ডাক্তার ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক করোনায় আক্রান্ত : সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোগীশূন্য

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : ১৩ মাস বয়সী অসুস্থ নাতনিকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে ডাক্তার পেলাম না। এখন আমি কোথায় যাব আর কোথায় ডাক্তার পাব। চলমান করোনা দুর্যোগে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে এভাবেই বলছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাবেক গাড়িচালক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী (৪৫)।

জয়মন্টপ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রূপা আক্তার পেটে ব্যথা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে গাইনি বিভাগে ডাক্তার না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় ফিরে যান।

এ রকম অনেক রোগী গুরুতর অবস্থা নিয়ে হাসপাতালে এসে ডাক্তার না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় ফিরে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, চলমান মহামারি করোনা পরিস্থিতিতে একজন মেডিকেল অফিসার ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের দেহে করোনা পজেটিভ শনাক্ত হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি এ হাসপাতালটিতে প্রতিদিন বহিঃবিভাগে ৪০০-৫০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসতেন। ভর্তি থাকতেন প্রায় ৪০-৫০ জন। করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। বর্তমানে বহিঃবিভাগে ১৫-২০ জন এবং ৮-১০ জন রোগী ভর্তি থেকে কোন রকমে স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন। ১২ জন মেডিকেল অফিসার ও ৩ জন সার্জনের মধ্যে বেশির ভাগই হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। নার্স ও অফিসের অন্য স্টাফরাও অনিয়মিত। পুরো উপজেলা লকডাউনের মধ্যেও গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে এসে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু হানিফের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। তিনি সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল হাসপাতালে বহিঃবিভাগে ডিউটি করেন। এর আগে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক উম্মে কুলসুম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। হাসপাতালের এ দুই স্টাফ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় অন্যান্য ডাক্তার, নার্স ও স্টাফের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের অধিকাংশ হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকায় হাসপাতালে আসা বন্ধ করে দেন। এতে সরকারি এ হাসপাতাল রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেকেন্দার আলী মোল্লা বলেন, একজন ডাক্তার ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের শরীরে কোভিড-১৯ পজেটিভ হওয়ায় এখানে কর্মরত প্রায় সবাই কোয়ারেন্টাইনে আছেন। তারপরও সীমিত ডাক্তার ও স্টাফ নিয়ে জরুরি বিভাগে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া টেলিমেডিসিন লিংকের মাধ্যমেও জরুরি চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj