললেন স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস। গত রবিবার দিনব্যাপী উপজেলার ধারাবারিষায় ৪টি, বিয়াঘাটে ১০টি, চাপিলায় ২টিসহ মোট ১৬টি পুকুর খনন বন্ধ করা হয়েছে। এতে উপজেলার খামার পাথুরিয়ার নৌপুলিশ সদস্য ছানোয়ার হোসেনের পুকুরও রয়েছে। এ সময় পুকুর কাটার ভেকু, ট্রাকসহ যাবতীয় যন্ত্রপাতি দাঁড়িয়ে থেকে ধ্বংস করান সাংসদ। বাকিগুলো থানায় নিয়ে আসার জন্য গুরুদাসপুর থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কিছুদিন ধরে স্বার্থান্বেষী মহল সুযোগ বুঝে পুকুর খননকে কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছিল লাখ লাখ টাকা। ‘জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না’ এমন সরকারি নির্দেশনা থাকলেও নাটোরের গুরুদাসপুরে ৩ ফসলি কৃষিজমিগুলোকে কেটে খনন করা হচ্ছিল পুকুর। রাস্তাঘাট নষ্ট এবং ধুলাবালিতে পরিবেশও নষ্ট হচ্ছিল। এমন খবর কিছু সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তা স্থানীয় সাংসদের নজরে আসে। বৈশি^ক সমস্যা করোনার মাঝেও তিনি নেমে পড়েন পুকুর খনন বন্ধের কাজে। প্রথম দিনেই উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের ১৬টি পুকুর খনন বন্ধ করে দেন। সেই সঙ্গে পুকুর খননের যন্ত্রপাতি জব্দ করান।

স্থানীয়রা জানান, পুলিশ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই পুকুর খনন চলছিল। এসব নাটক দেখে আমরা অভ্যস্ত। সকালে বন্ধ, রাতে খনন। আবার রাতে বন্ধ দিনে খনন। জানি না এগুলোর নাটের গুরু কারা! কারাইবা এসব কলকাঠি নাড়ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পুকুর খননকারী জানান, সব কিছু ঠিকঠাক করেই পুকুর আমরা খননের কাজ শুরু করি। নেতা, চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে ওপর মহল পর্যন্ত ম্যানেজ করেই আমরা এসব কাজে হাত দিয়ে থাকি। তাই এসব ব্যাপারে না লেখাই ভালো।

গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম বলেন, এমপি স্যারের আদেশেই আমরা বিভিন্ন সময়ে মাটি কাটার গাড়ি আটক করেছি।

নাটোর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, প্রশাসনের চোখে ধুলা দিয়ে পুকুর খনন চলছেই। তাই বাধ্য হয়ে নিজেই পুকুর খনন বন্ধে মাঠে নেমেছি।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj