নিম্নমানের সুরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি : দায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় নয়

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২০

কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী দেশে শনাক্ত হওয়ার পর ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এই চাহিদাকে পুঁজি করে এক দল অসাধু কারবারি নকল ও মানহীন এন-৯৫ মাস্ক, করোনা পরীক্ষার কিট, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গøাভস ও পিপিই তৈরি করে গোপনে বাজারে ছাড়ছে। মানুষের এমন অসহায় সময়ের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাজধানীর ভাটারায় এরকমই একটি চক্র ধরা পড়েছে র‌্যাবের জালে। এর আগে রাজধানীতে বিভিন্ন স্থান থেকে নি¤œমানের সুরক্ষা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। বেরিয়ে আসছে নানা তথ্য। আমরা মনে করি, এসব প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে এভাবে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। এরই মধ্যে জেএমআই নামে একটি প্রতিষ্ঠান সরকারকে নকল মাস্ক সরবরাহ করে চিকিৎসাকর্মীদের চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এই মাস্ক কেলেঙ্কারির তদন্তের নির্দেশও দিয়েছে সরকার। জানা গেছে, ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন (হু) অনুমোদিত এন-৯৫ মাস্কের নামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে এফএফপি-১এস মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ই-কমার্স সাইটগুলোতে জমে উঠেছে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পাশাপাশি পিপিই ব্যবসা। বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য। ই-কমার্সের পাশাপাশি বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরেও বিক্রি করা হচ্ছে পিপিই। রাজধানীতে রাস্তাঘাটে বিক্রি দেখা যায়। এসবের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও প্রয়োজন ও পরিস্থিতির কারণে অনেকে সেগুলো ব্যবহার করছেন। চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা ছাড়াও জরুরি সেবা সংশ্লিষ্ট অন্য পেশাজীবীদের এখন পিপিই ব্যবহার করতে হচ্ছে। গতকাল ভোরের কাগজের একটি প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, দেশে এই পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৮৭ জন চিকিৎসক। নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীসহ এ সংখ্যা ৫শরও বেশি। চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, এন-৯৫ মাস্কের নামে তাদের যা দেয়া হয়েছে তাতে ধুলা কিছু আটকালেও কোনো ভাইরাস আটকাবে না। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যে কয়েকজন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই আক্রান্ত হয়েছেন নি¤œমানের মাস্ক ব্যবহার করে রোগীর সেবা দেয়ায়। এমন পরিস্থিতি চিকিৎসকদের জন্য শঙ্কাজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে দেশব্যাপী কয়েক লাখ পিপিই বিতরণের যে হিসাব দেয়া হয় তাও সত্য নয় বলে অভিযোগ করেন চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। কেননা অনেক হাসপাতালের পিপিইর মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শুরু থেকেই লক্ষ করেছি করোনায় আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় টেস্ট কিট, পিপিইসহ সুরক্ষা সরঞ্জাম পেতে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করা হলেও এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এর মধ্যে সুরক্ষা সরঞ্জাম যদি ব্যবহার উপযোগী না হয় সেক্ষেত্রে ঝুঁকি আরো বাড়াবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আক্রান্ত নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী। করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি চিকিৎসাসেবার মান। বিশেষ করে চিকিৎসকদের সুরক্ষা সরঞ্জামের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এ সংকটকালীন মুহূর্তে যারা পিপিইর নামে সুরক্ষা পোশাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ই-কমার্সে বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj