অনুমোদন মেলেনি হুর : প্লাজমা-থেরাপি উপশম করবে করোনা!

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

কাগজ ডেস্ক : কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় ব্রিটেন-আমেরিকাসহ অনেক দেশেই প্লাজমা-থেরাপি প্রয়োগের বিষয়টি উচ্চারিত হচ্ছে জোরেশোরে। বিশেষজ্ঞ মতানুসারে, হাইপার-ইমিউন বা কোনভেলিসেন্ট প্লাজমা হচ্ছে সদ্য কোভিড-১৯ আক্রান্ত-পরবর্তী সুস্থ ব্যক্তির রক্তের প্লাজমা। এই প্লাজমায় প্রচুর নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি থাকে। এসব অ্যান্টিবডি অতিদ্রুত করোনা ভাইরাসকে অকার্যকর করে দিতে পারে। এজন্য আক্রান্ত-পরবর্তী সুস্থ ব্যক্তির রক্তের প্লাজমা অংশটি সংগ্রহ করে ফ্রিজিং করে রাখতে হবে। করোনা-আক্রান্তদের মধ্যে যাদের অবস্থা খারাপের দিকে তাদের শরীরে এই প্লাজমা প্রয়োগ করা হবে। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে একদল চিকিৎসক এই পদ্ধতির ব্যবহার নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে করোনা ভাইরাসের রোগীদের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্লাজমা-থেরাপি’ প্রয়োগও করা হবে বলে জানা গেছে। যদিও পরীক্ষায় কার্যকর প্রমাণিত না হওয়ায় বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এই চিকিৎসা পদ্ধতির বিষয়ে এখনো কোনো ধরনের অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

রক্তের তরল, হালকা হলুদাভ অংশকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে। তিন ধরনের কণিকা ছাড়া রক্তের বাকি অংশই রক্তরস। মেরুদণ্ডী প্রাণীর শরীরের রক্তের প্রায় ৫৫ শতাংশই এই প্লাজমা। চিকিৎসকরা বলছেন, কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের নিজস্ব রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই ভাইরাস মোকাবিলা করে টিকে থাকতে অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এই অ্যান্টিবডি করোনা ভাইরাসকে আক্রমণ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির প্লাজমায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। ওই অ্যান্টিবডিই নতুন অসুস্থদের সারিয়ে তোলার জন্য ব্যবহার হবে। গত ৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় পরীক্ষামূলকভাবে প্লাজমা-থেরাপি প্রয়োগের সুপারিশ করে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ খান বলেন, এই পরীক্ষার জন্য প্লাজমায় অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পরীক্ষা করতে হবে। প্লাজমায় অ্যান্টিবডির পরিমাণ যদি ভালো থাকে তাহলে কাজটা ভালো হবে। কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার পরও তার অন্য কোনো রোগ আছে কিনা, তাও আগে পরীক্ষা করে নিতে হবে। কোনো রোগ না থাকলে তার প্লাজমা নেয়া যাবে। যদি কিছু মানুষের উপকারে আসে সেটাই হবে প্রাপ্তি। কারণ এই রোগের কোনো ভ্যাকসিন নেই। কোনো চিকিৎসা নেই। এখন পর্যন্ত প্লাজমা-থেরাপির কথাই বিভিন্ন দেশে বলা হচ্ছে। এটাতে অন্তত রোগীর কোনো ক্ষতি হবে না। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের রোগী দিন দিনই বাড়ছে। কোভিড-১৯ হওয়ার পর জ্বর, কাশি ও গলাব্যথা শুরু হয়। ভাইরাসের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং ফুসফুস আক্রমণ করে। এই প্রদাহকালীন নানা ধরনের সাইটোকাইন এবং ক্যামোকাইন বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হয়ে ফুসফুস জ্বালা করে। যন্ত্রণা তাৎক্ষণিকভাবে লাঘব করতে পারে প্লাজমা। এদিকে বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১২০ জন। সেরে উঠেছেন ৯২ জন।

প্রথম পাতা'র আরও সংবাদ
Bhorerkagoj