লকডাউনের মধ্যেও বাড়ছে লোডশেডিং!

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

দেব দুলাল মিত্র : করোনায় শিল্প-কারখানা ও অফিস-আদালত পুরোপুরি বন্ধ থাকার পরও রাজধানীতে লোডশেডিং বেড়েছে। বৈশাখের প্রচণ্ড তাপদাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরীর বাসিন্দারা। করোনার লকডাউনের কারণে লোডশেডিং চলাকালে যেমন বাইরে বের হওয়ার উপায় নেই, তেমনি প্রচণ্ড গরমে ঘরের ভেতর থাকাও কঠিন। এই পরিস্থিতিতে ভোগান্তির শিকার হওয়া বাসিন্দারা বলছেন, মনে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগও করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ কারণে সবকিছু বন্ধ থাকার পরও লোডশেডিং বেড়েছে।

সম্প্রতি লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর কাছেও অভিযোগ গেছে অনেক। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপারে কথা বলতে তিনি গত সোমবার বাসা থেকেই বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভা করেছেন। ওই সভায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, অনেক জায়গা থেকেই লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই সময়ে এ ধরনের অভিযোগ খুবই অনাকাক্সিক্ষত। গ্রীষ্মকালে পিক আওয়ারে ৯ হাজার মেগাওয়াট চাহিদা হলেও বর্তমানে গড়ে ৬-৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লাগছে। তবুও কেন লোডশেডিং হবে?

হঠাৎ রাজধানীতে লোডশেডিং বেড়ে গেলেও ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান দাবি করেন, আমাদের এখন আর কোনো লোডশেডিং নেই। সরবরাহ ব্যবস্থা ভালো। গ্রীষ্মকালে স্বাভাবিক নিয়মেই মাঝে মাঝে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হয়। এতে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হয়। আমরা দ্রুতই তা সমাধানের চেষ্টা করি। রমজানের মধ্যেও বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সমস্যা হবে না। করোনার কারণে রাজধানীসহ দেশের সব শিল্প-কারখানা, অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবই বন্ধ রয়েছে। সার্বিকভাবে বিদ্যুতের ব্যবহার কম হচ্ছে। কিন্তু তারপরও গত কয়েক দিনে হঠাৎ করেই লোডশেডিং বেড়েছে। অথচ এমনটি হওয়ার কথা না। জানা গেছে, রাজধানীর রামপুরা, পূর্ব রামপুরা, খিলগাঁও, বাসাবো, মুগদা, মিরপুর, হাজারীবাগ, মগবাজার এলাকায় সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা পর আসে। আবার কখনো কখনো দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকছে। দিনে কয়েক দফায় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় নগরীর বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন।

মধ্য বাসাবো এলাকার বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার প্রমি সরকার জানান, গত বেশ কয়েক দিন ধরেই বাসাবো এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। দিনে ৩-৪ বার লোডশেডিং হচ্ছে। দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের ফলে প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা দায়। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির মটর চালানো যাচ্ছে না। এ কারণে পানির সমস্যাও হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন আগের চেয়ে বেড়েছে। যদি তাই হয় তাহলে এখন লোডশেডিং কেন?

রাজধানীর পূর্ব রামপুরা এলাকার গৃহবধূ সানজিদা সুলতানা জানান, ওই এলাকায় গত বুধবার কয়েক দফায় লোডশেডিং হয়েছে। রাতেও ২ ঘণ্টার মতো লোডশেডিং ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবারও কয়েক দফায় লোডশেডিং হয়েছে।

খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, তার এলাকাতেও গত কয়েক দিনে লোডশেডিং বেড়েছে। গত বুধবার খিলগাঁও এলাকায় একটানা ২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়েছে। এরপর আবারো ১ ঘণ্টাসহ মোট ৩ ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল। গতকাল বৃহস্পতিবারও সকাল পৌনে ১২টা থেকে কয়েক দফায় লোডশেডিং হয়েছে। লোডশেডিংয়ে তাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি করছে, করোনার কারণে কল-কারখানা, অফিস-আদালত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের ব্যবহার কিছুটা কমলেও তাদের উৎপাদন আগের মতোই রয়েছে। তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে কদাচিৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনে হেরফের হয়। এছাড়া আবহাওয়ার কারণেও মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। এসব ক্ষেত্রে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হয়। এর বাইরে পুরাতন সাব-স্টেশনগুলোতে কখনো কখনো যন্ত্রাংশে সমস্যা দেখা দেয়। এ রকম কারিগরি সমস্যা যে কোনো সময় হতে পারে। হঠাৎ কালবৈশাখী হলেও ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়ে একটি বড় এলাকা লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে। এসব কারণেই কোথাও কোথাও লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রিড সাব-স্ট্রেশনগুলো নিয়মিত মেরামতের মাধ্যম সচল রাখা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj