এক মাসে রেলের ক্ষতি ১৭৫ কোটি টাকা : করোনাকাল

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সারাদেশ লকডাউনে। সে কারণে সড়ক, নৌ ও রেল যোগাযোগ বন্ধ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও। ফলে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা রেলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমনিতে রেল একটি সেবামূলক সংস্থা- যা লোকসানে চলে। আর করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে রেল যোগাযোগ মাসাধিককাল বন্ধ রয়েছে- যার ফলে ইতোমধ্যে ১৭৫ কোটি টাকারও অধিক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি আরো দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। বর্তমানে রেল প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা লোকসানে চলছে, আর অর্থবছর শেষে করোনার কারণে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় রেলের লোকসানের পাল্লা আরো ভারী হবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন ভোরের কাগজকে জানান, রেল একটি সেবামূলক সংস্থা, এখানে লাভ লোকসান দিয়ে হিসাব হয় না। সেবা দেয়াটা আমাদের কর্তব্য। করোনা ভাইরাসের কারণে সারাদেশে রেল যোগাযোগ গত ২৫ মার্চ থেকে সরকারি নির্দেশনায় বন্ধ রয়েছে। কিন্তু আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, রেলের সংরক্ষণসহ সব ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই করতে হচ্ছে। সে কারণে যাত্রী পরিবহন থেকে যে আয় হতো তা একেবারেই নেই। ফলে রেল প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

রেলমন্ত্রী বলেন, তবে লকডাইনের মধ্যে রেল পণ্য পরিবহনসেবা দিয়ে যাচ্ছে। সারা দেশে বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী ৫-৬টি পণ্যবাহী ট্রেন চলছে। ইতোমধ্যে পণ্য পরিবহন থেকে ১২-১৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা রেলের ক্ষতি কমাতে পণ্য পরিবহন বাড়ানোর চিন্তা ভাবনা করছি। পণ্য পরিবহনের জন্য চারটি বিশেষায়িত (এসি) ট্রেন চালু করা হবে বলে জানান তিনি। রেলওয়ের পরিচালন শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, একমাস ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রী, মালামাল, পার্সেলসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা আয়বঞ্চিত হচ্ছে রেলওয়ে। বছর শেষে এটি মোট আয়ের ওপর প্রভাব ফেলবে- যা রেলের লোকসানের পরিমাণকে আরো বাড়িবে দেবে।

রেলওয়ের অর্থ বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যমতে-২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে ট্রেন পরিচালনা বাবদ আয় হয়েছিল ১৬৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে যাত্রী পরিবহন করে আয় হয়েছিল ৮৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। মালামাল ও পার্সেল পরিবহন করে আয় হয়েছিল ৪১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। বাকি প্রায় ৪২ কোটি টাকা আয় হয়েছিল বিবিধ খাত থেকে। এ বছরে আরো প্রায় ১২-১৫ শতাংশ আয় বাড়ার কথা। সে জন্য রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে চলতি অর্থবছর ৮ কোটি যাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা করেছিল রেলওয়ে। পাশাপাশি মালামাল পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩২ লাখ টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে (এপিএ) যাত্রী, মালামালসহ রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১০ শতাংশ। চলতি অর্থবছর যাত্রী পরিবহন বাবদ রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ। একইভাবে মালামাল পরিবহনে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অর্থবছরে একাধিক নতুন ট্রেন চালুও নতুন কোচ সংযোজনের কারণে রাজস্ব আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধির আশায় ছিল রেলওয়ে। কিন্তু করোনার ভয়াবহতায় তা তো হচ্ছে না বরং আরো লোকসানের পাল্লা ভারী হবে।

রেল সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের এ ১১ বছরে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫১ লাখ টাকার ৬৪টি প্রকল্প চলমান নেয়া হয়। যার অনেকগুলো চলমান। গত পাঁচ বছরে রেলের পরিচালন বাবদ ব্যয় ২৮ হাজার ৪৮৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং গত পাঁচ বছরে লোকসান ৬ হাজার ৯০০ কোটি ৩ লাখ টাকা। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেলের লোকসান ৮৭২ কোটি ৮৪ লাখ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৩২৫ কোটি ২০ লাখ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৭৬ লাখ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে লোকসান করেছে ১ হাজার ৪৩১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা- যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লোকসান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

এই জনপদ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj