ইলিশ রক্ষায় জাটকা সংরক্ষণ

রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

অপেক্ষার পর হাসি ফুটে উপক‚লীয় জেলেদের মুখে। সাগরে ধরা পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। ইলিশ ধরাকে কেন্দ্র করে জেলে পরিবারে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। ভাগ্য বদলে যায় জেলেদের। কিন্তু ভাগ্য বদলের জন্য কিছুটা নিয়ন্ত্রণও দরকার। করোনার প্রভাবে নদীগুলোতে জাটকা সংরক্ষণ ও নিধনরোধে কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের ঢিলেঢালা অভিযান চলছে। আর এই সুযোগে কতিপয় অসাধু জেলে দেদার জাটকা ইলিশ ধরে বাজারে বিক্রি করছে। ইদানীং রাজধানীর বাজারগুলো জাটকায় সয়লাব দেখা গেছে। দেশে এখন জাটকা সংরক্ষণের সময় চলছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা বা আহরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে সরকার। জেলেদের জাটকা আহরণে বিরত রাখতে সারাদেশে তালিকাভুক্ত মোট ৩ লাখ ১ হাজার ২৮৮টি জেলে পরিবারকে প্রতি মাসে ৪০ কেজি হারে চাল সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আগামী দুই মাস এ সহায়তা পাবেন তারা। এ তালিকার বাইরে থাকা জেলেরাও পাচ্ছেন এই সহায়তা। এরপরও জাটকা কারা ধরছে? বাজারে বা আসছে কীভাবে- এমন প্রশ্ন সামনে আসছে। এদিকে কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশ বলছে, নদীগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ১১৭টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক ২০টি জাহাজ ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে। যার ফলে অন্যান্যবারের তুলনায় এবারের অভিযান অনেক বেশি শক্ত এবং ফলপ্রসূ। জেলেদের জালে যেটা ধরা পড়ছে সেটা যৎসামান্যই। তাদের এমন বক্তব্যের সঙ্গে বাজারের চিত্র মিল পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনের কঠোর অভিযান না থাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক জাটকা নিধন ও বিক্রি হচ্ছে। জাটকা ধরা নিষেধাজ্ঞা জারির শুরুর প্রথম দুদিনে অভিযান চললেও পরে তা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়ে। এই সুযোগে জেলেরা দলবলে নদীতে নামে জাল নিয়ে। তাদের দাবি, মাঠ পর্যায়ে মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে। নদীগুলোয় প্রশাসনের নজরদারিও নেই। এই সুযোগেই জাটকা ধরার প্রবণতা বেড়েছে। এভাবে জাটকা নিধন হলে ভরা মৌসুমে কাক্সিক্ষত ইলিশ পাওয়া কঠিন হবে। ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের আওতায় ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাসহ সারাদেশে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার আইন জারি করেছে। এই সময়ে ছোট ইলিশ মাছ রক্ষা অবশ্যই জরুরি একটি পদক্ষেপ। এ ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপের প্রয়োজন রয়েছে। আমরা মনে করি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল দেশের উপক‚লীয় এলাকার কয়েক লাখ জেলের জন্য বিকল্প আয়ের বা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা খুবই দরকার। এছাড়া দরকার এ ব্যাপারে গণসচেতনতা তৈরি করা; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মানুষের নজরদারি নিশ্চিত করা। এখন প্রস্তুতিমূলক এ কাজগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেয়া উচিত। জাটকা রক্ষার পদক্ষেপ পুরোপুরি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে রুপালি ইলিশের সুদিন আমাদের হাতছাড়া হবে না। এর জন্য ইলিশ আহরণকারী, ব্যবসায়ী, ভোক্তা সবার সচেতন ও সংযমী ভূমিকা প্রত্যাশিত।

সম্পাদকীয়'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj