বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ : অনিশ্চয়তার মুখে আলো দেখাচ্ছে

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : করোনা মহামারিতে চলতি বছরের শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে সেখানে আলো দেখাচ্ছে দেশের প্রথম সরকারি ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি (বিডিইউ)’। পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলো যেখানে অনলাইনে ক্লাস আয়োজনের ন্যূনতম ব্যবস্থ্া করতে পারছে না আবার করলেও ক্লাস হচ্ছে নাম কাওয়াস্তে সেখানে দীর্ঘ এক মাস ধরে সপ্তাহে ৬ দিন বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা অনলাইনে ক্লাস করছেন বিডিইউর শিক্ষার্থীরা। যাদের সামনে নেই সেশনজটের আতঙ্ক। এ অবস্থায় বিডিইউর কার্যক্রম অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে করোনার এই সংকটের মধ্যেও অনলাইনে প্রায় শতভাগ সচল রেখেছে, যা ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দেশের একমাত্র বিশ^বিদ্যালয় হিসেবে বিডিইউ শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস শতভাগ সফল করতে গুগলের ‘জিস্যুট’ ও অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ‘ক্যোরসেরা’র মতো প্রয়োজনীয় সব প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিচ্ছে। পাবলিক ইউনিভার্সিটির অনেক শিক্ষক নিজের প্রতিষ্ঠানে ক্লাস নিতে না পারলেও অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন বিডিইউতে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ এক মাস ধরে চলা এ শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট খবচও দিচ্ছে বিশ^বিদ্যালয়। বিডিইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের মতো বড় বিশ^বিদ্যালয়ের কাছে হয়তো অনলাইনে শিক্ষাদান একটি কঠিন বিষয়। তবে সত্যিকারের উদ্যোগী হলে কাজটি অসম্ভব নয় মোটেও। গতকাল রবিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের সফলতার বিষয়ে বিডিইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, গত এক মাস ধরে বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ^বিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে। করোনাকালে ভার্চুয়াল মিটিং হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাসগুলো অনলাইনে রেকর্ড করে রাখা হবে। ছাত্ররা চাইলে যে কোনো সময় রেকর্ড করে রাখা ক্লাস দেখে নিতে পারবে। এর ফলে সেমিস্টার ঠিকঠাক ধরা যাবে। পরীক্ষাটাও শর্ট পিরিয়ডে হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ইউনিভার্সিটির ২০০ শিক্ষার্থী ৪টি প্রোগ্রামে সপ্তাহে ৬দিন ১১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ক্লাস করে। করোনাকালে শিক্ষকরাও এই অনলাইনে বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্লাস নিচ্ছেন। শিক্ষকদের মধ্যে কেউ ভোলায়, কেউ চাঁদপুরে, কেউ পিরোজপুরে রয়েছেন। সেখান থেকেই তারা ক্লাস নিচ্ছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বড় বড় বিশ^বিদ্যালয়ে পরিবর্তন আনা কঠিন। তবে পরিবর্তনে যাওয়া উচিত। তারা প্রয়োজন বোধ করেনি। ডিজিটাল বিশ^বিদ্যালয় শুরু থেকেই অনলাইনে জোর দিয়েছে। ভবিষ্যতে অনলাইনেই ডিগ্রি দেয়ার চিন্তা করছে।

ইউজিসির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউজিসির দক্ষতার অভাব রয়েছে। আধুনিক চিন্তা-ভাবনা তাদের নেই। বিশ^বিদ্যালয়গুলোকে স্বাধীনভাবে চলতে না দিলে, শুধু কন্ট্রোলের মধ্যে রাখলে নামি বিশ^বিদ্যালয় তৈরি হবে না। করোনাকালে যদি ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হয় তাহলে পাশে বসে আর কিছু করা যাবে না। এ অবস্থায় একটি জাতীয় শিক্ষা কমিটি করা উচিত। বর্তমান অবস্থা চালু থাকলে প্রাইমারি স্কুল খুলতেই পারবে না। দুর্যোগকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবার যাতে কেউ আক্রান্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে কীভাবে চলতে পারি সেই পরামর্শ দেবে গঠিত জাতীয় শিক্ষা কমিটি। আর এটাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে পরামর্শ। নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার না করলে দেশের ২ কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে। তবে যদি ভ্যাকসিন চলে আসে তাহলে জাতীয় শিক্ষা কমিটি লাগবে না।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj