বেতনের টাকায় ধান শ্রমিকদের খাবার দিলেন জুড়ীর ইউএনও

রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

সাইফুল ইসলাম সুমন, জুড়ী (মৌলভীবাজার) থেকে : হাকালুকি হাওরে বোরো ধান কাটায় নিয়োজিত ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিককে খাবার খাইয়েছেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অসীম চন্দ্র বণিক। ধান কাটার কাজে শ্রমিকদের উৎসাহ দিতে নিজের বেতনের টাকায় তিনি এ উদ্যোগ নেন।

শুক্রবার সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের নয়াগ্রাম এলাকার পাশ ঘেঁষে হাকালুকি হাওরের বিস্তীর্ণ বোরো ধানের আবাদ। বেশির ভাগ জমির ধান পাকতে শুরু করেছে। বৃষ্টিতে ভিজে শ্রমিকরা ধান কাটছেন। কেউ কেউ ধানের আঁটি কাঁধে নিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন। হাওরের প্রবেশপথে কয়েকজন যুবক ঠেলাগাড়িতে করে রান্না করা খাবার নিয়ে হাজির হন। তারা শ্রমিকদের ডেকে হাতে থালা ধরিয়ে তাতে খিচুড়ি ও ডিম তুলে দেন। শ্রমিকরা কাঁচা রাস্তার দুই পাশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়ে-বসে খাবার খান।

এ সময় সেখানে ইউএনও অসীম চন্দ্র বণিক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ওমর ফারুক, জায়ফরনগর ইউপি চেয়ারম্যান মাছুম রেজা, ইউপি সদস্য জমির আলী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল ভূঁইয়াসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, মূলত ধান কাটার কাজে শ্রমিকদের উদ্বুদ্ধ করতেই এ উদ্যোগ নিয়েছি। ৪০০-৫০০ শ্রমিকের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ত্রাণও দেয়া হবে। শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।

ইউএনও জানান, এবার হাওরে ধানের ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা শঙ্কায় আছেন। অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে অতীতে কয়েকবার এ হাওরের ফসল নষ্ট হয়েছে। এবার আগেভাগে ফসল ঘরে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় কর্মহীন লোকজনকে ধান কাটার কাজে নামতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এখন আর শ্রমিক সংকট নেই। এ মাসের মধ্যেই হাওরের সব ধান কৃষকদের ঘরে উঠে যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ধান কাটার স্থানীয় শ্রমিকরা বলেন, কৃষকরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সুবিধা পান। কিন্তু কৃষি শ্রমিকরা মজুরি ছাড়া কিছুই পান না। ইউএনও ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়ে আমাদের খাওয়ালেন।

সারাদেশ'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj