শুরু হলো পবিত্র মাহে রমজান

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২০

** তারাবির নামাজে ১২ জনের বেশি হলে ব্যবস্থা, ইফতার মাহফিলে নিষেধাজ্ঞা **

কাগজ প্রতিবেদক : প্রতি বছরের মতো ফিরে এলো পবিত্র মাহে রমজান। সংযমচর্চার মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধি অর্জন ও মহান আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ লাভের লক্ষ্যে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আজ শনিবার থেকে শুরু করেছেন সিয়াম সাধনা। মুসলিম উম্মাহর এই গুরুত্বপূর্ণ মাসটি এবার পালিত হতে চলেছে করোনা আক্রান্ত বিশ্বের এক ভয়াবহ লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যে। মরণব্যাধি এই ভাইরাসের কারণে সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে নিজ বাসায় ইফতার ও তারাবির নামাজ আদায়ের অনুরোধ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশের আকাশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়। একই দিন সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় ধর্মসচিব নুরুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক এ ঘোষণা দেন। সৌদি আরবসহ বিশে^র অনেক দেশে গতকাল শুক্রবার থেকেই রমজান মাস শুরু হয়েছে।

এদিকে পবিত্র রমজান উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেছেন, বছরঘুরে আমাদের মাঝে সমাগত বরকতময় মাহে রমজানে মহান আল্লাহর নৈকট্য এবং তাকওয়া অর্জনের অপূর্ব সুযোগ এনে দেয়। সিয়াম ধনী-গরিব সবার মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। বিশ^ব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণে সৃষ্ট মহামারির ফলে এ বছর পবিত্র রমজান মাস ভিন্ন প্রেক্ষাপটে পালিত হবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে রমজান মাসে নিজ ঘরে ইবাদত বন্দেগী করার পাশাপাশি সমাজের সচ্ছল জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এছাড়া পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের, জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

তারাবির নামাজে ১২ জনের বেশি হলে ব্যবস্থা : পবিত্র রমজান মাসে মসজিদে এশার জামাত ও তারাবির নামাজের বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব, খাদেম ও ২ জন হাফেজসহ সর্বোচ্চ ১২ জন অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে জানায়। এছাড়া বাকিরা নিজ ঘরে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদত বন্দেগীর মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করবেন। প্রত্যেকের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করার স্বার্থে মাহে রমজান উপলক্ষে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইফতার মাহফিলের আয়োজন বা জোগান করতে পারবেন না। সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবে। করোনা সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদ পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। গতকাল ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা মহামারি আকার ধারণ করায় বাংলাদেশে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম জনসাধারণকে মসজিদে প্রতি ওয়াক্ত নামাজে সর্বোচ্চ ৫ জন এবং জুমার নামাজে সর্বোচ্চ ১০ জন মুসল্লির উপস্থিতিতে নামাজ আদায় করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে গত ৬ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। আগের বিজ্ঞপ্তির ধারাবাহিকতায় নতুন এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

পবিত্র রমজানে দিনের বেলা পানাহার থেকে বিরত থাকা ছাড়াও জাগতিক মোহ, কাম, ক্রোধ, লোভ-লালসা দমন করে আত্মশুদ্ধির সাধনা চলবে পুরো মাসজুড়ে। রোজা রাখার পাশাপাশি সাধ্যমতো দান-খয়রাত ও বেশি বেশি নফল ইবাদতের মধ্য দিয়ে ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই মাসের দিনগুলো অতিবাহিত করবেন মুসল্লিরা। রহমত ও বরকতের দিক দিয়ে রমজান মাস বছরের অন্য ১১ মাস থেকে ভিন্ন। এ সম্পর্কে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, রমজান মাসের প্রথমাংশে রহমত, দ্বিতীয়াংশে মাগফিরাত অর্থাৎ ক্ষমা আর তৃতীয়াংশে নাজাত তথা দোজখ থেকে মুক্তি।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj