রোজার প্রশান্তিতে ¯িœগ্ধ অযুত মানুষ

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

প্রত্যাশা তার সবই রয়েছে রমজানের সিয়াম দর্শনে। সংযম, সহনশীলতা, পরহিতৈষী চেতনা লালন, মনুষ্যত্বের বিকাশ ও পুণ্যময় সার্থক জীবন গঠনের প্রেরণাদায়ী পবিত্র রমজানের আগমনে তাই লাখো কোটি বিশ্বাসী মানুষ ভিন্ন অনুভূতি আমেজে জানাচ্ছে- স্বাগত মাহে রমজান। এসো এসো করুণা, ক্ষমা ও মুক্তির দুয়ার উন্মোচনকারী হে মাহে রমজান। আমাদের যত হতাশা, বেদনা, গøানি, পরিতাপ ও অভাব-বঞ্চনার ভার হালকা করো তোমার করুণাধারায়- মাহে রমজান। কুরআন মজিদ অবতীর্ণের মাস রমজান- আস্সালাম! রোজা, তারাবিহ, সাহরি, ইফতারের জান্নাতি আয়োজনে নিবেদিত আজ বিশ্ব মুসলিম। রোজার কল্যাণময়তায় প্রাণিত-শানিত বিশ্বাসী নিষ্ঠাবান মানুষেরা। রোজার প্রশান্তিতে স্নিগ্ধ-সিক্ত আজ অযুত মানুষ। কঠোর আত্মসংযম, বাক সংযম, রিপুর দমন, সীমালঙ্ঘন থেকে ফিরে আসার এলো অবারিত সুযোগ। ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে পুণ্যসিক্ত, আল্লাহর নৈকট্য ও অনুগ্রহধন্য হওয়ার দুয়ার আজ থেকে উন্মুক্ত। পবিত্র রমজানের সদর দরজা প্রশস্ত সবার জন্য। মানবসৃষ্ট মূল্য সন্ত্রাস, সামাজিক বিশৃঙ্খলা, নাগরিক যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে আমাদের নিত্য পথচলা। সংকট সমস্যা যতই থাক সব ডিঙিয়ে মুসলমানরা রোজার দিনগুলো ভালোয় ভালোয় কাটবে- এ প্রত্যাশায় গভীর শ্রদ্ধা ভালোবাসা ও ইমানী উদ্দীপনায় বরণ করে নেয়- মাহে রমজান। স্বস্তি শান্তি হয়তো এটুকুই- গণরায়ে নির্বাচিত সরকার গণবান্ধব নীতি গ্রহণ করে এই মাসটিতে অন্তত নাগরিক যন্ত্রণা-সংকট-সমস্যা থেকে দেশবাসী ও রোজাদারদের বাঁচাতে শক্তি-সামর্থ্য-সাধ্যের সবটুকু উজাড় করে দেবেন। অশেষ অপ্রাপ্তি ও হতাশার মাঝেও সিয়াম-উৎসব সবার যোগে উৎসবমুখর হয়ে উঠবে এই প্রত্যাশা সবার, অগণিত রোজাদারের।

প্রতিটি ধর্মাবলম্বীর কাছে ধর্মীয় বিধান, বিধিনিষেধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মের মূল বাণীই হচ্ছে আত্মকল্যাণ ও পরকল্যাণে মানুষকে পরিচালিত করা। ইসলাম শুধু ধর্মই নয়- পূর্ণাঙ্গ জীবন দর্শন। যা কিছু ভালো, কল্যাণময় ও সহজসাধ্য- তাই ইসলাম। ঐশী গ্রন্থ কুরআন মজিদে বলা হয়েছে লা ইউকাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উসআহা- মানুষের সাধ্যের বাইরে আল্লাহ তাকে কিছুই চাপিয়ে দেন না’। সিয়াম সাধনার নির্দেশ আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। রোজা বা সাওম পালন ইসলামের অন্যতম ফরজ বা আবশ্যকীয় দায়িত্ব। ইমান ও নামাজের পরই রোজার গুরুত্ব ও মর্যাদা। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পানাহার ও ইন্দ্রিয় সম্ভোগ বর্জনই রোজা। রোজা ফার্সি প্রতিশব্দ। আরবিতে বলা হয় সাওম। এই সাওমের বহুবচন সিয়াম। মাহে রমজানের মাসজুড়ে ৩০টি রোজাই (সাওম) যেহেতু পালন করা ফরজ- তাই বহুবচনে বিশেষিত করে সিয়াম বলাই যুক্তিযুক্ত। রোজার আত্মিক, শারীরিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এর গুরুত্ব সহজেই অনুমেয়। কুরআন মাজিদের সুরা বাকারার ১৮৩নং আয়াত থেকে ১৮৮নং আয়াতে রোজার বিধানের বর্ণনা করতে গিয়ে প্রথমেই বলা হয়েছে ‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হলো, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা তাকওয়া (খোদাভীরু ন্যায়নিষ্ঠতা) অর্জন করতে পার। এই কয়েকটি আয়াতে কুরআনের অনবদ্য শৈল্পিক ভঙ্গিমায় রোজার আবশ্যকতা, এই মাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য, দর্শন, করণীয় ও পদ্ধতি সংক্ষিপ্ত অথচ নিবিড়ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। হাদিসে কুদসিতে রোজার প্রতিদানের কথা উল্লেখ করে আল্লাহপাক বলেন- আস্সাওমু লি ওয়া আনা আজজি বিহি- রোজা আমার জন্য, আমি নিজেই এর পুরস্কার দেব। আল্লাহপাক প্রতিটি ইবাদতের পুরস্কার ও প্রতিদান নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, কিন্তু রোজার জন্য পুরস্কার নির্দিষ্ট করেননি বরং প্রতিদান সম্পর্কে বলেছেন- রোজাদারদের প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহপাক। এতে বোঝা যায়, রোজার আলাদা বৈশিষ্ট্য ও অনন্য মাহাত্ম্য। রোজার তিনটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম দশ দিনের নাম আশারায়ে রহমত ও রহমতের দশ দিন। সাধারণভাবে এ দশ দিনে সবার জন্য অবারিত রহমত বা করুণাধারা বর্ষিত হয়। দ্বিতীয় দশ দিনকে বলা হয় আশারায়ে মাগফেরাত-ক্ষমার দশ দিন। এ দশ দিনের প্রতিদিন আল্লাহপাক লাখো লাখো রোজাদারের প্রার্থনা কবুল করেন। তৃতীয় দশ দিন হচ্ছে আশারায়ে নাজাত- দোজখ হতে পরিত্রাণ লাভের সুযোগ। এই দশ দিনে প্রতিটি মুমিন যারা সামান্যতম ইমান রাখে আল্লাহপাক তাকে নিজের দয়া ও করুণা দ্বারা ক্ষমা করে দেবেন। তাই এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে ইবাদতে-সৎপথে অতিবাহিত করতে হবে।

রোজার মাসটি ভালোয় ভালোয় কাটুক। সবার যোগে উৎসবমুখর হোক রোজার মহিমান্বিত দিনগুলো। রোজার রহমত দশকের প্রথম দিনে এই হোক আমাদের প্রার্থনা বিধাতা আল্লাহপাকের দরবারে। আসুন! আমরা সত্যিকার অর্থে সংযমী হই। আত্মশুদ্ধি অর্জন করি।

আ ব ম খোরশিদ আলম খান
লেখক : সাংবাদিক, ইসলামী চিন্তাবিদ।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj