রাজধানীতে বাড়ছে সংক্রমণের তীব্রতা : ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪১৪, ঢাকায় ২১৩

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য : দুদিন কমে ফের বাড়ল সংক্রমণ। এর ফলে নতুন নতুন এলাকা থেকে আক্রান্তের খবর আসছে। আগে থেকে যেখানে অর্থাৎ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ আক্রান্তের আতুড়ঘর ছিল, সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া করোনার রোগীর সংখ্যা আরো বেড়েছে। রোগী বেড়েছে গাজীপুর, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ নানা জেলায়। সবমিলিয়ে দেশজুড়ে রোগী বেড়েছে ৪১৪ জন। এর মধ্যে কেবল ঢাকা মহানগরেই বেড়েছে ২১৩ জন। সংক্রমণের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েই চলছে। বিশেষ করে ঢাকায় যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, সেই পরিসংখ্যান নিয়েই মানুষের উদ্বেগ।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ২৮ দিন ধরে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জেলায় জেলায় লকডাউন করেছে প্রশাসন। তবু এই এক মাসে দেশজুড়ে করোনা রোগী বেড়েছে। এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন আদেশ জারি করে সীমিত আকারে অফিস চালু রাখার কথা জানিয়েছে সরকার। সপ্তাহে দুদিন আদালতের কাজও চলবে। দেশের অর্থনীতিকে কিছুটা চাঙ্গা করতে গিয়ে এমন পদক্ষেপ নেয়া হলেও পরবর্তী দিনগুলোতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে কিনা তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এসব উদ্বেগের মধ্যেই গতকাল দুপুরে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে ২১-৩০ বছর বয়সের তরুণদের সংখ্যাই বেশি, ২৪ শতাংশ। তিনি বলেন, দেশে করোনা ভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ ঘটেছে। যখন কোথাও সংক্রমণ ঘটলে এর উৎস জানা যায় না বা আক্রান্ত ব্যক্তি কীভাবে সংক্রমিত হলেন তা বোঝা যায় না, তখন সে অবস্থাকে সামাজিক সংক্রমণ বলে। দেশ এখন সংক্রমণের তৃতীয় ধাপে রয়েছে। তিনি বলেন, এক মাস আগের চিত্র আর পরের চিত্র দেখলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের তীব্রতা বোঝা যায়। সে জন্য ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই।

দেশে আরো ৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৪১৪ : দেশে করোনা ভাইরাসে গত বুধবার থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৪১৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪১৪ জনের নমুনায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর ফলে গত ৪৫ দিনে দেশে করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো মোট ৪ হাজার ১৮৬। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরো ৭ জন। মৃতদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ এবং ২ জন নারী। এরা সবাই ঢাকা জেলার বাসিন্দা। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ১২৭-এ পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩ হাজার ৯২১টি নমুনা সংগ্রহ হয়েছিল এবং ৩ হাজার ৪১৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ আগের দিনের তুলনায় ২৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং নমুনা পরীক্ষা ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত করোনার নমুনার পরীক্ষা হয়েছে ৩৬ হাজার ৯০টি। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছন ১০৮ জন। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ৪৫ দিনে দেশের অবস্থান ইউরোপ-আমেরিকার চেয়ে অনেক ভালো।

ঢাকার ১০ এলাকার অবস্থা ভয়াবহ : গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকা মহানগরীতেই রোগী বেড়েছে ২১৩ জন। গত বুধবার যেখানে ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক হাজার ৪৭০, সেখানে গতকাল তা বেড়ে হয়েছে ১৬৮৩ জন। সবমিলিয়ে ঢাকার ১৪৫ এলাকায় করোনার রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০টি এলাকায় সর্বাধিক রোগী আছেন। সবচেয়ে বেশি রোগী রাজারবাগে। এরপরই ক্রমান্বয়ে মোহাম্মদপুর, লালবাগ, যাত্রাবাড়ী, বংশাল, চকবাজার, মিরপুর, উত্তরা, তেজগাঁও ও মহাখালীতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এরপরই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। সেখানে গত বুধবার ছিল ৫০৮ আর গতকাল ২৪ জন বেড়ে হয়েছে ৫৩২। গাজীপুরে বুধবার রোগীর সংখ্যা ছিল ২৬৯, গতকাল সেখানে ২৩ জন বেড়ে হয়েছে ২৯২, একইভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জে ২৪ জন বেড়ে হয়েছে ১৭৯ এবং নরসিংদীতে ৫ জন বেড়ে হয়েছে ১৪১ জন।

ঢাকা মেডিকেলের একাংশ করোনার জন্য নির্ধারণ অবৈজ্ঞানিক : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটির চিকিৎসকরা বলেছেন, হাসপাতালের একটি অংশকে করোনা রোগীর জন্য নির্ধারণ করাটা অবৈজ্ঞানিক। তারা জানালেন, দেশের চিকিৎসাসেবার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল ঢাকা মেডিকেল। সরকারের এই নির্দেশনায় তাদের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া গোটা ঢাকা মেডিকেলেই করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাদের মতে, করোনা আক্রান্তরা অন্য রোগীদের মতো নন। ঢাকা মেডিকেলে এমনিতেই ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী থাকে। তার ওপর মুগদা ও তাজউদ্দীন হাসপাতালের সব রোগীকে আনা হচ্ছে সেখানে। এছাড়া জরুরি বিভাগের দুপাশে রয়েছে করোনার জন্য নির্ধারিত দুটি ভবন। যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে কয়েকগুণ, যা ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো হাসপাতালে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj