করোনা উপসর্গ নিয়ে ১১ জেলায় ১৩ জনের মৃত্যু

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

কাগজ ডেস্ক : করোনার উপসর্গ নিয়ে ১০ জেলায় ৪ শিশুসহ ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে ২ শিশু, নারায়ণগঞ্জে নারী নেত্রী, শরীয়তপুরে এক ব্যক্তি, ভোলায় নারী, লক্ষীপুরের রামগতিতে ব্যবসায়ী ও কমলনগরে শিশু, ফেনীতে চা-দোকানি, খুলনায় বৃদ্ধ, রাজশাহীতে বৃদ্ধ, হবিগঞ্জে শিশু, ফরিদপুরে কিশোরী এবং ঝিনাইদহে কিশোর মারা গেছেন। নিচে এ সম্পর্কে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট-

কুড়িগ্রাম : জেলার নাগেশ^রী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে মৃত দুই শিশু এবং তাদের পরিবারের সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গতকাল রবিবার ভোরে নাগেশ^রী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের কুটি নাওডাঙ্গা গ্রামের মোবারক আলীর ৬ মাসের ছেলে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যায়।

নাগেশ^রী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, জন্মের পর থেকে ওই শিশু অসুস্থ ছিল। সম্প্রতি শিশুটিকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন তার পরিবার। কিন্তু সেখানে কোনো চিকিৎসা করাতে পারেনি। এ অবস্থায় শ^াসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে শিশুটির মৃত্যু হওয়ায় ওই শিশুটি ও তার বাবার নমুনা সংগ্রহ করেছে পরীক্ষার জন্য নাগেশ^রী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

অপরদিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের শাহীবাজার গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের ৬ বছরের মেয়ে নাফিজার শরীরে তীব্র জ্বর, শ^াসকষ্ট ও খিচুনি ছিল। এ অবস্থায় মেয়েটি রবিবার ভোরে মারা যায়। রিয়াজুল ইসলাম কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরেছেন।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এস এম সায়েম জানান, শিশুটির বাবা ঢাকা ফেরত এবং মেয়েটি তীব্র জ্বর নিয়ে যেহেতু মারা গেছে। সেজন্য অধিকতর শতর্কতার জন্য শিশুটির এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নমুনা যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ : করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় হোসনে আরা খাতুন (৫৯) নামে এক নারী নেত্রী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত শনিবার রাতে জেলার সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা বিশেষায়িত হাসপাতাল সাজেদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। গতকাল রবিবার সকালে নগরের মাসদাইর সিটি করপোরেশন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ৪ দিন ধরে তিনি সাজেদা হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি নগরের আমলাপাড়া আজমেরী মঞ্জিলে পরিবার নিয়ে থাকতেন। তার স্বামীর নাম হাসান রেজা। হোসনে আরা খাতুন জাতীয় মহিলা সমিতির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সহসভাপতি এবং মহিলা পরিষদ জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থা, নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

হোসনে আরা খাতুনের বড় ছেলে প্রীতম বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর গত ২২ এপ্রিল মাকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাজেদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৪ দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

শরীয়তপুর : জেলার ডামুড্যায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪৫ বছর বয়সের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে ডামুড্যা পৌর এলাকার নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ মোস্তফা খোকন। এদিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ ও জাজিরা উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় সর্বমোট ২০ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন।

ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ মোস্তফা খোকন জানান, মৃত ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ১ সপ্তাহ আগে তার স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন। ওই সময় তার স্ত্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। প্রথমে তার স্ত্রীর করোনা পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ আসে। এরপর ১৯ এপ্রিল তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানোর পর ২১ এপ্রিল ফলাফল পজেটিভ আসে। মৃত ব্যক্তিসহ তার আক্রান্ত পরিবারকে পর্যবেক্ষণে রেখে মনিটরিং ও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। রবিবার দুপুরে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নীতিমালা অনুযায়ী গ?ঠিত ক?মি?টি? তার নিজ বাড়িতে দাফন সম্পন্ন করে। দাফনের সময় ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও ডামুড্যা থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভোলা : জেলায় জ্বর, স?র্দি-কা?শি ও শ^াসকষ্টে এক নারীর (৫০) মৃত্যু হ?য়ে?ছে। গতকাল রবিবার সকাল সা?ড়ে ৯টার দি?কে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। ওই নারী জেলার চরফ্যাশন উপ?জেলার আমেনাবাদ ইউনিয়?নের হা?লিমাবাদ গ্রা?মের বা?সিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, ৫-৬ দিন ধরে ওই নারী জ্বর, স?র্দি-কা?শি ও শ^াসক?ষ্টে ভুগছিলেন। সকালে তার মৃত্যু হয়।

ভোলা সি?ভিল সার্জন ডা. রতন কুমার ঢালী ঘটনার সত্যতা নি?শ্চিত ক?রে জানান, ?নিহত ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ ক?রে বরিশালে পা?ঠি?য়ে?ছি। রি?পোর্ট হা?তে এলে জানা যাবে তিনি ক?রোনা আক্রান্ত ছি?লেন কিনা।

লক্ষীপুর : জেলার রামগতি উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর তার বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের সুজন গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তিনি কমলনগর উপজেলার খায়েরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ছিলেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামনাশিস মজুমদার বলেন, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তিনি জ্বর ও শ^াসকষ্টে আক্রান্ত ছিলেন। গত শনিবার রাতে শ^াসকষ্ট বেড়ে তার মৃত্যু হয়। পরীক্ষার জন্য তার লাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

রামগতি থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে মৃত ব্যক্তির বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

কমলনগর (লক্ষীপুর) : উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে সাথী আক্তার (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরপাগলা এলাকার নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। মৃত সাথী ওই এলাকার কামাল হোসেনের মেয়ে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের জানান, শিশুটি দুদিন আগে শ^াসকষ্টসহ জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। করোনা উপসর্গ থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে পাঠায়। এ ঘটনার মৃত শিশুর বাড়িটি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে।

ফেনী : জেলার দাগনভূঞা উপজেলায় করোনা উপসর্গ জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ^াসকষ্ট নিয়ে এক চা-দোকানির (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে দাগনভূঞা পৌরসভার নামার বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় তার মৃত্যু হয়। তিনি দাগনভূঞা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সেকান্তরপুর গ্রামের বাসিন্দা। ফেনী শহরে তার একটি চায়ের দোকান রয়েছে।

ওই ব্যক্তির স্বজন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ^াসকষ্টে ভুগছিলেন তিনি। তাকে দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ফেনী সদর হাসপাতালে নেয়া হলে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বরে বারবার চেষ্টা করেও সংযোগ পায়নি তার পরিবার।

দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রোবায়েত জানান, ওই ব্যক্তি কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে। তাই করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বাড়িসহ পাশের দুটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।

দাগনভূঞা পৌরসভার মেয়র ওমর ফারুক খান জানান, নিহতের পরিবার জানিয়েছে তার মধ্যে করোনার উপসর্গ ছিল। তারা বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় আইইডিসিআরে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কেউ ফোন ধরেনি। এমনকি স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগকে ব্যাপারটি জানালেও তার নমুনা সংগ্রহসহ দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল উপজেলার জায়লস্করে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক মুয়াজ্জিনের মৃত্যু হয়। পরবর্তী সময় তার নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাঠানো হলে সেখান থেকে নেগেটিভ রিপোর্ট আসে।

খুলনা : করোনা উপসর্গ নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার বিকালে তার মৃত্যু হয়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ইনচার্জ ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ^াস জানান, সড়ক থেকে উদ্ধার করে অজ্ঞাত ওই বৃদ্ধকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকালে তিনি মারা গেছেন। তার শরীরে করোনা উপসর্গ ছিল। তিনি করোনা আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

নগরীর আড়ংঘাটা থানার এসআই রশিদুল ইসলাম বলেন, ২৪ এপ্রিল রাত ২টার দিকে স্থানীয়রা তাকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে পাঠায়। তবে তার কোনো পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী : জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক বৃদ্ধ (৮০) মারা গেছেন। রাজশাহীতে করোনায় এটিই প্রথম মৃত্যু। গতকাল রবিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে রাজশাহী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, বাঘা উপজেলার গাঁওপাড়া গ্রামের ওই বৃদ্ধ কুলা বিক্রি করতেন। গত ১৭ এপ্রিল জ্বর ও প্র¯্রাবের জ্বালা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনার উপসর্গ না থাকায় তার সংস্পর্শে আসেন ৪২ চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী। পরে গত ২০ এপ্রিল তার নমুনা পরীক্ষা করা হলে করোনা শনাক্ত হয়। এরপরই হাসপাতালের ওই ৪২ ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারী কোয়ারেন্টাইনে চলে যান। গত মঙ্গলবার ও বুধবার তারা করোনা পরীক্ষা করান। তবে তাদের সবার পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। তিনি আরো জানান, সকালে করোনা আক্রান্ত ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার লাশ দাফনের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে লাশটি তার গ্রামের বাড়ি যাবে, নাকি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন দাফন করবে- সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল রাজশাহীতে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এ পর্যন্ত জেলায় মৃত ওই বৃদ্ধসহ ৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৫ জন নারী এবং ৩ জন পুরুষ। আক্রান্তদের মধ্যে পুঠিয়া উপজেলায় ৫, বাগমারায় ১, মোহনপুর ১ এবং বাঘা উপজেলায় ১ জন। এদের মধ্যে ৭ জনই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর থেকে এসেছেন। তারা নিজ বাড়িতেই আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হবিগঞ্জ : জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৫ বছরের শিশু মারা গেছে। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে সিলেটে শহীদ সামস উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। চুনারুঘাট উপজেলার দেওরগাছ গ্রামে শিশুটির বাড়ি।

হবিগঞ্জের সহকারী সিভিল সার্জন ডা. মুখলেছুর রহমান উজ্জ্বল জানান, বৃহস্পতিবার শিশুটি করোনা শনাক্ত হয়। গত শনিবার বিকালে তাকে হবিগঞ্জ থেকে সিলেটে শহীদ সামসুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর রাত ৮টার দিকে মারা যায়। তিনি বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার লাশ রাতেই আনা হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলায় ৪৭ জন করোনা রোগীর মধ্যে এটি প্রথম মৃত্যু।

ঝিনাইদহ : করোনা উপসর্গ নিয়ে জেলায় এক প্রতিবন্ধী কিশোরের (১৪) মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার গভীর রাতে জেলার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত ওই কিশোরের বাড়ি জেলার শৈলকুপা উপজেলার গোলকনগর গ্রামে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আইয়ুব হোসেন ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. অপূর্ব কুমার সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, জ্বর, সর্দি-কাশি নিয়ে শনিবার বিকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওই প্রতিবন্ধী কিশোরকে। গভীর রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। মৃত কিশোরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে ঝিনাইদহে এক চিকিৎসকসহ নতুন করে আরো ৭ জনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. সেলিনা বেগম। এ নিয়ে গত দুদিনে জেলায় করোনা আক্রান্ত হলেন মোট ৯ জন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার (এমওসিএস) ডা. প্রসেনজিৎ জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ঝিনাইদহ পৌরসভা এলাকায় ২ এবং কালীগঞ্জ উপজেলায় ২ জন রয়েছেন। এ দুজনের মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত একজন ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন। এছাড়া শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত পরিসংখ্যানবিদ, মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সচালক এবং কোটচাঁদপুরে একজন আক্রান্ত হয়েছেন।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। গোটা জেলা লকডাউনের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান বলেছেন, রবিবার সকাল থেকে জেলার সব প্রবেশ পথে নতুন চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।

ফরিদপুর : জেলার সদরপুর উপজেলায় জ্বর, কাশি ও মাথাব্যথা নিয়ে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুর ১টার দিকে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পথে মারা যায় ওই কিশোরী। ওই কিশোরীর শরীর থেকে বিভিন্ন উপাত্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ওই কিশোরীর বয়স ১৪। গত ৮ দিন ধরে সে জ্বরে ভুগছিল। তার বাড়ি সদরপুরের সদর ইউনিয়নের পশ্চিম শ্যামপুর গ্রামে।

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূরবী গোলদার বলেন, আমরা জেনেছি ওই কিশোরী দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিল। গত কয়েকদিন ধরে তার জ্বর, কাশি ও মাথাব্যথা ছিল। তবে তার কোনো শ্বাসকষ্ট ছিল না। কিশোরীটি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল কিনা তা শনাক্ত করতে উপাত্ত সংগ্রহের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সদরপুরের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ওমর ফয়সাল বলেন, ওই কিশোরীর শরীর থেকে করোনা শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় উপাত্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj