সিপিডির ভার্চুয়াল আলোচনায় অভিমত : করোনার পর পোশাক রপ্তানি বাড়তে পারে

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

কাগজ প্রতিবেদক : যদিও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সাময়িক টানাপোড়েন চলছে, কিন্তু তাতে করে এই দুই দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না। বর্তমানে রপ্তানি খাতে যে স্থিতাবস্থা বিরাজ করছে, করোনা পরবর্তী সময়ে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। বর্তমানে রপ্তানি খাতে স্থিতাবস্থা কাটিয়ে উঠে ভবিষ্যতে ব্যবসার সুযোগ ধরে রাখার প্রতি উদ্যোক্তাদের মনোযোগী হতে হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির সপ্তম বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘কোভিড-১৯: সংকটের মুখে শ্রমিক ও মালিক-সরকারি উদ্যোগ ও করণীয়’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানে এসব পরামর্শ উঠে আসে। ফ্রেডরিখ-ইবার্ট-স্টিফটাং (এফইএস), বাংলাদেশ অফিসের সহযোগিতায় এ ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। আলোচনাটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

আলোচক ছিলেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি আরশাদ জামাল দীপু, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের (এনজিডব্লিউএফ) সভাপতি আমিরুল হক আমিন, এফবিসিসিআইর সাবেক সহসভাপতি ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন, শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে নাজমা আক্তার, জলি তালুকদার, বাবুল আক্তার ও তাসলিমা আক্তার প্রমুখ।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, চলমান মহামারির কারণে রপ্তানি আয়ের উপরে যে প্রতিঘাত পড়েছে তার ফলে শ্রমিকদের জীবন মানের ওপর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক সংগঠন ও শ্রমিকদের মাঝে যথাযথ সমন্বয় প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেরিতে বেতন পরিশোধ, পূর্ণাঙ্গ বেতন না হওয়া, শ্রমিক ছাঁটাই এবং লকডাউনের সময়ে কারখানা খোলা রেখে শ্রমিকদের কাজে বাধ্য করার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এসবের ফলে শ্রমিকরা ও তাদের পরিবার এ দুর্যোগের মাঝে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কারখানাগুলোতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। রানা প্লাজার ঘটনা বিবেচনায় রেখে দেশের কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের জন্য দুর্যোগকালীন সেবার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

করোনার কারণে ইউরোপের ব্যবসা চীন থেকে সরে বাংলাদেশ আসতে পারে কিনা- এমন প্রশ্নে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ^ বাজারে কী পরিবর্তন হয়, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন যুক্তরাষ্টের সঙ্গে চীনের সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। ইউরোপের অনেক দেশ করোনার জন্য চীনকে দায়ী করছে। কিন্তু ব্যবসার সম্পর্কটা একটু অন্যরকম। অনুযোগ, অভিযোগের কারণে ব্যবসার সম্পর্কে খুব একটা প্রভাব ফেলে না। যেখানে বেশি লাভ হবে, ব্যবসায়ীরা সেখানে যাবে। সুতরাং চীন থেকে সরে ব্যবসায়ীরা অন্য কোথাও যাবে বলে আমার মনে হয় না। তিনি বলেন, আমি মনে করি, আমরা যদি পলিসিগুলো (নীতি-নির্ধারণ) ঠিকমতো নেই, আমাদের উদ্যোক্তা, শ্রমিকরা যদি টিকে থাকেন, তাহলে করোনা পরবর্তী সময় আমাদের একটি সুযোগ সৃষ্টি হবে। সুতরাং সাময়িক বিপর্যয় কীভাবে কাটানো যায়, সবাই মিলে সেই চিন্তা করতে হবে। যদি আমরা এটা ঠিকভাবে করতে পারি, তাহলে করোনা-পরবর্তী সময় বাংলাদেশ তার সক্ষমতা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj