গণস্বাস্থ্যের কিট গ্রহণ করেনি ঔষধ প্রশাসন

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : জাতির এই দুর্যোগকালীন অবস্থার সুযোগে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চাইছে একটি মহল। জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধু ব্যবসায়িক স্বার্থে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিটের বিপক্ষে কাজ করছে। নানা অজুহাত দেখিয়ে তারা গণস্বাস্থ্যের কিট গ্রহণ করতে চাইছে না। এমনকি গতকাল রবিবার সরাসরি ওই কিটের নমুনা দিতে গেলেও তা গ্রহণ করেনি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। গতকাল রবিবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এ বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান।

প্রসঙ্গত, শনিবার সকালে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নিজেদের উদ্ভাবিত কিট সরকারের কাছে হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে সরকারের কোনো প্রতিনিধি যাননি। তাই সেদিনই জানানো হয় রবিবার সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে এই কিটের নমুনা সরাসরি দিয়ে আসা হবে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আমাদের কিটের অনুমোদন করার দায়িত্ব হলো ঔষধ প্রশাসনের। দুর্ভাগ্যবশত, ওখানে এমন লোক বসানো হয়েছে যিনি না ফার্মাসিস্ট, না ফার্মাকোলজিস্ট। তার ফলে এই জিনিসগুলোর গুরুত্ব সেভাবে উপলব্ধি করতেই সক্ষম হচ্ছেন না। তারা সম্পূর্ণ ব্যবসায়ী স্বার্থ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ঘুষ চাওয়া হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, না ঘুষ চাওয়া হয়নি। সেই সাহস তাদের নেই। গবেষণার দুর্নীতি এটা নতুন নয়। আপনাকে হয়রানি বারবার করা হলে একসময় নিজে থেকে খোঁজ নেবেন বড় কর্মকর্তার বাসার বাজার আছে কিনা। ঘুষ তো নানাভাবে নেয়া হতে পারে। কিন্তু আমরা কাউকে টাকা দিতে পারব না। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের করোনা কিটের উদ্ভাবক ড. বিজন কুমার শীলসহ তিনজন এটি জমা দিতে যান। তবে অধিদপ্তর তা গ্রহণ করেনি। এমনকি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তিনজনের একজনকেও ঔষধ প্রশাসনের কার্যালয়ে ঢুকতেও দেয়া হয়নি। ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, আমরা কিট নিয়ে গিয়েছিলাম, তারা জমা নেননি। বলে সিআরও নিয়ে আসেন। তারপর বলল, এটা আপনারা ভেরিফিকেশন করে আনেন সিআরও থেকে। সিআরও হলো চুক্তিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ওখানে পয়সা দিতে হবে। কত খরচ লাগবে, তা উনারা (সিআরও) বাজেট দেবেন। এখন কি সেই সময় আছে। বাজেট দেবেন দেন দরবার হবে। আমরা বলে দিয়েছি কোনো টাকা দিতে পারব না। গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত কিট (ব্যবহারযোগ্য হয়ে) আসুক আর না আসুক, কাউকে ঘুষ দেব না। গত ৪৮ বছরে গণস্বাস্থ্য কাউকে ঘুষ দেয়নি, আজো দেবে না।

সংবাদ সম্মেলনে গণস্বাস্থ্যের একজন কর্মকর্তা বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত কিটের কোনো নীতিমালা সরকারের নেই। আর এমন জরুরি অবস্থায় এখন কিসের নীতিমালা? এর মধ্যেও যত ধরনের ডকুমেন্ট চেয়েছে সব জমা দেয়া হয়েছে। যতগুলো কাজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করতে বলেছে আমরা তা ধাপে ধাপে করেছি। তারা আজকে যখন সিআরওর কথা বলছে তখন সেটা আপনারা করবেন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj