ব্যাটিং কোচের ভাবনা

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : করোনা কারণে বসে থাকা ঘরবন্দি ক্রিকেটারদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি। ক্রিকেটের তিন সংস্করণের জন্য আলাদা আলাদা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ক্রিকইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটা জানিয়েছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটিং কোচ।

বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মানসিকতার প্রশংসা করেছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান। তরুণ ব্যাটসম্যানদের শেখার আগ্রহ তাকে মুগ্ধ করেছে। ব্যাটসম্যানদের এমন স্পৃহার কারণে নিজেকেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় ম্যাকেঞ্জির। পুরো বিষয়টিকে যথেষ্ট ইতিবাচকভাবে দেখতে চান তিনি। ব্যাটসম্যানদের সঠিক অনুধাবন ম্যাকেঞ্জিকে আনন্দ দেয়।

সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সিরিজে অন্যরকম লিটন দাসকে দেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে অপরাজিত ১২৬ রান ও তৃতীয় ওয়ানডেতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন লিটন। একই ধারাবাহিকতা ছিল তার টি-টোয়েন্টিতেও। ৫৯ আর অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন তিনি। হঠাৎ কীভাবে এত পরিণত হয়ে উঠলেন লিটন? সে প্রশ্নে তিনি জানিয়েছিলেন আগের মতো মাঠে নেমেই শট খেলার প্রবণতা তার কমেছে। উইকেটের আচরণ, বলের গতি সবকিছু আগে আয়ত্তে নেয়ার চেষ্টা করেন। কিছু কিছু জায়গায় লাগাম টেনেই সাফল্য পাচ্ছেন তিনি। লিটনের এ পরিবর্তন ও তার দুর্দান্ত সাফল্যে বেশ খুশি টাইগারদের ব্যাটিং কোচ নেইল ম্যাকেঞ্জি।

‘সব ক্রিকেটারই আমার কাছ থেকে শেখার জন্য মুখিয়ে থাকে। কোনো কিছু একভাবে করা না গেলে আমরা চেষ্টা করি আরেকভাবে করতে। তারা শিখতে আগ্রহী, অন্য কোনো উপায়ে কী করা যায় সেটাও তারা জানতে চায়। বাংলাদেশ দলে এটা দারুণ ইতিবাচক দিক। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলতে দারুণ লাগে। তখন আপনার মনে হবে যে আপনিই পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন। কিন্তু এটা আসলে আমার খেলা না, এটা তাদেরই ক্যারিয়ার- যোগ করেন ম্যাকেঞ্জি।

ক্যারিয়ারে নিঁখুত টেকনিকের ব্যাটসম্যান ছিলেন নিল ম্যাকেঞ্জি। দক্ষিণ আফ্রিকার পর বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করছেন তিনি। বাংলাদেশ দলে তার কোচিং দর্শনের প্রভাব চোখে পড়ার মতো। লিটন-শান্তর মতো ব্যাটসম্যানরা তার অধীনে ধারাবাহিক হয়ে উঠছেন। সিনিয়রদের ওপরও তার প্রভাব স্পষ্ট।

দক্ষিণ আফ্রিকার পর বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে ভালো কাজ করছেন। সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিল ম্যাকেঞ্জি বলেন অবসরের পরই দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট দলের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। দুই বছরের কিছু সময় কাজ করে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েছি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানসম্পন্ন দলের সঙ্গে কাজ করতে পারা খুব কাজে দিয়েছে। আমি চেষ্টা করি ক্রিকেটারদের টেকনিক নিয়ে কাজ করতে। তাদের ফুটেজ দেখি, মানসিক দিক বোঝার চেষ্টা করি। তবে বইয়ের টেকনিক নিয়ে আমি কাজ করি না। একেক ক্রিকেটারের টেকনিক একেক রকম। নিজস্ব টেকনিক নিয়েই কাজ করি। বোলার বল করার আগেই আমি আমার কোচিং দর্শন প্রয়োগ করি না। বরং বল ডেলিভারি হওয়ার সময় থেকে কোচিং করাই।

আগামীতে লিগভিত্তিক ওয়ানডে এবং ২০২৩ বিশ^কাপ দুর্দান্ত হবে বলে ম্যাকেঞ্জির আশা। সৌম্য, মিথুন, শান্ত কিংবা মুশফিক, তামিম, রিয়াদের মতো ক্রিকেটাররা সেখানে ভালো করতে চায়। তার দর্শন, প্রত্যেককেই বিশ^মানের হতে হবে। সব সময় অনুশীলন না করলে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু অনুশীলন করলে কৌশল নিয়ে এবং মনোযোগ দিয়ে করতে হবে। নিজের গেম প্ল্যান এবং টেকনিক জানতে হবে। যদি তারা নিজেদের ওপর বিশ^াস রাখে এবং সে অনুযায়ী অনুশীলন করে তাহলে তারা ভালো অবস্থানে থাকবেই।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj