যুক্তরাষ্ট্রে দোকানপাট খুলছে : মৃত্যু ২ লাখ ছাড়াল আক্রান্ত ২৮ লাখ

রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

কাগজ ডেস্ক : কোভিড-১৯ রোগে বিশে^ এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১ লাখ ৯৮ হাজার মানুষ। আক্রান্ত রয়েছেন প্রায় ২৯ লাখ। এর মধ্যে গুরুতর পর্যায়ে রয়েছেন ৫৮ হাজার মানুষ, যা মোট আক্রান্তের ৩ শতাংশ। তবে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন ৮ লাখ ১২ হাজার মানুষ। গতকাল শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এই ছিল করোনা পরিস্থিতির ওপর নজরদারি রাখা বিশ^ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য।

এদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়ালেও দেশটির জর্জিয়া, ওকলাহোমাসহ বেশ কিছু অঙ্গরাজ্যে দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অনুমোদন ছাড়াই গত শুক্রবার থেকে এসব রাজ্যে জিম, সেলুন ও ট্যাটু পার্লারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সতর্কতা উপেক্ষা করেই জর্জিয়ার গভর্নর ব্রায়ান ক্যাম্প এসব খোলার অনুমতি দেন। লকডাউন শিথিলতা রাজ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই ঘটনা ঘটেছে ওকলাহোমা ও ফ্লোরিডায়। আগামীকাল সোমবার থেকে সাউথ ক্যারোলিনা এবং পরে অন্যান্য রাজ্যেও ঘরে থাকার নির্দেশ শিথিল করা হবে। এর আগে লকডাউনের নির্দেশনার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেমোক্রেট গভর্নর শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোর বিরোধিতা এবং রিপাবলিকান গভর্নর শাসিত অঙ্গরাজ্যের সিদ্ধান্তে সমর্থন জোগান। সর্বশেষ জরিপে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ লাখ ২৬ হাজার এবং মৃতের সংখ্যা ৫২ হাজারের বেশি। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার, মারা গেছেন সাড়ে ২২ হাজার।

অন্যদিকে নিউইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো বলেছেন, করোনা ভাইরাস নিউইয়র্কে ঢুকেছে ইউরোপ থেকে, চীন থেকে নয়। সেখানে প্রথম আক্রান্ত শনাক্ত হয় ১ মার্চ, কিন্তু গবেষণার হিসাব বলছে এই সময়ের মধ্যেই নিউইয়র্কের ১০ হাজারের বেশি বাসিন্দা সম্ভবত ভাইরাসে আক্রান্ত হন। কুওমোর ধারণা, তার অঙ্গরাজ্যে ছড়ানো ভাইরাসের উৎস ইতালি হতে পারে।

তিনি বলেন, চীনের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আমরা সামনের দরজাটি বন্ধ করেছিলাম ঠিকই। কিন্তু আমরা পেছনের দরজাটা খোলা রাখি। নিউইয়র্কে প্রথম শনাক্ত ও গভর্নরের লকডাউন নির্দেশের মধ্যে ১৯ দিনের ব্যবধান ছিল। তিনি বলেন, দুই মাসে ইউরোপ থেকে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিমানবন্দরগুলোতে উড়োজাহাজে চেপে ২২ লাখ লোক এসেছে এবং তাদের অনেকেই হয়তো কোভিড-১৯ এর ভাইরাস বহন করছিলেন।

অন্যদিকে ইউরোপে লকডাউন তোলার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে জার্মানি ও পোল্যান্ড সীমান্তে। পোল্যান্ডের স্করজেলেক ও জার্মানির গরলিৎজ শহরের মাঝামাঝি থাকা একটি ফুটওভার ব্রিজের দুই পাশে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এ বিক্ষোভ হয়। সীমান্ত বন্ধের আগে এ দুটি শহর কার্যত এক শহরের মতোই কাজ করত। স্করজেলেকের অসংখ্য অধিবাসী গরলিৎজে চাকরি করেন। লকডাউনের কারণে জীবিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ক্ষোভ জানান।

এদিকে লকডাউন বহাল রেখেই কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে উপমহাদেশের ভারত ও পাকিস্তান। ভারতে গতকাল শনিবার থেকে আবাসিক এলাকায় ছোট ছোট দোকানপাট খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে সংক্রমণের হটস্পট বলে বিবেচিত এলাকাগুলো এ নির্দেশের বাইরে থাকবে। মদ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় নয়, এমন বেশিরভাগ জিনিসের বিক্রি আগের মতোই বন্ধ থাকবে। যেসব দোকানপাট খোলা যাবে, সেখানে আগের তুলনায় ৫০ শতাংশের বেশি কর্মী থাকতে পারবে না। কর্মীদের অবশ্যই মাস্ক ও গøাভস পরতে হবে এবং সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মানতে হবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj