চন্দনাইশে করোনা আক্রান্ত ১০ মাসের শিশু!

রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

চট্টগ্রাম অফিস ও চন্দনাইশ প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের চন্দনাইশে দুগ্ধপোষ্য ১০ মাস বয়সী শিশুও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত চিকিৎসকরা। শুধু চট্টগ্রামই নয়, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এই শিশুটিই সর্বকনিষ্ঠ করোনা আক্রান্ত শিশু। এই শিশুটির মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন বা পাড়া-প্রতিবেশী কোনো ব্যক্তির করোনায় আক্রান্ত হওয়ার রেকর্ড নেই। তবে কখন, কোথায়, কীভাবে শিশুটির শরীরে করোনা সংক্রমিত হয়েছে ? পরিবারের সদস্যদের থেকে শিশুটির শরীরে ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে কিনা? যে হাসপাতালগুলোতে শিশুটি চিকিৎসাধীন ছিল, সেখান থেকে সংক্রমণ ঘটেছে কিনা? নাকি যাতায়াতের সময় গণপরিবহনের সংস্পর্শ থেকে তার মধ্যে ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে- এ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

প্রসঙ্গত, গত ২১ এপ্রিল চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ৩নং পূর্ব জোয়ারা মোবারক খলিফা বাড়ির এক শিশুর শরীরে করোনা সংক্রমণের দুঃসংবাদ আসে। এই পর্যন্ত চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে আবিদ নামে এই ১০ মাস বয়সী শিশুটিই সর্বকনিষ্ঠ আক্রান্ত শিশু। এর আগে পটিয়া উপজেলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুর দেহে করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে নিউমোনিয়াজনিত অসুস্থতার জন্য শিশুটিকে তার পরিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে একটু সুস্থ বোধ করলে গত ১২ এপ্রিল তাকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তবে বাড়িতে নিয়ে আসার দুইদিন পর গত ১৪ এপ্রিল শিশুটির আবার শ^াসকষ্ট শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে তার পরিবার তাকে চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে তাকে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসায় তার অবস্থা স্বাভাবিক হলে তাকে আবার পূর্ব জোয়ারার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বাড়িতে আনার দুই দিন পর গত ১৭ এপ্রিল শিশুটির আবার জ্বর ও শ^াসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তার শরীর থেকে নমুনা নিয়ে বিআইটিআইডিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। গত ২১ এপ্রিল বিআইটিআইডির রিপোর্টে ওই শিশুর শরীরে করোনা ভাইরাস পজিটিভ ধরা পড়ে। চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে শিশুটিকে আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে শিশুটি আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে আক্রান্ত শিশুটি কমিউনিটি সংক্রমণের শিকার বলে মনে করেন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, আক্রান্ত শিশুটি বর্তমানে ভালো আছে। তবে শিশুটির নিউমোনিয়া দেখা দিলে তাকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আবার গণপরিবহনে করে তাকে হাসপাতালে আনা-নেয়া করা হয়েছে। তার পরিবারের কারো করোনা আক্রান্তের রেকর্ড আপাতত নেই। তবে আমরা শিশুটির মায়ের নমুনাও সংগ্রহ করেছি। হয়তো কমিউনিটি সংক্রমণের মাধ্যমে শিশুটি আক্রান্ত হতে পারে বলে আমার ধারণা।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ ভোরের কাগজকে জানান, ‘করোনা আক্রান্ত শিশুটিকে আলাদাভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শিশুটির সঙ্গে তার মা রয়েছেন। সংক্রমণ না ঘটার জন্য শিশুটির মাকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী দেয়া হয়েছে।

শেষ পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj