জগৎজুড়ে বইছে আল্লাহর করুণাধারা

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২০

মহান ¯্রষ্টা আল্লাহ পাকের করুণা, ক্ষমা ও মুক্তির সওগাত নিয়ে বছর ঘুরে ফিরে এলো পবিত্র রোজার মাস। রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতির শুভ বার্তা নিয়ে প্রতি বছর আসে রোজার মহিমান্বিত একটি মাস। বর্তমান বৈশ্বিক মহামারি করোনার অভিঘাতে বিশ্ববাসী যখন চিড়েচ্যাপ্টা তখনই আল্লাহপাকের অফুরন্ত করুণার আমেজ ছড়িয়ে দুয়ারে এলো মাহে রমজান। বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি ঈমানদার জনতা আজ ঈমানি চেতনা ও উদ্দীপনায় জেগে উঠেছে। রোজার মাসটি অন্য মাসের চেয়ে আলাদা ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির মোক্ষম সুযোগ এনে দেয় রোজার মাসটি। কৃচ্ছ্রতা ও সংযম সাধনার মাস রোজা। আত্মশুদ্ধির চেতনায় জেগে ওঠার প্রেরণা জোগায় মাহে রমজান। বছরের অন্য এগারোটি মাসের চেয়ে ব্যতিক্রমী এবং আলাদা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ রোজার মাস এলে ঈমানদার জনতার মাঝে খুশির আমেজ বয়ে যায়। রোজা মানে নির্দিষ্ট নিয়মে উপবাসব্রত পালন, কামাচার বর্জন এবং সব ধরনের পাপাচার ও অনাচারের হাতছানি থেকে বেঁচে থাকা। সুবহে সাদেক (রাতের শেষ প্রহর) থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কামাচার বর্জন এবং পানাহার পরিত্যাগই রোজার বিধান। সারা বছর অনিয়ন্ত্রিত খেয়ে দেয়ে যে শরীর মেদবহুল ও হৃষ্টপুষ্ট হয়ে ওঠে, রোজার মাসে মাসব্যাপী সংযম সাধনার মাধ্যমে শরীর সতেজ ও নির্মল হয়। বছর জুড়ে বাড়তি খাবার-দাবারের কারণে যে শরীরে মেদ ও চর্বি জমে যায়, রোজার উপবাসব্রত ও সংযম সাধনার দ্বারা তা নিমিষেই দূরীভূত হয়। রোজা তাই স্বাস্থ্যবান্ধব ও জীবনমুখী একটি ধর্মীয় বিধান। যা ইসলামী শরিয়তে ফরজ বা আবশ্যকীয় ইবাদত হিসেবে গণ্য।

কুরআন মজিদে আল্লাহপাক বলেন, ‘ফামান শাহিদা মিনকুমুশ শাহরা ফাল্ইয়াসুম্হু’- অর্থাৎ যে রোজার মাস পাবে, সে যেন এই মাসে রোজা রাখে। প্রত্যেক সুস্থ এবং প্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিম নর-নারীর ওপর রোজা রাখা ফরজ। তবে জটিল কঠিন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে রোজা না রাখার অবকাশ দেয়া হলেও শর্তসাপেক্ষে ভিন্ন কায়দায় রোজার কাজা আদায় করতে হবে। ঠুনকো অজুহাতে রোজা না রাখার অনুমতি নেই। বরং স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সুস্থতা এবং নিরোগ থাকার জন্যই রোজা রাখা জরুরি। রোজার বিধান অবশ্যই জীবনমুখী এবং স্বাস্থ্যবান্ধব তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে বিস্ময়কর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে রোজায়। স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরোগ জীবনযাপনের জন্য রোজা বিশেষ প্রতিষেধক বা ঢালস্বরূপ বলে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা নানাভাবে বলে আসছেন।

রোজার মাসে প্রতিদিন এশার নামাজের সঙ্গে বিশ রাকাত তারাবির নামাজ পড়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। যা অবশ্যই প্রতিদিন পড়তে হবে। আর পুরো রমজানে তারাবির নামাজে কুরআন শরিফ খতম করাও সুন্নাত। তবে তা জরুরি নয়। এবার বৈশ্বিক ও দেশিয় করোনার অভিঘাত বিবেচনায় এনে মসজিদে না গিয়ে ঘরে বসে তারাবির নামাজ আদায়ের পরামর্শ দিয়েছেন হক্কানি আলেম সমাজ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ঘরে বসে তারাবির নামাজ পড়ার অনুরোধ জানিয়েছেন মুসল্লিদের প্রতি। তা মানা উচিত সবার।

রোজার মাস এলে সংযম ও আত্মশুদ্ধির কথা খুব বেশি উচ্চারিত হয়। তা প্রাসঙ্গিকও বটে। রিপুর নিয়ন্ত্রণ এবং শুদ্ধাচারি জীবনযাপনই রোজার আবেদন ও শিক্ষা। তবে আমাদের দেশে রোজার মাসে সংযমের কথা খুব বেশি বলা হলেও অনেক অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে রোজার মাস যেন টাকার পাহাড় গড়ার মৌসুম। চুটিয়ে ব্যবসা করে ভোক্তাদের ঠকিয়ে অবাধে টাকা কামানোর মোক্ষম সুযোগ যেন রোজার এই মাস। এই মাসে ত্রিশ টাকার বেগুন এক লাফে শত টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। কাঁচা মরিচের কেজির দাম বেড়ে ২/৩শ টাকায় গিয়ে ঠেকে। সাধারণ গরিব মানুষের ত্রাণের চাল নিয়ে সারা দেশে চলছে হরিলুট। পুকুরে এবং মাটি খুঁড়ে মিলছে শত শত ত্রাণ চালের বস্তা। গরিব মারার এ কেমন আয়োজন? এই কী আমাদের সংযমের নমুনা! ব্যবসার নামে ঢালাও লুণ্ঠন আর দস্যুবৃত্তি চলে রোজার মাসটিতে। যা রোজার সংযমের শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অথচ প্রিয় নবী (দ.) ঘোষণা দিয়েছেন- ব্যবসা হচ্ছে সুন্নাত। হালাল ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদে অশেষ বরকত রয়েছে। সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য পরকালে বিশেষ পুরস্কারের সুসংবাদ রয়েছে। তাঁদের হাশর হবে প্রিয় নবীর (দ.) সঙ্গে।

আ ব ম খোরশিদ আলম খান
লেখক : সাংবাদিক, ইসলামী চিন্তাবিদ।

মুক্তচিন্তা'র আরও সংবাদ
আ ব ম খোরশিদ আলম খান

ঘরে বসে তারাবিহ্র নামাজ পড়ুন

ড. এম জি. নিয়োগী

ধান ব্যাংক

মযহারুল ইসলাম বাবলা

করোনার নির্মমতার ভেতর-বাহির

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী

শিক্ষা খাতে প্রণোদনা প্যাকেজ প্রয়োজন

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

করোনা যুদ্ধে জয়ী হওয়া

অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী

করোনা ভাইরাস এবং আমাদের যতœ

Bhorerkagoj